পবিত্র রমজানে যাতে রোজার কোনো পণ্যের সংকট না হয়, সে জন্য এসব পণ্যের ঋণপত্র খোলার ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোকে উদ্যোগী হতে বলেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনীয় সব সহায়তা দেবে। গতকাল রোববার ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের (এমডি) সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়মিত ব্যাংকার্স সভায় এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার।
সভা সূত্রে জানা গেছে, ব্যাংক খাতের শৃঙ্খলা ফেরাতে সব ধরনের নিয়মকানুন মেনে ব্যাংকগুলোকে ঋণ বিতরণের নির্দেশ দিয়েছেন গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার। গভর্নর ব্যাংকারদের বলেছেন, পরিচালনা পর্ষদ কোনো ঋণ দিতে বাধ্য করলে তা যেন বাংলাদেশ ব্যাংককে জানানো হয়। প্রয়োজনে নিজের নাম–পরিচয় গোপন রেখে এ ধরনের তথ্য জানাতে বলেছেন গভর্নর। সভায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর, সংশ্লিষ্ট নির্বাহী পরিচালক ও বিভিন্ন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকেরা উপস্থিত ছিলেন।
বৈদেশিক বাণিজ্য ও ডলার
ব্যাংকার্স সভায় জানানো হয়, পবিত্র রমজান আসন্ন। তাই রোজার সময় চিনি, ছোলা, ডাল, তেলের যাতে কোনো ঘাটতি না হয়, সে জন্য ব্যাংকগুলোকে উদ্যোগ নিতে হবে। ব্যবসায়ীরা যাতে এসব পণ্যের ঋণপত্র খুলতে সমস্যায় না পড়েন, সেদিকে এমডিদের নজর রাখতে বলা হয়। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনীয় নীতিসহায়তা দেবে বলেও জানানো হয় সভায়।
সভা সূত্রে জানা গেছে, সভায় ডলার–সংকট প্রসঙ্গে গভর্নর বলেন, কোনো কোনো ব্যাংক বেশি দামে প্রবাসী আয় আনছে। এরপর কেউ বেশি দামে ডলার কিনলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যদি বিদেশি দায় পরিশোধে কোনো ব্যাংক ব্যর্থ হয়, তাহলেও বেশি দামে ডলার না কিনে বাংলাদেশ ব্যাংকের দ্বারস্থ হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
ব্যাংকার্স সভা নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র মেজবাউল হক বলেন, মাহে রমজানে চিনি, ছোলা, ডাল, তেলের ঋণপত্র খুলতে যাতে ব্যবসায়ীরা সমস্যায় না পড়েন, সে জন্য প্রয়োজনীয় নীতিসহায়তা দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক। এরই মধ্যে ব্যাংকে ঋণপত্র খোলা কমেছে, চলতি হিসাবের ঘাটতিও কমে আসছে। হুন্ডি কমানোর জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ব্যাংকের তারল্য প্রসঙ্গ
সভা সূত্রে জানা যায়, ব্যাংকের তারল্যসংকটের বিষয়টি উল্লেখ না করে সভায় গভর্নর বলেন, ১০ লাখ টাকার বেশি জমা হলে সিটিআর (নগদ জমা প্রতিবেদন) করতে হয়। এর নিচে কোনো প্রশ্ন করার প্রয়োজন নেই। এখন অনেক ব্যাংক এর কম টাকা জমা করতেও প্রশ্ন করছে। এতে ব্যাংকের বাইরে অনেক টাকা থেকে যাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আহমদ কায়কাউস গত শনিবার রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে বলেন, ব্যাংকে টাকা নেই, এমন কথা ছড়ানো হয়েছে। তাই সাধারণ গ্রাহক আতঙ্কে ব্যাংক থেকে ৫০ হাজার কোটি টাকা তুলে নিয়েছেন। এখন সেই গ্রাহকেরা আবার ব্যাংকে টাকা রাখতে শুরু করেছেন।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র মেজবাউল হক সাংবাদিকদের বলেন, ব্যাংকে গ্রাহকেরা নিয়মিত টাকা জমা করছেন, আবার উত্তোলন করছেন। এটা ব্যাংকের নিয়মিত কাজের অংশ।