গত বুধবার গ্রেপ্তার হওয়া চার কর্মকর্তা হলেন ইসলামী ব্যাংকের ঢাকা উত্তর জোনের প্রধান ও সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. সাইদ উল্লা। ব্যাংকটির এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ও কুমিল্লা জোনের প্রধান শহিদুল্লাহ মজুমদার ও নিরাপত্তা বিভাগের কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন (অব.) হাবিবুর রহমান। অপরজন হলেন ইসলামী ব্যাংকের সাবেক উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) মো. মোশাররফ হোসেন। তিনি গত বছরের জুনে এসআইবিলের প্রধান রেমিট্যান্স কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন।

শীর্য পর্যায়ের চারজন কর্মকর্তা গ্রেপ্তার হলেও গত তিন দিনেও ব্যাংক দুটি আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেয়নি। তবে এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে উদ্বেগ ও অস্বস্তি তৈরি হয়েছে বলে কর্মকর্তাদের অনেকে জানিয়েছেন।

ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) সাবেক চেয়ারম্যান আনিস এ খান প্রথম আলোকে বলেন, কোনো জ্যেষ্ঠ ব্যাংক কর্মকর্তাকে কেবল সন্দেহের ভিত্তিতে আটক করাটা সমীচীন নয়। তার আগে যথাযথ প্রমাণ হাজির করা উচিত।

এস আলম গ্রুপের মালিক ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে পোস্টার লাগিয়ে ও ফেসবুকে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগে ৫ জানুয়ারি গুলশান থানায় যে মামলাটি করা হয়, তাতে আসামি করা হয় তিনজনকে। তাঁরা হলেন ফেনীর মাজহারুল ইসলাম ও লক্ষ্মীপুরের নুরনবী ও গোলাম সারোয়ার। তাঁদের মধ্যে নুরনবী ব্যবসায়ী এবং কয়েকটি ব্যাংকের আলোচিত ঋণখেলাপি। এরপর ৯ জানুয়ারি নুরনবীসহ পাঁচজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। বাকিরা হলেন আফসার উদ্দিন, আবু সাইদ, স্বাধীন মিয়া ও আবদুস সালাম।

সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার চার ব্যাংক কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করে। তাঁদের বিষয়ে জানতে চাইলে মামলার বাদী এস আলম গ্রুপের উপব্যবস্থাপক আবদুল কুদ্দুছ গত রাতে প্রথম আলোকে বলেন, তিনি আসামি হিসেবে এজাহারে তিনজনের নাম উল্লেখ করেছেন। বাকি আসামিদের বিষয়ে পুলিশ বলতে পারবে।

পুলিশের ভাষ্য, আগে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের তথ্যের ভিত্তিতে চার ব্যাংক কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই মামলার তদন্ত তত্ত্বাবধান করছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ। তিনি গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, গ্রেপ্তার ব্যাংক কর্মকর্তারা ব্যাংক সম্পর্কে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্নভাবে গুজব ও মনগড়া তথ্য দিয়ে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছেন। তিনি বলেন, এই চারজনকে রিমান্ডে নেওয়ার জন্য আদালতে আবেদন করা হয়েছে। রিমান্ড মঞ্জুর হলে তাঁদের কারাগার থেকে ডিবি কার্যালয়ে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করে বিস্তারিত বের করা হবে।