এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়ন হলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর মধ্যে একটি আন্ত-আঞ্চলিক লেনদেন নিষ্পত্তিব্যবস্থা। এর মাধ্যমে এশিয়ার ৯ দেশের মধ্যে যেসব আমদানি-রপ্তানি হয়, তা প্রতি দুই মাস পরপর নিষ্পত্তি করা হয়। তবে অন্য দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের লেনদেন তাৎক্ষণিকভাবে নিষ্পন্ন হয়। আকুর সদস্যদেশগুলো হচ্ছে বাংলাদেশ, ভারত, ইরান, নেপাল, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, মিয়ানমার, ভুটান ও মালদ্বীপ। তবে দেনা পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় সম্প্রতি এ তালিকা থেকে বাদ পড়েছে শ্রীলঙ্কা।

রেমিট্যান্স পাঠানো ও গ্রহণে মাশুল মওকুফ

ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান সেলিম আর এফ হোসেন ও বৈদেশিক মুদ্রার ব্যবসা করা ব্যাংকগুলোর সংগঠন বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ ডিলার অ্যাসোসিয়েশনের (বাফেদা) চেয়ারম্যান আফজাল করিম গতকাল ব্যাংকগুলোতে ডলারের দাম নির্ধারণ করে একটি চিঠি দিয়েছেন।

সেখানে বলা হয়েছে, সরাসরি ব্যাংকের মাধ্যমে উচ্চ আয়ের পেশাজীবীদের পাঠানো প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্সের ক্ষেত্রে প্রতি ডলারে ১০৭ টাকা করে দেওয়া যাবে। আর রপ্তানি আয় নগদায়ন করা যাবে ১০০ টাকায়। একই সঙ্গে ব্যাংকগুলোর নিজস্ব এক্সচেঞ্জ হাউসকে আপাতত প্রবাসী আয় আহরণ বাবদ কোনো চার্জ বা মাশুলও না নেওয়ার জন্যও বলা হয় চিঠিতে। পাশাপাশি প্রবাসী আয় গ্রহণের ক্ষেত্রেও মাশুল না নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।

এ নির্দেশনা গতকাল সোমবার থেকেই কার্যকর হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিভিন্ন ব্যাংকের ট্রেজারি বিভাগের কর্মকর্তারা। দেশে যে পরিমাণ প্রবাসী আয় আসে, তার ৯০ শতাংশের বেশি আসে বহুজাতিক এক্সচেঞ্জ হাউসের মাধ্যমে। তাই বিদেশি এক্সচেঞ্জ হাউসের মাধ্যমে কেউ প্রবাসী আয় পাঠালে সে ক্ষেত্রে মাশুল ছাড়ের সুবিধা মিলবে না।

এবিবি ও বাফেদার চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, প্রবাসী আয়ে সরকার ঘোষিত আড়াই শতাংশ প্রণোদনার বাইরে আপাতত বাড়তি কোনো প্রণোদনা দেওয়া যাবে না। প্রবাসী আয় আহরণের সুবিধার্থে ব্যাংকগুলো তাদের নিজস্ব এক্সচেঞ্জ হাউস দেশের সরকারি ছুটির দিনগুলোতেও খোলা রাখতে পারবে। তবে সংশ্লিষ্ট দেশের নিয়মের সঙ্গে সংগতি রেখে সপ্তাহের যেকোনো দিন বন্ধ রাখতে পারে।

আমদানিতে ডলারের দাম নির্ধারণ প্রসঙ্গে চিঠিতে বলা হয়, ব্যাংক প্রবাসী ও রপ্তানি আয় যে দামে কিনবে, তার গড় দামের চেয়ে এক টাকা বেশি দামে আমদানিকারকের কাছে ডলার বিক্রি করবে।

জানা যায়, গতকাল সোমবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠক করে এবিবি ও বাফেদা। এতেই ডলারের নতুন দাম নির্ধারণের সিদ্ধান্ত হয়। এ নিয়ে গত রোববার সভা করে সংগঠন দুটি। রোববারের ওই সভায় উচ্চ আয়ের পেশাজীবীদের প্রবাসী আয়ের ক্ষেত্রে ডলারের দাম ১০৭ টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত স্থগিত করা হয়। এরপর গতকাল কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা করে সেই সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়েছে। পরে তা চিঠির মাধ্যমে সব ব্যাংককে জানিয়ে দেয় সংগঠন দুটি।

ব্যাংকাররা বলছেন, এত দিন উচ্চ আয়ের পেশাজীবীরা দেশে প্রবাসী আয় পাঠালে ডলারের দাম পেতেন রপ্তানি আয়ের জন্য নির্ধারিত দরের সমান—৯৯ টাকা ৫০ পয়সা। এতে তাঁরা ব্যাংকের মাধ্যমে প্রবাসী আয় পাঠাতে নিরুৎসাহিত হচ্ছিলেন।