ব্যাংক খাত সংস্কার নিয়ে সরকারের অবস্থান লিখিতভাবে জানতে চায় আইএমএফ

বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকার ব্যাংক সংস্কার করবে কি না, তা লিখিত আকারে জানতে চেয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। পাশাপাশি সংস্কার করলে তাতে কী কী বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে, তা-ও জানতে চেয়েছে বহুজাতিক সংস্থাটি। সব মিলিয়ে সংস্কারের বিষয়ে বিএনপি সরকারের অবস্থান জানতে চেয়েছে তারা।

আজ বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে এক বৈঠকে ব্যাংক খাতের সংস্কারে বিএনপি সরকারের অবস্থান জানতে চেয়েছে আইএমএফের সফররত প্রতিনিধিদল। তাদের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে গভর্নর মোস্তাকুর রহমান ডেপুটি গভর্নর কবির আহাম্মদকে এ নিয়ে লিখিত জবাব দিতে বলেছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র মোহাম্মদ শাহরিয়ার সিদ্দিকী প্রথম আলোকে বলেন, ‘আইএমএফের আবাসিক প্রতিনিধি সংস্কারের বিষয়ে বর্তমান সরকারের অবস্থান জানতে চেয়েছেন। আমরা লিখিতভাবে তা জানিয়ে দেব।’

জানা গেছে, বাংলাদেশে নিযুক্ত আইএমএফের আবাসিক প্রতিনিধি ম্যাক্সিম ক্রিশকো আজ বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকে গিয়ে গভর্নরসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে সভা করেন। এ সময় তিনি জানতে চান, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় যেসব সংস্কার কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে, সেগুলো অব্যাহত থাকবে কি না এবং ব্যাংক খাতের সংস্কার নিয়ে বর্তমান সরকারের পরিকল্পনা কী।

জবাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সংস্কার চলমান থাকবে। তখন আইএমএফের কর্মকর্তারা বাংলাদেশ ব্যাংককে তা লিখিতভাবে জানাতে বলেন। এ ছাড়া বৈঠকে বাংলাদেশে আইএমএফের চলমান ঋণ কর্মসূচিকে এগিয়ে নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়।

একটি সূত্র জানায়, বাজার থেকে ডলার কিনে বাংলাদেশ ব্যাংক যেভাবে রিজার্ভ বৃদ্ধি করছে, তা কতটা আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী হচ্ছে, সে প্রশ্ন তুলেছে আইএমএফ। এ জন্য পরবর্তী সময়ে ডলার কেনার আগে তাদের সঙ্গে পরামর্শ করতে বলা হয়েছে।

২০২৩ সালের ৩০ জানুয়ারি আইএমএফের সঙ্গে বাংলাদেশের ৪ দশমিক ৭০ বিলিয়ন ডলারের ঋণ কর্মসূচি শুরু হয়। অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৫ সালের জুনে এই কর্মসূচির আকার আরও ৮০ কোটি ডলার বাড়িয়ে ৫ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডলার করে। কর্মসূচিটির প্রধান শর্ত হলো আর্থিক খাতের সংস্কার, যার মধ্যে ব্যাংক খাতের সংস্কারও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ আইএমএফ থেকে পাঁচ কিস্তিতে ৩ দশমিক ৬৪ বিলিয়ন ডলারের ঋণসহায়তা পেয়েছে। আরও দুই কিস্তিতে ১ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন ডলার পাবে বাংলাদেশ ব্যাংক।

গত বছরের ডিসেম্বরে ষষ্ঠ কিস্তি পাওয়ার কথা থাকলেও তখন ছাড় হয়নি। নির্বাচিত সরকার সংস্কার কতটা করে, এরপরই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়েছিল আইএমএফ।