পোশাকশ্রমিকদের বেতন দিতে বিশেষ ঋণের সুযোগ, টাকা যাবে সরাসরি শ্রমিকের হিসাবে

পোশাক কারখানায় কাজ করছেন নারী শ্রমিকফাইল ছবি

রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানার মালিকদের অনুরোধে শ্রমিকদের এক মাসের বেতনের জন্য বিশেষ ঋণসুবিধা চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংকগুলো এক মাসের বেতনের সমপরিমাণ অর্থ ঋণ দিতে পারবে।

এই ঋণের অর্থ সরাসরি শ্রমিকদের ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিং হিসাবে পাঠাতে হবে। আজ এক প্রজ্ঞাপনে এই নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সচল ও রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন–ভাতা পরিশোধের জন্য এই সুবিধা নিতে পারবেন পোশাক কারখানার মালিকেরা।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে ব্যবসায়িক পরিবেশ বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি ধারাবাহিক নিম্নমুখী রপ্তানি, ক্রয়াদেশ পিছিয়ে যাওয়া, তারল্য সংকটসহ বিভিন্ন কারণে রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানসমূহের উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতনভাতা পরিশোধের সক্ষমতা কমে এসেছে। সে জন্য উৎপাদন সক্ষমতা বজায় রেখে রপ্তানির ধারা অব্যাহত রাখার জন্য রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানসমূহকে অর্থায়ন সহায়তা দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।

এ লক্ষ্যে ব্যাংকগুলোকে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক:

১. সচল রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানসমূহের শ্রমিক-কর্মচারীদের গত ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন-ভাতা পরিশোধের জন্য চলতি মূলধন ঋণসীমার বাইরে প্রয়োজন অনুসারে এবং গ্রাহকের সক্ষমতা বিশ্লেষণ করে মেয়াদি ঋণসুবিধা দেওয়া যেতে পারে।  

২. এই ঋণসুবিধার পরিমাণ ঋণগ্রহীতা শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বিগত তিন মাসের প্রদত্ত গড় বেতন–ভাতার বেশি হবে না।  

৩. যেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠান মোট উৎপাদনের ন্যূনতম ৮০ শতাংশ রপ্তানি করে, তারা রপ্তানিমুখী শিল্প এবং যেসব প্রতিষ্ঠান তাদের শ্রমিক-কর্মচারীদের ২০২৫ সালের নভেম্বর হতে গত জানুয়ারি মাসের বেতন পরিশোধ করেছে, তারা সচল হিসেবে বিবেচিত হবে। সচল ও রপ্তানিমুখী হওয়ার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিত্বকারী বাণিজ্য সংগঠনের (বিজিএমইএ, বিকেএমইএ ইত্যাদি) প্রত্যয়নপত্র দ্বারা সমর্থিত হতে হবে।

৪. এসব ঋণের বিপরীতে বাজারভিত্তিক প্রচলিত সুদহার প্রযোজ্য হবে।

৫. ব্যাংকগুলো সংশ্লিষ্ট শ্রমিক-কর্মচারীর ব্যাংক হিসাবে বা মোবাইল ব্যাংকিং হিসাবে সরাসরি ফেব্রুয়ারি ২০২৬ মাসের বেতন–ভাতার অর্থ পাঠাবে।  

৬.  এই ঋণের অর্থ মেয়াদি ঋণ আকারে তিন মাসের গ্রেস পিরিয়ডসহ সর্বোচ্চ এক বছরে সমান কিস্তিতে (মাসিক/ত্রমাসিক) আদায় করতে হবে।

৭. এই ঋণের ওপর নিয়মিত সুদ ব্যতীত অন্য কোনো প্রকার অতিরিক্ত সুদ/মুনাফা/ফি/চার্জ (যে নামেই অভিহিত করা হোক না কেন) আদায়/আরোপ করা যাবে না।