টাকা ফেরত পেতে গভর্নরের হস্তক্ষেপ চান ৬ আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ভুক্তভোগী আমানতকারীরা
দেশের ছয়টি অবসায়নাধীন ব্যাংক-বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানে (এনবিএফআই) আটকে থাকা আমানত দ্রুত ফেরতের দাবিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ব্যক্তিরা।
অ্যালায়েন্স ফর সিক্স এনবিএফআই ডিপোজিটর্স ফর রিকভারির ব্যানারে দেওয়া এই আবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘ সাত বছর ধরে ১২ হাজারের বেশি আমানতকারী সঞ্চিত অর্থ ফেরত না পেয়ে চরম আর্থিক অনিশ্চয়তা ও মানসিক চাপে আছেন।
ওই প্রতিষ্ঠানগুলো হলো এফএএস ফিন্যান্স, প্রিমিয়ার লিজিং, ফারইস্ট ফিন্যান্স, আভিভা ফিন্যান্স, পিপলস লিজিং ও ইন্টারন্যাশনাল লিজিং।
আমানতকারীদের আবেদনে বলা হয়, এসব প্রতিষ্ঠানে অর্থ আটকে থাকায় অনেক আমানতকারী চিকিৎসাসহ জরুরি ব্যয় মেটাতে পারছেন না। ক্যানসার, কিডনি, হৃদ্রোগসহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত অনেকেই অর্থাভাবে চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এমনকি চিকিৎসার অভাবে একাধিক মৃত্যুও ঘটেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী ব্যক্তিরা মনে করেন, দেশের আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়িত্ব হলো আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষা করা। এই প্রেক্ষাপটে তাঁরা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিন দফা দাবি
আবেদনে আমানতকারীদের পক্ষ থেকে তিনটি প্রধান দাবি উত্থাপন করা হয়েছে—
প্রথমত, আগে ঘোষিত জুলাই ২০২৬-এর পথনকশা অনুযায়ী অর্থ ফেরতের দ্রুত, স্পষ্ট ও বাস্তবসম্মত ঘোষণা দিতে হবে।
দ্বিতীয়ত, ক্ষতিগ্রস্ত আমানতকারীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অর্থ ফেরতের কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
তৃতীয়ত, আমানতকারীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে গভর্নরের সরাসরি সাক্ষাতের সুযোগ দিয়ে সমস্যাগুলো উপস্থাপনের সুযোগ দিতে হবে।
চিঠির শেষাংশে ভুক্তভোগী ব্যক্তিরা আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ ব্যাংক দ্রুত, কার্যকর ও মানবিক ভূমিকা পালন করবে এবং এই সংকট নিরসনে জরুরি হস্তক্ষেপ করবে।
এর আগে টাকা ফেরত চেয়ে গত ১৬ এপ্রিল সংবাদ সম্মেলন করে অ্যালায়েন্স ফর সিক্স এনবিএফআই ডিপোজিটর্স ফর রিকভারি। সেদিন তাঁরা বলেন, আগামী তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে আমানতের অর্থ ফেরত পেতে সুস্পষ্ট পথনকশা প্রয়োজন।
এ ছাড়া এই ছয় প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে সরকারের পদক্ষেপ দাবি করেন ভুক্তভোগী ব্যক্তিরা। ভুক্তভোগী ব্যক্তিরা ১৬ এপ্রিল বলেন, এই ছয় এনবিএফআই প্রতিষ্ঠানে সব মিলিয়ে দুই হাজারের বেশি আমানতকারী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ৯টি ব্যাংক–বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) বন্ধ বা অবসায়নের উদ্যোগ নিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে পরে এই তালিকা থেকে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে বাদ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এই প্রতিষ্ঠানগুলো হলো এফএএস ফিন্যান্স, প্রিমিয়ার লিজিং, ফারইস্ট ফিন্যান্স, আভিভা ফিন্যান্স, পিপলস লিজিং ও ইন্টারন্যাশনাল লিজিং।