ঋণের সুদহার কমাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগ, স্প্রেডের সর্বোচ্চ সীমা ৪ শতাংশ

বাংলাদেশ ব্যাংকের লোগো

আমানত ও ঋণের মধ্যে যে সুদহার থাকবে, এর গড় ব্যবধান বা স্প্রেড সর্বোচ্চ ৪ শতাংশের মধ্যে রাখতে হবে। এমন সীমা ঠিক করে দিল বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে ক্রেডিট কার্ড ও ভোক্তা ঋণের ক্ষেত্রে এ শর্ত প্রযোজ্য হবে না।

গতকাল সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংক সব ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে এ নির্দেশনা পাঠিয়েছে। তা গতকাল থেকেই কার্যকর করা হয়েছে।

ব্যাংকগুলোর আমানত ও ঋণের সুদহারের গড় ব্যবধান বা স্প্রেড এর আগেও একসময় ৪ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছিল। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণ কর্মসূচি শুরুর পর ২০২৩ সালে স্প্রেডের ৪ শতাংশের সীমা প্রত্যাহার করা হয়।

গতকাল পাঠানো বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা হয়, উৎপাদনশীল খাতসহ বিভিন্ন খাতে ঋণের সুদহার যৌক্তিক পর্যায়ে নির্ধারণের লক্ষ্যে ক্রেডিট কার্ড ও ভোক্তা ঋণ ছাড়া অন্যান্য খাতে ঋণ এবং আমানতের গড়ভারিত সুদহারের ব্যবধান বা স্প্রেড ৪ শতাংশের মধ্যে সীমিত রাখতে হবে।

নির্দেশনার শুরুতে উল্লেখ করা হয়েছে, সুদহার নির্ধারণে রেফারেন্স রেট ও মার্জিনভিত্তিক ঋণের সুদহার (স্মার্ট) পদ্ধতি চালুর পর স্প্রেড–সংক্রান্ত নির্দেশনা প্রত্যাহার করা হয়। পরে ২০২৪ সালের মে মাসে সম্পূর্ণ বাজারভিত্তিক সুদহার ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়। এরপরও নতুন করে আর স্প্রেড–সংক্রান্ত কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে, অনেক ব্যাংকে আমানতের সুদহারের তুলনায় ঋণের সুদ অনেক বেশি নির্ধারণের ফলে স্প্রেড অনেক বেড়েছে। ব্যবসা ও শিল্প প্রবৃদ্ধিকে যা বাধাগ্রস্ত করছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সূত্রগুলো বলছে, বর্তমানে ব্যাংকগুলো গড়ে সোয়া ৬ শতাংশ সুদের হারে আমানত নিয়েছে। ঋণ বিতরণ করেছে প্রায় ১২ শতাংশ। এতে স্প্রেড গড়ে সাড়ে ৫ শতাংশের বেশি। কোনো কোনো ব্যাংকে এই স্প্রেড আরও বেশি।