দুদকে পাঠানো চিঠিতে উত্তরা ফাইন্যান্স বলেছে, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী রহমান রহমান হক (কেপিএমজি) কর্তৃক বিশেষ নিরীক্ষা করা হয়েছে।

নিরীক্ষা প্রতিবেদনে উত্তরা ফাইন্যান্সের অপসারিত এমডি এস এম শামসুল আরেফিনের বিরুদ্ধে উত্তরা ফাইন্যান্স থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎসহ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেছে। এর ধারাবাহিকতায় তাঁর বিরুদ্ধে দুদকসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাছে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তাঁর বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎসহ ও জালজালিয়াতির প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় দুদকের তদন্ত চলমান আছে। এমন প্রেক্ষাপটে আমরা আশঙ্কা করছি, শামসুল আরেফিন আইনি ব্যবস্থা এড়াতে দেশত্যাগের চেষ্টায় লিপ্ত আছেন।’ এ জন্য তাঁর পাসপোর্ট জব্দ ও বিদেশে যাওয়া ঠেকাতে দুদকের কাছে অনুরোধ করেছে উত্তরা ফাইন্যান্স।

এ নিয়ে টেলিফোনে উত্তরা ফাইন্যান্সে যোগাযোগ করা হলেও কেউ বক্তব্য দিতে রাজি হননি। তবে মধ্যম পর্যায়ের এক কর্মকর্তা প্রথম আলোকে জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংক যা বলছে, তা পরিপালন করা হচ্ছে। এমডিকে সরিয়ে দেওয়ার পর সবাই আতঙ্কে আছেন।

গত জুনে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে উত্তরা ফাইন্যান্সের এমডি পদ থেকে এস এম শামসুল আরেফিনকে অপসারণ করে বাংলাদেশ ব্যাংক। ওই সময় চিঠিতে বলা হয়, আর্থিক অনিয়মের সঙ্গে শামসুল আরেফিনের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। এটা আমানতকারীদের স্বার্থে বিরূপ প্রভাব ফেলছে।

তখন বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শনে উঠে আসে, প্রতিষ্ঠানটির পরিচালকেরা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়া ঋণ বের করে নিয়েছেন। আবার এমডিও গাড়ি-বাড়ি কিনতে অনুমোদন ছাড়া ঋণ নিয়েছেন। উত্তরা ফাইন্যান্স নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়, লেনদেনের প্রকৃত তথ্য আড়াল করে উত্তরা ফাইন্যান্স আর্থিক প্রতিবেদন তৈরি করে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ আর্থিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত রয়েছে। এর মাধ্যমে তিনি প্রতিষ্ঠানটিকে ঝুঁকিতে ফেলে দিয়েছেন।

ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে উত্তরা ফাইন্যান্সকে ১৯৯৫ সালে অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।

ব্যাংক থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন