সুকুকে বিনিয়োগে কোন খাতে কত মাশুল, জানাল বাংলাদেশ ব্যাংক
বাংলাদেশ সরকার মাঝেমধ্যেই অবকাঠামো উন্নয়নকাজের জন্য সুকুক বন্ড ছেড়ে টাকা তুলেছে। সুকুকে সাধারণ মানুষ ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে বিনিয়োগ প্রক্রিয়া সহজ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে বিনিয়োগকারীরা নির্দিষ্ট মাশুল এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দিয়ে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সহজেই সুকুক ইনভেস্টর আইডি খুলতে পারবেন।
আজ সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেটা ম্যানেজমেন্ট বিভাগ এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই নতুন নির্দেশনা ও মাশুলের বিষয়টি জানিয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, শরিয়াহ্ভিত্তিক এই সরকারি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও সহজ করাই এই নির্দেশনার মূল লক্ষ্য। এটি একটি সরকারি বিনিয়োগ মাধ্যম হওয়ায় এতে মূলধনের নিরাপত্তা নিশ্চিত থাকে, যা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি আকর্ষণীয় সুযোগ তৈরি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মাশুল কত
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, সুকুক বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ভ্যাটসহ মাশুল কাঠামো সুনির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। ব্যক্তি বিনিয়োগকারীদের জন্য আইডি খোলা, প্রাথমিক নিলামে অংশগ্রহণ ও বার্ষিক রক্ষণাবেক্ষণ মাশুল—প্রতিটির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের ক্ষেত্রে এই মাশুল প্রতিটি ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা।
এ ছাড়া সেকেন্ডারি মার্কেটে প্রতি লেনদেনের জন্য ১০০ টাকা মাশুল দিতে হবে। বিনিয়োগকারীরা বছরে একটি আয়কর সনদ বিনা মূল্যে পাবেন, তবে এর অতিরিক্ত প্রতিটির জন্য ব্যক্তিপর্যায়ে সর্বোচ্চ ২০০ টাকা এবং প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা মাশুল প্রযোজ্য হবে।
যেসব সেবা মিলবে বিনা মূল্যে
বিনিয়োগকারীদের সুবিধার্থে বেশ কিছু সেবা সম্পূর্ণ মাশুল মুক্ত রাখা হয়েছে। মুনাফা, ভাড়া বা আসল পরিশোধের ক্ষেত্রে ব্যাংক কোনো মাশুল নিতে পারবে না। এ ছাড়া বিনিয়োগের পরিমাণ বা হোল্ডিং রিপোর্ট সংগ্রহ এবং সুকুক আইডি বন্ধ করার জন্য কোনো মাশুল দিতে হবে না।
আবেদনের প্রক্রিয়া ও প্রয়োজনীয় তথ্য
বিনিয়োগকারীদের সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ‘গভর্নমেন্ট সিকিউরিটিজ বিনিয়োগ উইন্ডো’-তে আবেদন করতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকে সংরক্ষিত শরিয়াহ্ সিকিউরিটি মডিউলের মাধ্যমে এই আইডি খোলা হবে। ব্যক্তি বিনিয়োগকারীদের নির্ধারিত আবেদন ফরম, ব্যাংক হিসাবের তথ্য, জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্ট, ছবি, ইটিআইএন (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) এবং নমিনির তথ্য ও ছবি জমা দিতে হবে।
বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি বা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ক্ষেত্রে প্রবাসীদের দেশি মুদ্রা ‘টাকা হিসাবে’র তথ্য দিতে হবে। প্রতিষ্ঠান, লিমিটেড কোম্পানি, ট্রাস্ট বা প্রভিডেন্ট ফান্ডের ক্ষেত্রে নিবন্ধন সনদ, পরিচালনা পর্ষদের কার্যবিবরণী এবং অনুমোদিত স্বাক্ষরকারীর প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দিতে হবে।