ব্যাংক আলফালাহ কিনতে ইজিএম ডেকেছে ব্যাংক এশিয়া
ব্যাংক আলফালাহর বাংলাদেশ কার্যক্রমের সম্পদ ও দায় অধিগ্রহণের প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য বিশেষ সাধারণ সভা (ইজিএম) ডেকেছে ব্যাংক এশিয়া। আগামী ১২ এপ্রিল এ সভা অনুষ্ঠিত হবে। আজ রোববার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের এ তথ্য জানিয়েছে ব্যাংকটি।
ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত ব্যাংক এশিয়ার পরিচালনা পর্ষদের সভায় এ বিষয়ে একটি বিশেষ প্রস্তাবের অনুমোদন হয়। প্রস্তাব অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ও শেয়ারধারীদের সম্মতির ভিত্তিতে ব্যাংক আলফালাহ বাংলাদেশ কার্যক্রমের সম্পদ ও দায় অধিগ্রহণ করবে ব্যাংক এশিয়া। এ জন্য ব্যাংক এশিয়ার ১৩তম বিশেষ সাধারণ সভা আগামী ১২ এপ্রিল বেলা ১১টায় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠিত হবে। সভায় অংশগ্রহণ ও ভোটাধিকার নির্ধারণের জন্য রেকর্ড তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২৬ ফেব্রুয়ারি।
ব্যাংকটির কর্মকর্তারা জানান, ব্যাংক আলফালাহ কিনে ইসলামি ব্যাংকিং সেবা সম্প্রসারণ করতে চায় ব্যাংক এশিয়া। এর মাধ্যমে ব্যাংকটি প্রচলিত ব্যাংকের মধ্যে ইসলামি ব্যাংকিং সেবায় নেতৃত্বে উঠে আসতে চায়।
জানা গেছে, পাকিস্তানভিত্তিক ব্যাংক আলফালাহর বাংলাদেশের কার্যক্রম কিনে নিতে ব্যাংক দুটির মধ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে। গত বছরের ২৮ মে এ সমঝোতা স্মারক সই হয়। এর আগেই ব্যাংকটির কার্যক্রম, সম্পদ ও দায় ব্যাংক এশিয়ার পক্ষ থেকে অধিগ্রহণের বিষয়ে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে ব্যাংক আলফালাহর পরিচালনা পর্ষদ। ব্যাংক আলফালাহর নিরীক্ষা ও মূল্য নির্ধারণের কাজটি করছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক বহুজাতিক কর, নিরীক্ষা ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠান প্রাইসওয়াটারহাউসকুপারস (পিডব্লিউসি) বাংলাদেশ। এ ছাড়া আরও দুটি নিরীক্ষাপ্রতিষ্ঠান ব্যাংক আলফালাহর নিরীক্ষা ও মূল্য নির্ধারণ করছে। ব্যাংক আলফালাহকে অধিগ্রহণে প্রাথমিকভাবে খরচ ধরা হয়েছে প্রায় ৬০০ কোটি টাকা।
১৯৯৯ সালে যাত্রা শুরু করে ব্যাংক এশিয়া। প্রতিষ্ঠার পর এ নিয়ে তৃতীয়বার কোনো বিদেশি ব্যাংকের বাংলাদেশের কার্যক্রম কিনে নেওয়ার পদক্ষেপ নিয়েছে তারা। এর আগে কানাডাভিত্তিক নোভা স্কোটিয়া ও পাকিস্তানের আরেক ব্যাংক মুসলিম কমার্শিয়াল ব্যাংকের বাংলাদেশ কার্যক্রম অধিগ্রহণ করেছিল ব্যাংক এশিয়া। এর আগে ব্যাংক আলফালাহর বাংলাদেশ শাখা কিনতে চেয়েছিল শ্রীলঙ্কার হাটন ন্যাশনাল ব্যাংক। এ লক্ষ্যে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক হাটন ন্যাশনাল ব্যাংককে আলফালাহর বাংলাদেশ শাখার কার্যক্রম খতিয়ে দেখার অনুমোদন দিয়েছিল। কিন্তু হাটন ন্যাশনাল ব্যাংক শেষমেশ তাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে এই প্রক্রিয়া থেকে সরে দাঁড়ায়।