বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ডলারের দাম আরও ৫০ পয়সা বাড়ানো হয়েছে। নতুন দামে সাত কোটি ডলার বিক্রি করা হয়েছে।

ডলার-সংকট নিরসনে গত বৃহস্পতিবার একসঙ্গে চারটি সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। সেগুলো হলো—ব্যাংকের ডলার ধারণের
সীমা (এনওপি) হ্রাস, রপ্তানিকারকের প্রত্যাবাসন কোটায় (ইআরকিউ) ধারণকৃত ডলারের ৫০ শতাংশ নগদায়ন, ইআরকিউ হিসাবে জমা রাখার সীমা কমিয়ে অর্ধেকে নামিয়ে আনা এবং অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটের বৈদেশিক মুদ্রার তহবিল অভ্যন্তরীণ ব্যাংকিং ইউনিটে স্থানান্তর। এ ছাড়া ৫০ লাখ ডলারের বেশি মূল্যের বেসরকারি যেকোনো আমদানি ঋণপত্র (এলসি) খোলার ২৪ ঘণ্টা আগে তা কেন্দ্রীয় ব্যাংককে জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। এর ফলে সংকট কিছুটা কমার আশা করছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা।

সংকটের মধ্যে ৫০ লাখ ডলারের বেশি অঙ্কের পাঁচটি ঋণপত্র গত সোমবার আটকে দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এসব ঋণপত্রে মোট অর্থের পরিমাণ ছিল প্রায় সাড়ে চার কোটি ডলার। এর মধ্যে চারটি ছিল ভোগ্যপণ্যের ও একটি পুরোনো জাহাজ আমদানির। এর মধ্যে নথিপত্র যাচাই করে ভোগ্যপণ্যের ঋণপত্র খোলার অনুমতি দিলেও জাহাজ আমদানির ঋণপত্র খোলা আটকে রেখেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। প্রায় আড়াই কোটি ডলার খরচ করে এই জাহাজ আমদানি করতে চাইছে চট্টগ্রামের একটি গ্রুপ। বাজার দামের সঙ্গে ঋণপত্রের দামের বড় পার্থক্য হওয়ায় তা এখনো আটকা।

এদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্তের ফলে অনেক রপ্তানিকারক তাঁদের রপ্তানি প্রত্যাবাসন কোটায় (ইআরকিউ) রাখা বিদেশি মুদ্রা বিক্রি করছেন। ব্যাংকগুলো এই ডলার কিনে আমদানি দায় শোধ করছে। একইভাবে অনেক ব্যাংকও নিজেদের কাছে রাখা ডলারও বিক্রি করছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ব্যাংকগুলোর কাছে ইআরকিউর ৭৪ কোটি ৪০ লাখ ডলার জমা ছিল। বুধবার পর্যন্ত এর মধ্যে থেকে ২৪ কোটি ৭০ লাখ ডলার ছেড়েছেন রপ্তানিকারকেরা। সামনে আরও ডলার বিক্রি করতে হবে তাদের।

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল ও ভোগ্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় আমদানি খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় ডলারের ওপর চাপ পড়েছে। আবার রপ্তানি বাড়লেও তা আমদানির মতো নয়। প্রবাসী আয়ও বাড়েনি; বরং তা কমেছে। ফলে দেশে ডলারের সংকট তৈরি হয়েছে। এতে বেড়ে গেছে প্রধান আন্তর্জাতিক মুদ্রাটির দাম।

ব্যাংক থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন