তবে আয়কর রিটার্নের প্রমাণপত্র দাখিলের ক্ষেত্রে কারা ছাড় পাবেন, তা নিয়ে অস্পষ্টতা রয়েছে। এনবিআরের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, করযোগ্য আয় না থাকা সাপেক্ষে এই সুবিধা পাবেন করদাতারা। অর্থাৎ যাঁদের করযোগ্য আয় নেই কিন্তু ঋণ চান, তাঁরা এই সুবিধা পাবেন।

এ সম্পর্কে এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন মাসুদুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, খুবই ভালো উদ্যোগ। তবে পরিপত্রটি আরও স্পষ্ট হলে ব্যাংক ও ব্যবসায়ীদের জন্য আরও ভালো হতো।

একই প্রজ্ঞাপনে এনবিআর শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও নিয়ম কিছুটা শিথিল করার কথা জানিয়েছে। সে অনুযায়ী দুই লাখ টাকা পর্যন্ত ক্রেডিট কার্ডে লেনদেনের ক্ষেত্রে আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক নয়। ব্যাংকঋণ ও ক্রেডিট কার্ডে লেনদেনের এই শর্তসাপেক্ষ ছাড় আগামী বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত থাকবে।

এদিকে ব্যাংকাররা জানান, ক্রেডিট কার্ডধারীদের রিটার্ন জমার কপি দাখিল করা বাধ্যতামূলক হওয়ায় ক্রেডিট কার্ডের ব্যবসায় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এ কারণে ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশের (এবিবি) পক্ষ থেকে নিয়ম শিথিল করার সুপারিশ করা হয়েছিল।

জানতে চাইলে বাংলাদেশে বিভিন্ন ব্যাংকের মাধ্যমে ক্রেডিট কার্ড সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান মাস্টারকার্ডের এদেশীয় প্রধান বা কান্ট্রি ম্যানেজার সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল প্রথম আলোকে বলেন, নতুন যে সুবিধার কথা বলা হয়েছে, তাতে ক্রেডিট কার্ড ব্যবসার কোনো লাভ হবে না।

কারণ, ক্রেডিট কার্ড নেওয়ার ক্ষেত্রে রিটার্ন জমার কপি দেওয়ার যে বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছিল, সেটি বহাল রয়ে গেল। সেখানে কোনো পরিবর্তন আনেনি এনবিআর। এখন শিক্ষার্থীদের সুবিধা দেওয়া হয়েছে।

কিন্তু বাংলাদেশে প্রচলিত ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীদের নিজস্ব নামে ক্রেডিট কার্ড করা হয় না। ফলে ক্রেডিট কার্ড ব্যবসায় এই সুবিধার সুফল খুব বেশি মিলবে না।

গত জুন মাসে বাজেট ঘোষণার সময়ে ৩৮ ধরনের সেবা পেতে রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়। তবে বিষয়টি একটু ঘুরিয়ে করা হয়েছে। যে দপ্তর বা প্রতিষ্ঠান থেকে এসব সেবা নেওয়া হবে, যেসব প্রতিষ্ঠান যদি সেবাগ্রহীতার কাছ থেকে রিটার্ন দাখিলের প্রমাণপত্র দেখতে না চেয়ে সেবা দিয়ে দেয়, তাহলে ওই প্রতিষ্ঠানকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করার বিধান রাখা হয়েছে।

যেসব সেবা পেতে রিটার্ন জমা দিতে হবে, সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো সুদের টাকা উত্তোলনের সময়ে উৎসে করে রেয়াতি সুবিধা পেতে, পাঁচ লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্র কিনলে, ক্রেডিট কার্ড নেওয়ার ক্ষেত্রে, কোনো কোম্পানির পরিচালক বা শেয়ারহোল্ডার হলে, ব্যবসায়ী সমিতির সদস্যপদ নিলে, কারও সন্তান বা পোষ্য ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে পড়াশোনা করলে, অস্ত্রের লাইসেন্স নিলে।

এ ছাড়া পৌরসভা, উপজেলা ও জেলা পরিষদ, সিটি করপোরেশন ও জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থী হলে রিটার্ন দাখিলের প্রমাণপত্র দেখাতে হবে।

ব্যাংক থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন