দেশের অর্থনীতি গতিশীল রাখতে এমডিদের উদ্দেশে গভর্নর বলেন, সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, কিছু ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো পণ্যের প্রকৃত বাজারমূল্য যথাযথভাবে যাচাই করতে ব্যর্থ হওয়ায় আমদানিতে ওভার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে ঋণপত্র খোলার কারণে দেশ কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রা হারাচ্ছে। এ ছাড়া কোনো কোনো আমদানির ক্ষেত্রে আন্ডার ইনভয়েসিংয়ের কারণেও সরকার একদিকে রাজস্ব পাচ্ছে না, অন্যদিকে অবৈধভাবে হুন্ডি ব্যবসার ফলে দেশ বৈদেশিক মুদ্রাপ্রাপ্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

এ জন্য গভর্নর ঋণপত্র খোলার ক্ষেত্রে যাতে কোনো ধরনের ওভার ইনভয়েসিং ও আন্ডার ইনভয়েসিং না হয়, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের জন্য ব্যাংকের এমডিদের নির্দেশনা প্রদান করেন। এ ছাড়া শিশুখাদ্য, গম, চিনি, ডাল, ভোজ্যতেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীর আমদানি যেন কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত না হয়, তা নিশ্চিত করতে নির্দেশনা দেন তিনি।

ওই সভায় ডেপুটি গভর্নর আবু ফরাহ মো. নাছের বলেন, সিএমএসএমই খাতে প্রয়োজনীয় ঋণ নিশ্চিত করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে মূল্যস্ফীতি হ্রাস করার জন্য স্বল্প সুদে পুনঃ অর্থায়ন তহবিল গঠন করা হয়েছে। পুনঃ অর্থায়ন স্কিমগুলোর সফল বাস্তবায়নে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক ক্রেডিট গ্যারান্টি–সুবিধাও দেওয়া হচ্ছে।

তবে ব্যাংকগুলোর সহযোগিতা ছাড়া এসব উদ্যোগের সফল বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। সভায় ক্রেডিট গ্যারান্টি বিভাগের পরিচালক মনোজ কুমার হাওলাদার ক্রেডিট গ্যারান্টি–সুবিধাগুলোর উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য তুলে ধরে ক্রেডিট গ্যারান্টি–সুবিধা গ্রহণ করে সিএমএসএমই উদ্যোক্তারা যেন দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে যথাযথ ভূমিকা পালন করতে পারেন, সে বিষয়ে আরও উদ্যোগী হওয়ার জন্য প্রধান নির্বাহীদের প্রতি আহ্বান জানান।