পরিকল্পনামন্ত্রী আরও বলেন, দেশের সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে প্রবাসী শ্রমিকদের একধরনের নেতিবাচক ধারণা আছে। তাই একান্ত প্রয়োজন না হলে তাঁরা এসব প্রতিষ্ঠানে যেতে চান না। অন্যদিকে, টাকা পাঠানোর ক্ষেত্রে হুন্ডি বা অবৈধ অন্য উপায়গুলো তাঁরা সহজ ও পরিচিত মাধ্যম হিসেবে ভাবেন। সাংস্কৃতিক এই পার্থক্যের কারণে প্রবাসী শ্রমিকেরা ব্যাংকের মাধ্যমে বৈধ পথে প্রবাসী আয় পাঠাতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন না বলে মনে করেন তিনি।

ইআরএফ সভাপতি শারমীন রিনভীর সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর, পলিসি এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান মাশরুর রিয়াজ, ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ মুনিরুল মওলা, বিকাশের এক্সটার্নাল ও করপোরেট অ্যাফেয়ার্স বিভাগের প্রধান শেখ মো. মনিরুল ইসলাম, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক মো. ইস্কান্দার মিয়া, গবেষক খন্দকার সাখাওয়াত আলী ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক শরমিন্দ নিলোর্মী। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সানেমের চেয়ারম্যান বজলুল হক খন্দকার।

প্রবাসী আয় বাড়াতে প্রবাসীদের মধ্যে ডিজিটাল জ্ঞান বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন পিআরআইয়ের নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর। তিনি বলেন, এতে তাঁরা ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠাতে উৎসাহিত হবেন। এ জন্য ব্যাংকের এজেন্টদের মাধ্যমে বৈধ পথে দেশে অর্থ পাঠাতে ব্যাপক প্রচারণা চালাতে হবে।

মূল প্রবন্ধে সানেমের চেয়ারম্যান বজলুল হক খন্দকার বলেন, দেশে যে পরিমাণ প্রবাসী আয় আসে, তার প্রায় ৪৯ শতাংশ আসে অবৈধ পথে। দ্রুত, কম খরচ, বেশি লাভ, বিশ্বস্ততা ও করমুক্তভাবে অর্থ পাঠানো যায় বলে অবৈধ উপায়ে অর্থ পাঠাতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন প্রবাসী শ্রমিকেরা।

সেমিনারে পলিসি এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান মাশরুর রিয়াজ বলেন, প্রায় এক-তৃতীয়াংশ প্রবাসী মুঠোফোনে আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের (এমএফএস) মাধ্যমে অর্থ পাঠাতে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন। এই নিরাপত্তাহীনতা দূর করতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক মো. ইস্কান্দার মিয়া বলেন, দূতাবাসগুলো থেকে প্রবাসী শ্রমিকদের ঠিকভাবে খোঁজখবর নেওয়া হয় না। এ কারণে অনেকেই বৈধ পথের বদলে হুন্ডিতে অর্থ পাঠান।

এমএফএসের মাধ্যমে প্রবাসী আয় বাড়াতে এই খাতে প্রণোদনা–সুবিধা বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ মুনিরুল মওলা।

বিকাশের করপোরেট অ্যাফেয়ার্স বিভাগের প্রধান শেখ মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, ১ কোটি ৩০ লাখ প্রবাসী শ্রমিকের মধ্যে ৭৫ লাখ মধ্যপ্রাচ্যে কাজ করেন। কিন্তু পশ্চিমা দেশগুলো থেকেই এমএফএসের মাধ্যমে বেশি প্রবাসী আয় আসে। পশ্চিমা দেশগুলোর শ্রমিকদের মধ্যে ডিজিটাল জ্ঞান বেশি থাকায় এমনটি হচ্ছে।

প্রবাসীদের ক্ষেত্রে বিদ্যমান সংজ্ঞা পরিবর্তনের পরামর্শ দিয়েছেন অধ্যাপক শরমিন্দ নিলোর্মী। তিনি বলেন, দেশে বসে যাঁরা বৈদেশিক মুদ্রা আয় করছেন, তাঁদেরও প্রবাসী হিসেবে প্রণোদনার সুবিধা দেওয়া প্রয়োজন।