নগদের মোবাইলে আর্থিক সেবা কার্যক্রম ২০১৮ ও ২০২২ সালের সংশ্লিষ্ট প্রবিধানসম্মত নয় উল্লেখ করে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. আবু বক্কর সিদ্দিক ও মো. হাসান উজ জামান ২৭ অক্টোবর রিটটি করেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী কামাল হোসেন মিয়াজী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অরবিন্দ কুমার রায়। 

পরে আইনজীবী কামাল হোসেন মিয়াজী প্রথম আলোকে বলেন, এমএফএস প্রতিষ্ঠান হিসেবে ২০১৯ সালে নগদ কার্যক্রম শুরু করে। তখন একটি প্রবিধান ছিল, এ সেবা দিতে হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে কোনো বাণিজ্যিক ব্যাংকের সঙ্গে যুক্ত থাকতে হবে। কিন্তু নগদ কোনো বাণিজ্যিক ব্যাংকের সঙ্গে যুক্ত ছিল না। পরে ওই প্রবিধান বাতিল করে ২০২২ সালে নতুন আরেকটি প্রবিধান করা হয়। সেখানে বলা  হয়, শুধু ব্যাংক নয়, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা সরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও চলবে। কিন্তু নগদ কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত নয়। তবে নগদের দাবি, তারা বাংলাদেশ ডাক বিভাগের একটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠান। অথচ যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তরের নথিপত্রে নগদের মালিকানায় ডাক বিভাগের ১ শতাংশ শেয়ারও নেই। অথচ আইন বলছে, ৫১ শতাংশ শেয়ার ও নিয়ন্ত্রণ থাকতে হবে। মূলত এসব যুক্তিতে রিটটি করা হয়।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব, গভর্নর, বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেম বিভাগের পরিচালক, ডাক বিভাগের মহাপরিচালক, নগদের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ বিবাদীদের চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

এদিকে নগদের পক্ষ থেকে গতকাল এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তাদের সঙ্গে ডাক বিভাগের চুক্তি আছে। চুক্তি অনুযায়ী, তারা প্রতিবছর আয় থেকে ৫১ শতাংশ ডাক বিভাগকে দিয়ে আসছে। এমনকি গতকাল ২০২১-২২ অর্থবছরের আয়ের ৫১ শতাংশ, তথা সাড়ে ৪ কোটি টাকার চেক ডাক বিভাগকে হস্তান্তর করা হয়েছে।