সোনালী, অগ্রণী ও বিকেবিসহ ১৪ প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে নিয়োগ–পদোন্নতির নীতিমালা জারি
রাষ্ট্রমালিকানাধীন ছয়টি বাণিজ্যিক ও ছয়টি বিশেষায়িত ব্যাংক এবং দুটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে নিয়োগ, পদোন্নতি ও পদায়নের নতুন নীতিমালা জারি করেছে সরকার। ২০২৩ সালের নীতিমালা বাতিল করে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ গতকাল রোববার এ নীতিমালা জারি করে।
এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে সোনালী, অগ্রণীসহ রাষ্ট্রায়ত্ত ছয়টি বাণিজ্যিক ব্যাংক; বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক (বিকেবি) ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকসহ (রাকাব) ছয়টি বিশেষায়িত ব্যাংক এবং বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশন (বিএইচবিএফসি) ও ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি) এই দুটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি), উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) ও মহাব্যবস্থাপক (জিএম) পদের ক্ষেত্রে নীতিমালাটি প্রযোজ্য হবে।
নীতিমালায় বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানগুলোর এমডি পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ হবে সর্বোচ্চ তিন বছরের জন্য। প্রার্থীদের ন্যূনতম যোগ্যতা হবে স্বীকৃত কোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন। বিশেষ ক্ষেত্রে উচ্চতর শিক্ষা বা পেশাগত যোগ্যতাসম্পন্ন প্রার্থী অর্থাৎ অর্থনীতি, হিসাববিজ্ঞান, ফাইন্যান্স, ব্যাংকিং, ব্যবস্থাপনা অথবা ব্যবসায় প্রশাসন বিষয়ে উচ্চতর প্রাতিষ্ঠানিক বা পেশাগত শিক্ষায় যোগ্যতাসম্পন্ন প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। শিক্ষাজীবনের কোনো পর্যায়ে তৃতীয় বিভাগ বা শ্রেণি থাকতে পারবে না।
বলা হয়েছে, প্রার্থীদের চাকরিজীবনের প্রতিটি স্তরে সততা ও সুনাম থাকতে হবে। এ ছাড়া গোয়েন্দা ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রতিবেদন যাচাই করা হবে। বাছাই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে প্রধানমন্ত্রী বা প্রধান উপদেষ্টার অনুমোদনক্রমে নিয়োগ নিশ্চিত হবে।
আর বিশেষায়িত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর এমডি পদে পদোন্নতি বা আন্তঃবদলির মাধ্যমে নিয়োগ করা হবে। তবে প্রার্থীর অভিজ্ঞতা হিসেবে ডিএমডি পদে অন্তত দুই বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে এবং ৯ম গ্রেডে ন্যূনতম ২০ বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা থাকা বাধ্যতামূলক। যোগ্যতা, সততা ও মূল্যায়নের মাধ্যমে বাছাই কমিটি সুপারিশ করবে।
এ ছাড়া ডিএমডি ও জিএম পদে নিয়োগও পদোন্নতি বা আন্তঃবদলির মাধ্যমে হবে। ডিএমডি পদে পদোন্নতির জন্য প্রার্থীর ৯ম গ্রেড থেকে কমপক্ষে ১৯ বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। ডিএমডি পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রে প্রিন্সিপাল অফিসার পদে সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্তদের ১৭ বছর, সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার পদে সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্তদের ১৪ বছর, সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) পদে সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্তদের ১১ বছর এবং উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) পদে সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্তদের ৮ বছরের কর্ম-অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
মহাব্যবস্থাপক বা জিএম পদে পদোন্নতির জন্য লাগবে ডিজিএম হিসেবে তিন বছরসহ ১৮ বছর চাকরি করার অভিজ্ঞতা। তবে প্রিন্সিপাল অফিসার পদে সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্তদের ১৫ বছর, সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার পদে সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্তদের ১২ বছর, সহকারী মহাব্যবস্থাপক পদে সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্তদের ৯ বছর এবং উপমহাব্যবস্থাপক পদে সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্তদের ৬ বছরের কর্ম–অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, ব্যাংকিং প্রফেশনাল পরীক্ষা, চাকরির রেকর্ড, বার্ষিক গোপনীয় অনুবেদন (এসিআর) এবং সাক্ষাৎকারের ফলাফলের ভিত্তিতে ১০০ নম্বরের মানদণ্ডে মূল্যায়ন করা হবে। নিয়োগ ও পদোন্নতির জন্য হবে বাছাই কমিটি। কমিটিতে অর্থমন্ত্রী বা অর্থ উপদেষ্টা, প্রধানমন্ত্রী বা প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এবং সংশ্লিষ্ট সচিবেরা থাকবেন। প্রয়োজনে উপকমিটি গঠন করা যাবে। বাছাই কমিটি প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নেবে এবং মেধাক্রম অনুযায়ী পদোন্নতি বা নিয়োগের সুপারিশ করবে।
নীতিমালায় বলা হয়েছে, নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বেতন ও ভাতাদি সরকার নির্ধারিত জাতীয় বেতন স্কেল অনুযায়ী দেওয়া হবে। চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের ক্ষেত্রে চুক্তির শর্তাবলি প্রযোজ্য। এ ছাড়া ছুটি, পেনশন, গ্র্যাচুইটি, গোষ্ঠীবিমা, আবাসন, গাড়ি সুবিধা ও উৎসাহ বোনাস প্রযোজ্য হবে। কোনো কর্মচারীর ওপর বিভাগীয় বা গুরুদণ্ডের মামলা থাকলে তিনি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত পদোন্নতির যোগ্য হবেন না।
পদত্যাগের ক্ষেত্রে এক মাসের নোটিশ বা সমপরিমাণ অর্থ দেওয়া বাধ্যতামূলক। চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হবে ‘সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮’ অনুযায়ী। অবসর গ্রহণও এ আইন অনুসারে হবে।