২৬ লাখ ছাড়াল ক্রেডিট কার্ড
দেশে ডিজিটাল লেনদেনের প্রসারের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার। সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে ইস্যু করা ক্রেডিট কার্ডের সংখ্যা ২৬ লাখ ছাড়িয়েছে। একই সঙ্গে কার্ডের অনিয়ন্ত্রিত সুদহার ও ঋণের সীমা নির্ধারণ করে গ্রাহক স্বার্থরক্ষায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
কার্ডের ব্যবহার ও লেনদেনের চিত্র
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত দেশে মোট ইস্যুকৃত ক্রেডিট কার্ডের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৬ লাখ ৭ হাজার ৮৩৩। এর মধ্যে সক্রিয় কার্ডের সংখ্যা প্রায় ১৯ লাখ।
ফেব্রুয়ারি মাসে ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরে ৩ হাজার ৩৬৩ কোটি ৯৫ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। অন্যদিকে বিদেশে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৩৩২ কোটি ৭৯ কোটি টাকা। পর্যটন, চিকিৎসা ও অনলাইন কেনাকাটার জন্য দেশের বাইরে কার্ডের ব্যবহার ক্রমেই জনপ্রিয় হচ্ছে।
নারী-পুরুষের ব্যবধান
ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষের মধ্যে বড় ব্যবধান লক্ষ করা গেছে। মোট কার্ডধারীদের মধ্যে ২০ লাখ ৩৬ হাজারের বেশি পুরুষ, যেখানে নারী কার্ডধারীর সংখ্যা মাত্র ৫ লাখ ৭১ হাজার। অর্থাৎ প্রায় ৭৮ শতাংশ কার্ডই পুরুষদের দখলে।
গ্রাহকদের জন্য সুখবর: সুদে লাগাম
সম্প্রতি (গত ১৫ মার্চ) বাংলাদেশ ব্যাংক ক্রেডিট কার্ড পরিচালনার বিষয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা জারি করেছে। এতে ব্যাংকগুলোকে কার্ডের বকেয়ার ওপর ২৫ শতাংশের বেশি সুদ না নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগে অনেক ব্যাংক এর চেয়েও বেশি সুদ আদায় করে এসেছে।
নতুন নীতিমালায় বলা হয়, গ্রাহক যদি বিলের আংশিক পরিশোধ করেন, তবে ব্যাংক শুধু ‘বকেয়া’ বা অনাদায়ী অংশের ওপরই সুদ ধরতে পারবে। পুরো বিলের ওপর সুদ আরোপ করা এখন থেকে নিষিদ্ধ।
ঋণের সীমা ও অন্যান্য নিয়ম
নীতিমালা অনুযায়ী, জামানতবিহীন ক্রেডিট কার্ডের ঋণসীমা সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে লিকুইড সিকিউরিটির (যেমন এফডিআর) বিপরীতে এই সীমা ৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। এ ছাড়া একজন গ্রাহক তাঁর কার্ডের মোট সীমার ৫০ শতাংশের বেশি নগদ টাকা উত্তোলন করতে পারবেন না।
গ্রাহকদের কার্ডের স্থায়িত্ব বাড়ানোর লক্ষ্যে একটি কার্ডের মেয়াদ এখন থেকে সর্বনিম্ন ৫ বছর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কেনাকাটায় পস মেশিনের বিস্তার
ক্রেডিট কার্ডে কেনাকাটা সহজ করতে দেশজুড়ে পস টার্মিনালের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪৬ হাজার ৫৩০। তবে শহরের তুলনায় গ্রাম এলাকায় এই সুবিধা এখনো সীমিত। মোট পস মেশিনের ১ লাখ ২৯ হাজারই শহর এলাকায় অবস্থিত, যেখানে পল্লী এলাকায় রয়েছে মাত্র ১৭ হাজার ৪৬৭টি।
খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, নতুন এই নীতিমালা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নজরদারির ফলে ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার আরও স্বচ্ছ ও গ্রাহকবান্ধব হবে, যা শেষ পর্যন্ত ‘ক্যাশলেস সোসাইটি’ গড়ার পথকে ত্বরান্বিত করবে।