অনিয়মের তথ্য পাওয়ায় ঋণপত্রগুলো স্থগিত করা হয়েছে। ব্যাংক যথাযথ নথিপত্র দিতে পারলে ছেড়ে দেওয়া হবে। না হলে তা স্থগিতই থাকবে। ডলার–সংকট মোকাবিলায় এসব পদক্ষেপ নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
সিরাজুল ইসলাম, নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র, বাংলাদেশ ব্যাংক

জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম গত রাতে প্রথম আলোকে বলেন, অনিয়মের তথ্য পাওয়ায় ঋণপত্রগুলো স্থগিত করা হয়েছে। ব্যাংক যথাযথ নথিপত্র দিতে পারলে ছেড়ে দেওয়া হবে। না হলে তা স্থগিতই থাকবে। ডলার–সংকট মোকাবিলায় এসব পদক্ষেপ নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

ডলার-সংকট নিরসনে গত বৃহস্পতিবার একসঙ্গে চারটি সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। সেগুলো হচ্ছে ব্যাংকের ডলার ধারণের সীমা (এনওপি) হ্রাস, রপ্তানিকারকের প্রত্যাবাসন কোটায় (ইআরকিউ) ধারণকৃত ডলারের ৫০ শতাংশ নগদায়ন, ইআরকিউ হিসাবে জমা রাখার সীমা কমিয়ে অর্ধেকে নামিয়ে আনা এবং অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটের বৈদেশিক মুদ্রার তহবিল অভ্যন্তরীণ ব্যাংকিং ইউনিটে স্থানান্তর। এ ছাড়া ৫০ লাখ ডলারের বেশি মূল্যের বেসরকারি যেকোনো আমদানি ঋণপত্র (এলসি) খোলার ২৪ ঘণ্টা আগে তা কেন্দ্রীয় ব্যাংককে জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

সংকট কিছুটা কমেছে

এদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিভিন্ন উদ্যোগের পর ডলার-সংকট কিছুটা কেটেছে। গতকাল সোমবার অনেক রপ্তানিকারক তাঁদের ইআরকিউ হিসেবে জমা থাকা ডলার বিক্রি করেছে। পাশাপাশি অনেক ব্যাংকও ডলার ছেড়েছে। এর ফলে এদিন বাজারে ডলারের সরবরাহ বেড়েছে।

তবে ব্যাংকগুলো গতকালও প্রবাসী আয় সংগ্রহে প্রতি ডলারে ১০০ টাকার কাছাকাছি দিয়েছে। আবার আমদানি ব্যয় মেটাতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছেও প্রতি ডলার ১০০ টাকায় কাছাকাছি দামে বিক্রি করেছে।

একজন আমদানিকারক প্রথম আলোকে জানান, গতকাল আমদানি দায় পরিশোধে ব্যাংক তাঁর কাছে প্রতি ডলারের দাম ধরেছে ৯৯ টাকা ৫০ পয়সা। ঋণপত্র (এলসি) খোলার সময়ে বলা হয়েছিল ডলারের দাম ৯৩ টাকা। প্রতি ডলারে এত টাকা বাড়লে পণ্যের দাম বাড়ানো ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।

এদিকে জ্বালানি তেল ও সার আমদানির দায় মেটাতে একাধিক ব্যাংকের কাছে ১০ কোটি ৫০ লাখ ডলার বিক্রি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রতি ডলারের দাম ধরা হয়েছে ৯৩ টাকা ৯৫ পয়সা।

জ্বালানি তেল ও ভোগ্যপণ্যের দাম বেড়ে সার্বিকভাবে আমদানি খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় ডলারের ওপর চাপ পড়েছে। আবার রপ্তানি বাড়লেও তা আমদানির মতো নয়। প্রবাসী আয়ও বাড়েনি, বরং তা কমেছে। ফলে দেশে ডলারের সংকট তৈরি হয়েছে। এতে বেড়ে গেছে প্রধান আন্তর্জাতিক মুদ্রাটির দাম। আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতি ডলারের দাম ৯৪ টাকার মধ্যে থাকলেও প্রবাসী আয় ও পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে ডলারের দাম ১০০ টাকা ছাড়িয়ে গেছে।

এদিকে ডলার-সংকট মেটাতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে প্রতিনিয়ত ডলার বিক্রি করে আসছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ফলে রিজার্ভ কমে এখন চার হাজার কোটি ডলারে নেমে এসেছে। রপ্তানি ও রেমিট্যান্স প্রবাহের তুলনায় আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় কয়েক মাস ধরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডলারের মজুতে চাপ বাড়ছে।

ডলার-সংকট নিরসনে এর আগে সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশভ্রমণ বন্ধ করা হয়। দামি গাড়ি, প্রসাধনী, স্বর্ণালংকার, তৈরি পোশাক, গৃহস্থালিতে ব্যবহার্য বৈদ্যুতিক সামগ্রী, পানীয়সহ ২৭ ধরনের পণ্য আমদানিকে নিরুৎসাহিত করতে ব্যাংকঋণ বন্ধ করে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে আমদানি খরচ কিছুটা কমবে বলে আশা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম বলেন, ডলার-সংকট কিছুটা কমেছে। তবে সরকারি আমদানির জন্য একাধিক ব্যাংকের কাছে ১০ কোটি ৫০ লাখ ডলার বিক্রি করা হয়েছে।

ব্যাংক থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন