কয়েকটি গ্রুপের কাছে একাধিক ব্যাংক জিম্মি হয়ে পড়া এবং বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নড়বড়ে অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিদর্শনব্যবস্থা বিষয়ে আব্দুর রউফ তালুকদার বলেন, ‘আজ আমি যোগদান করে ডেপুটি গভর্নর, বিএফআইইউ প্রধান, নির্বাহী পরিচালকদের সঙ্গে এসব বিষয়ে আলোচনা করেছি। পরিদর্শন বিষয়ে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে চাই, শিগগিরই তা দেখতে পাবেন।’
কোন কোন বিষয়গুলোকে বেশি গুরুত্ব দেবেন জানতে চাইলে নতুন গভর্নর বলেন, ‘আমাদের প্রধান কাজ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ। এটিই এখন বেশি গুরুত্ব পাবে। দ্বিতীয় কাজ বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময়হার স্থিতিশীল রাখা। এ জন্য আমদানি-রপ্তানির যে ব্যবধানটা আছে, তা কীভাবে কমিয়ে এনে নিয়ন্ত্রণ করা যায় সেই চেষ্টা করব। তৃতীয়ত বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়ানোর চেষ্টা করব। একসময় রিজার্ভ ৪৮ বিলিয়ন ডলারে উঠেছিল। মহামারি করোনা ও বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দা পরিস্থিতির কারণে রিজার্ভ এখন অনেক কমে গেছে। রিজার্ভকে একটি সন্তোষজনক অবস্থায় নিয়ে যাব। এ ছাড়া ফাইন্যান্সিয়াল স্ট্যাবিলিটি অর্থাৎ আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।’
নতুন গভর্নর বলেন, ‘বেশিরভাগ ব্যাংক ভালো অবস্থায় আছে, দু–একটি ছাড়া। এগুলো সংস্কার করব। এ ছাড়া নন–ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি মানুষের আস্থার যে অভাব, সেটি কীভাবে ফিরিয়ে আনা যায়, সে বিষয়ে কাজ করব। বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ না বাড়লে কর্মসংস্থান বাড়বে না, প্রবৃদ্ধিও হবে না। তাই বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়ে জোর দেব। বিশেষ করে সিএমএসএমই খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে কাজ করব।’

বর্তমান পরিস্থিতিতে দায়িত্ব নিয়ে কোনো ধরনের চাপ অনুভব করছেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে নতুন গভর্নর বলেন, ‘সরকারে থাকা অবস্থায় অনেক চাপে ছিলাম। করোনার মধ্যে অনেক সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পালিয়ে যাব না। আর কোন সময় কী সিদ্ধান্ত নিতে হয়, এটা আমরা ভালো করেই জানি।’

এর আগে সকালে নতুন কর্মস্থলে যোগ দেন আব্দুর রউফ তালুকদার। গত ১১ জুন তাঁকে গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। গভর্নর হিসেবে যোগদানের আগে তিনি অর্থ সচিবের দায়িত্বে ছিলেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের ১২তম গভর্নর হিসেবে তিনি সদ্যবিদায়ী গভর্নর ফজলে কবিরের স্থলাভিষিক্ত হন। যোগদানের পর তিনি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সভা করেন।

ব্যাংক থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন