প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রবাসী আয় সংগ্রহে দেশের ব্যাংকগুলোর মধ্যে শীর্ষে ছিল ইসলামী ব্যাংক। তবে চলমান সংকটে ব্যাংকটি শীর্ষস্থান থেকে ছিটকে পড়েছে। প্রবাসী আয়ে শীর্ষে উঠে এসেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক। প্রবাসী আয়সংক্রান্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের জুন মাসের ১৩ দিনের হিসাবে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
একদল গ্রাহকের টানা আন্দোলন, সংসদে সরকারি ও বিরোধী দলের উত্তপ্ত আলোচনা এবং গ্রাহকের আতঙ্কসহ নানা ঘটনার পর রোববার রাতে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ বাতিল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংকটির দায়িত্ব নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই কারণে আতঙ্কে অনেকে ব্যাংকটির হিসাব বন্ধ করে দিয়েছে। প্রবাসীরাও অনেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। এর প্রভাব পড়েছে প্রবাসী আয়ে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, চলতি মাসের প্রথম ১৩ দিনে প্রবাসী আয়ে শীর্ষে উঠে এসেছে কৃষি ব্যাংক। ব্যাংকটির মাধ্যমে আয় এসেছে ২৩ কোটি ৪০ লাখ ডলার। এরপর ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে আয় এসেছে ২১ কোটি ৩০ লাখ ডলার।
তবে সামগ্রিক প্রবাসী আয়ে এতে কোনো প্রভাব এখনো পড়েনি। চলতি মাসের প্রথম ১৫ দিনে আয় এসেছে ১৬২ কোটি ডলার, গত বছরের একই সময়ে এসেছিল ১৪৮ কোটি ডলার।
এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক দায়িত্ব নেওয়ার পর ইসলামী ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলনের চাপ কমে এসেছে। পাশাপাশি ব্যাংকটি পুরোনো গ্রাহকদের মাশুল মওকুফ করায় ফিরতে শুরু করেছেন কয়েক দিনে হিসাব বন্ধ করা গ্রাহকেরা। তাঁরা ব্যাংকটিতে আবার টাকা জমা করেছেন। তবে ব্যাংকটির চেক নিষ্পত্তি ও এটিএম ব্যবস্থা এখনো পুরোপুরি সচল হয়নি।
ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) আলতাফ হুসাইন গতকাল ব্যাংকটির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও বার্তায় বলেছেন, ‘বিগত কয়েক দিনের আকস্মিক ও অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু পরিস্থিতির কারণে আমাদের প্রাণপ্রিয় রেমিট্যান্স গ্রাহকদের যে সাময়িক কষ্ট ও অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়েছে, সে জন্য আমরা অত্যন্ত মর্মাহত এবং আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি।’ সংশয় বা দ্বিধা না রেখে আগের মতোই নির্ভয়ে ও নিশ্চিন্তে কষ্টার্জিত রেমিট্যান্স ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে পাঠানোর আহ্বান জানান তিনি।