বাংলাদেশে ‘আমেরিকান এক্সপ্রেস’(অ্যামেক্স)-এর মাধ্যমে আপনারা যে বাজার তৈরি করেছেন, সেখানে নতুন গ্রাহকদের সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা কী?
মাসরুর আরেফিন: অ্যামেক্স আমাদের ব্যাংকের জন্য একটি গর্বের ব্র্যান্ড। বর্তমানে আমাদের প্রায় ১০ লাখ অ্যামেক্স কার্ড গ্রাহক রয়েছেন। এই সংখ্যা আরও বাড়াতে আমরা ‘স্মার্ট লাইফস্টাইল’ ও ‘ডিজিটাল সুবিধা’র ওপর জোর দিচ্ছি। ইতিমধ্যে ভিসা ও মাস্টারকার্ডে চালু করা গুগল পে সেবা শিগগিরই অ্যামেক্স গ্রাহকদের জন্যও চালু হতে যাচ্ছে। এ ছাড়া তরুণ, ভ্রমণপ্রেমী ও উচ্চ আয়ের জন্য নিয়ে এসেছি অ্যামেক্স আলট্রামেরিন ক্রেডিট কার্ড, যা আন্তর্জাতিক ভ্রমণ, কেনাকাটা, এক্সক্লুসিভ অফার ও বিশেষ সেবায় নতুন মাত্রা যোগ করবে। আমরা গ্রাহকদের জন্য অফার ও অংশীদারত্ব বাড়িয়ে তাঁদের প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতা দেওয়ার চেষ্টা করছি। দেশের গ্রাহকদের ক্রমবর্ধমান ক্রয়ক্ষমতা এবং আন্তর্জাতিক মানের সেবা প্রত্যাশা অ্যামেক্স কার্ডকে আরও জনপ্রিয় করে তুলবে।
অনলাইন কেনাকাটা ও আন্তর্জাতিক লেনদেনের ক্ষেত্রে আপনাদের কার্ডগুলো কতটা গ্রাহকবান্ধব?
মাসরুর আরেফিন: গ্রাহকের স্বাচ্ছন্দ্য মাথায় রেখে আমাদের প্রতিটি কার্ডের সেবা চালু রয়েছে। যেমন সিটিম্যাক্স ডেবিট কার্ডে আন্তর্জাতিক লেনদেনে ১% ক্যাশব্যাক পাওয়া যায়। আবার অ্যামেক্স ক্রেডিট কার্ডে আছে মেম্বারশিপ রিওয়ার্ড পয়েন্টস। সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এনেছে আমাদের সিটিটাচ ডিজিটাল ব্যাংকিং অ্যাপ। গ্রাহক এখন কল সেন্টারে ফোন না দিয়েই নিজের আন্তর্জাতিক লেনদেন চালু বা বন্ধ করতে পারেন। এই ডিজিটাল ক্ষমতায়ন লেনদেনকে করেছে দ্রুত ও ঝামেলামুক্ত। এই সেবায় গুগল পে সেবা লেনদেনকে আরও সহজ ও নিরাপদ করবে।
আন্তর্জাতিক মানের ক্রেডিট কার্ড সুবিধার কতটা এখন দেশের গ্রাহকেরা ভোগ করতে পারছেন? নতুন নীতিমালা এ ক্ষেত্রে কতটা সহায়ক?
মাসরুর আরেফিন: আন্তর্জাতিক সুবিধার বড় একটি অংশই আমাদের গ্রাহকেরা পাচ্ছেন। এই সেবায় সিটি ব্যাংকের খরচের বড় অংশ ব্যয় হয় হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাউঞ্জ ব্যবস্থাপনায়। বিশ্বজুড়ে ‘প্রায়োরিটি পাস’ সুবিধা এখন গ্রাহকদের হাতের নাগালে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গাইডলাইন আমাদের বৈশ্বিক মানে উন্নীত হতে সহায়তা করেছে। জামানতবিহীন ক্রেডিট লিমিট ১০ লাখ থেকে বাড়িয়ে ২০ লাখ টাকা করায় একজন গ্রাহক এক কার্ডেই ১২ হাজার ডলারের ট্রাভেল কোটা ব্যবহার করতে পারছেন। আন্তর্জাতিক সেবার মতো প্রতিটি অনলাইন লেনদেনে ওটিপি ভেরিফিকেশন, উন্নত এনক্রিপশন ও ফ্রড মনিটরিং বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নীতিমালায় দেশের গ্রাহকেরা এখন আন্তর্জাতিক মানের নিরাপত্তা, সুরক্ষা, সুবিধা ও প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতা পাচ্ছেন।
কেনাকাটায় ছাড়ের বাইরেও একজন কার্ডধারী আসলে কী ধরনের আর্থিক সুবিধা পাচ্ছেন?
মাসরুর আরেফিন: ছাড়ের বাইরেও অ্যামেক্স কার্ডের রিওয়ার্ড পয়েন্ট দিয়ে বার্ষিক চার্জ মওকুফ, কার্ডের বিল পরিশোধ, ভ্রমণ ও শপিংয়ে ব্যবহার করা যায়। এ ছাড়া গোল্ড ও প্লাটিনাম কার্ডধারীদের জন্য রয়েছে বিনা মূল্যে আন্তর্জাতিক লাউঞ্জ সুবিধা। সেরা রেস্টুরেন্টগুলোতে বাই ওয়ান গেট থ্রি পর্যন্ত ফ্রি বুফে অফার এবং ফ্লেক্সিবাই–এর মাধ্যমে ০% সুদে ৩৬ মাস পর্যন্ত কিস্তি সুবিধা গ্রাহকদের বড় ধরনের আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্য দেয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় ঋণের সীমা বাড়ানো হয়েছে। লেনদেনে এর প্রভাব কেমন দেখছেন?
মাসরুর আরেফিন: জামানতবিহীন ক্রেডিট কার্ডের লিমিট ২০ লাখ টাকা করায় গ্রাহকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে। অনেকেই ইতিমধ্যে তাঁদের লিমিট বাড়িয়েছেন। তবে এর প্রকৃত প্রভাব বুঝতে আমাদের অন্তত আরও ছয় মাস সময় লাগবে।
‘সিটিটাচ’ অ্যাপের সঙ্গে কার্ডের সমন্বয় গ্রাহক অভিজ্ঞতাকে কতটা বদলে দিচ্ছে?
মাসরুর আরেফিন: সিটিটাচ বর্তমান সময়ের শীর্ষস্থানীয় ইন্টারনেট ব্যাংকিং অ্যাপ। এখন গ্রাহকেরা অ্যাপের মাধ্যমে কার্ডে আন্তর্জাতিক লেনদেন চালু বা বন্ধ করার পাশাপাশি বিল পরিশোধ করতে পারেন। নতুন কার্ড সচল করা, কার্ডে অর্জিত রিওয়ার্ড পয়েন্ট রিডিম করা, ফান্ড ট্রান্সফার ও কার্ড স্টেটমেন্ট ডাউনলোড ও কার্ড হারালে তাৎক্ষণিকভাবে ব্লক করা যায়, যা গ্রাহককে বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে।
কার্ডের বাজারে ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতার মধ্যে সিটি ব্যাংক কীভাবে নিজেদের ভিন্নতা বজায় রাখছে?
মাসরুর আরেফিন: দেশের ক্রেডিট কার্ড বাজারের প্রায় ২৫ শতাংশ সিটি ব্যাংক একাই নিয়ন্ত্রণ করে। আমাদের মূল শক্তি হলো একক অংশীদারত্বে অ্যামেক্স কার্ড ইস্যু ও অ্যাকুইয়ার করতে পারি। এ ছাড়া নিজস্ব বিমানবন্দর লাউঞ্জ, সুদক্ষ সেলস টিম এবং প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার আমাদের অন্যদের থেকে আলাদা করে রেখেছে।
ব্যবসায়ীরা কেন কিউআর কোড বা পস মেশিনে আগ্রহী হবেন? তাঁদের জন্য আপনাদের বিশেষ কী উদ্যোগ আছে?
মাসরুর আরেফিন: আমরা ব্যবসায়ীদের বিনা মূল্যে পস (পিওএস) মেশিন ও কিউআর কোড সরবরাহ করি এবং এর রক্ষণাবেক্ষণ খরচ ব্যাংক নিজেই বহন করে। এতে সহজ–নিরাপদ লেনদেন ও গ্রাহক সন্তুষ্টি বেশি। পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের বিক্রি বাড়াতে বিভিন্ন ক্যাশব্যাক, ডিসকাউন্ট ও প্রমোশনাল ক্যাম্পেইন পরিচালনা করি। বর্তমানে আমরা পসভিত্তিক ঋণ দেওয়ার একটি মডেল নিয়ে কাজ করছি, যা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের স্বল্পমেয়াদি মূলধন সংকটে বড় সহায়তা করবে। মূলত ব্যবসায়ীদের সঙ্গে একটি দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।