ন্যাশনাল ব্যাংকের সাবেক ভারপ্রাপ্ত এমডির অনিয়মের খোঁজে দুদক
ন্যাশনাল ব্যাংকের সাবেক ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এ এস এম বুলবুলের সময়ে দেওয়া নিয়োগ, শেয়ার ক্রয় ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিষয়ে তথ্য চেয়ে গত বুধবার ব্যাংককে চিঠি দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বেসরকারি খাতের ন্যাশনাল ব্যাংকের সাবেক ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এ এস এম বুলবুল এই পদে থাকাকালে কোনো অনিয়ম করেছেন কি না, সেটির তদন্ত শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তদন্তের অংশ হিসেবে ব্যাংকটির কাছে দুদক এই এমডির সময়ে দেওয়া নিয়োগ, শেয়ার ক্রয় ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিষয়ে তথ্য চেয়েছে। দেশে দুর্নীতি রোধ করার দায়িত্বে থাকা এই সরকারি সংস্থা গত বুধবার ব্যাংকটির কাছে এসব তথ্য চেয়ে চিঠি দিয়েছে।
মেয়াদ শেষের পরও এ এস এম বুলবুল ব্যাংকটির ভারপ্রাপ্ত এমডির দায়িত্ব পালন করেছিলেন। গত এপ্রিলে তাঁকে সরিয়ে দিতে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এরপর পর্ষদ তাঁর মেয়াদ বাড়িয়ে দিলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংক রাজি হয়নি।
দুদকের চিঠিতে এ এস এম বুলবুল পদে থাকাকালে মার্কেন্টাইল ইনস্যুরেন্স কোম্পানি ও ইন্দোবাংলা ফার্মাসিউটিক্যাল লিমিটেডের যে শেয়ার ব্যাংকের নামে কেনা হয়েছে সেটির যথাযথ অনুমোদন ছিল কি না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। অনুমোদন থাকলে তার নথিপত্র দিতে বলেছে সংস্থাটি। এ ছাড়া ওই সব শেয়ার কত টাকায় কেনা হয়েছে এবং শেয়ারের বর্তমান অবস্থাই-বা কী, তা জানাতে হবে।
এ ছাড়া এ এস এম বুলবুল পদে থাকাকালে ব্যাংকের প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির বিপরীতে নিয়োগপ্রাপ্তদের নাম-পদবি, পিতা-মাতার নাম, ঠিকানা ও বর্তমান কর্মস্থলের তথ্য চেয়েছে দুদক। পাশাপাশি ন্যাশনাল ব্যাংকে তাঁর ছেলেমেয়ের পাশাপাশি পরিবারের কোনো সদস্য নিয়োগ পেলে তাঁদের বিস্তারিত তথ্যও জানাতে বলেছে দুদক।
জানতে চাইলে এ এস এম বুলবুল বলেন, ‘আমি কখনো শেয়ার বিভাগের দায়িত্বে ছিলাম না। আর নিয়োগপ্রক্রিয়ার সঙ্গেও যুক্ত ছিলাম না। ফলে এসব অভিযোগ টিকবে না।
চাকরির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আমি এখন অবসর জীবন যাপন করছি। ঢাকায় একটি ফ্ল্যাটও নেই। এত টাকা থাকলে বিদেশে চলে যেতে পারতাম। এখন উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া মৌলভীবাজারের বাবার বাড়ি ঠিকঠাক করছি। সেখানেই চলে যাব।’
এ এস এম বুলবুল প্রথম আলোকে আরও বলেন, ‘সবার ছেলেমেয়ে ব্যাংকে চাকরি করে। আমার ছেলেমেয়েও করছে। এতে তো কোনো অন্যায় দেখছি না। ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেই তারা চাকরি পেয়েছে।’