বিদেশ ভ্রমণে সঙ্গী যখন ক্রেডিট কার্ড

বিদেশ–বিভুঁইয়ে নগদ লেনদেনে অনেক জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়। যাঁরা ব্যবসায়িক কিংবা অন্যান্য প্রয়োজনে বিদেশে ভ্রমণ করেন, তাঁদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্তমানে ক্রেডিট কার্ড না থাকলে বিদেশে অনেক ক্ষেত্রে অনাকাঙ্ক্ষিত সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। অনেক সময় হাতের কাছে মুদ্রা বিনিময় বা মানি এক্সচেঞ্জ পাওয়া যায় না। আবার সরাসরি মুদ্রা বিনিময়ে বাড়তি মাশুল গুনতে হয়। সঙ্গে যদি ক্রেডিট কার্ড থাকে, তাহলে এসব সমস্যা থেকে দূরে থাকা যায়।

এ ব্যাপারে সাউথইস্ট ব্যাংকের কার্ড বিভাগের প্রধান মো. আবদুছ সবুর খান প্রথম আলোকে বলেন, দেশের বাইরে গেলে গ্রাহকেরা ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে সরাসরি ও অনলাইনে কেনাকাটা, যাতায়াতের টিকিট, রেস্টুরেন্টে বিল ও উবারের ভাড়া পরিশোধ করতে পারেন। আবার বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে গ্রাহকেরা বিমানবন্দরে অপেক্ষমাণ সময়ে লাউঞ্জ ব্যবহারের সুবিধা পান। এ ছাড়া প্রয়োজন হলে এটিএম থেকে অর্থ উত্তোলন করতে পারেন তাঁরা।

আবদুছ সবুর আরও বলেন, ‘আমরা ১ লাখ ৪৫ হাজার ক্রেডিট কার্ড গ্রাহককে ১ বছর ধরে কন্ট্যাক্টলেস বা স্পর্শহীন কার্ডের সুবিধা দিচ্ছি। ক্রেডিট কার্ডের পাশাপাশি সম্প্রতি ডেবিট কার্ডেও এই সুবিধা চালু করেছি আমরা। আমাদের ক্রেডিট কার্ড গ্রাহকদের ৩০ শতাংশ লেনদেনই বিদেশি মুদ্রায় হয়ে থাকে। করোনার মধ্যে বিদেশি মুদ্রার ব্যবহার অনেক কমে গেলেও এখন আবার ধীরে ধীরে তা বাড়ছে।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের জানুয়ারি পর্যন্ত ৭ মাসে ক্রেডিট কার্ডে বিদেশি মুদ্রায় পয়েন্ট অব সেলস (পিওএস) যন্ত্রে লেনদেন হয়েছে ৫৯৬ কোটি ২ লাখ টাকা। আর গত বছরের একই সময়ে লেনদেন হয়েছিল ২৫৫ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, করোনার আগের পাঁচ বছরে বিদেশে ক্রেডিট কার্ডে লেনদেনের পরিমাণ ছিল হাজার কোটি টাকার ওপরে। এর মধ্যে ২০১৯-২০ অর্থবছরে পিওএসে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ২৬৬ কোটি টাকা। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এই পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৭০৩ কোটি টাকা।