আটার দাম এখন চালের সমান

আটা
প্রতীকী ছবি

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর নিত্যপণ্যের বাজার অস্থিতিশীল। চালের দাম বাড়ার পর এবার একলাফে কেজিতে পাঁচ থেকে ছয় টাকা বেড়েছে আটার দাম। তাতে এখন এক কেজি মোটা ও মাঝারি মানের চালের দামে কিনতে হবে এক কেজি প্যাকেটজাত আটা। আর খোলা আটা বিক্রি হচ্ছে এক কেজি মোটা চালের আশপাশে।

গতকাল রোববার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে নতুন দামের খোলা আটা বিক্রি হয়েছে কেজিতে ৫০ টাকা দরে। এর আগে কেজিপ্রতি খোলা আটার দাম ছিল ৪৪ থেকে ৪৫ টাকা। এদিকে বিপণনকারী কোম্পানিগুলো আটার দুই কেজির প্যাকেটের নতুন দাম নির্ধারণ করেছে। এখন ২ কেজির প্যাকেটজাত আটা মিলছে ১১২ থেকে ১১৫ টাকায়, যা আগের চেয়ে ১০ থেকে ১২ টাকা বেশি। এ হিসাবে প্যাকেটজাত ও খোলা উভয় আটায় প্রতি কেজিতে দাম বেড়েছে পাঁচ থেকে ছয় টাকা।

দেশের মানুষের প্রধান খাদ্যশস্য চাল। এরপরই রয়েছে আটা-ময়দা। এসব খাদ্যপণ্যের দাম নিয়মিত বাড়ছে। সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাবে, এক বছরে খোলা আটার দাম বেড়েছে ৫৮ শতাংশ। আর প্যাকেটজাত আটার দাম বেড়েছে ৫৪ শতাংশ। এদিকে এই দফায় এখনো ময়দার দাম না বাড়লেও গত এক বছরের ব্যবধানে খোলা ও প্যাকেটজাত ময়দার দাম বেড়েছে ৪৯ থেকে ৬৬ শতাংশ।

বাজারে কেজিপ্রতি মোটা ও মাঝারি চালের দামের কাছাকাছি ছিল আটার দাম। এবার সেটা সমান হয়ে এল। টিসিবির হিসাবে এখন বাজারে মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৫২ থেকে ৫৪ টাকা। আর মাঝারি মানের চাল বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৫৩ থেকে ৫৮ টাকায়।

টিসিবি বলছে, গত এক সপ্তাহ আগে বাজারে খোলা আটার দাম ছিল ৪০ থেকে ৪২ টাকা। আর প্যাকেটজাত আটার দাম ছিল ৪৮ থেকে ৫০ টাকা। তখনো আটা আর চালের দামে বেশ পার্থক্য ছিল। এখন খোলা ও প্যাকেটজাত আটার সঙ্গে মোটা ও মাঝারি মানের আটার কেজিপ্রতি দাম সমান হয়ে গেল।

কারওয়ান বাজারে লক্ষ্মীপুর স্টোরের রবিউল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, তেলের দাম বৃদ্ধির পর থেকে সব ধরনের পণ্যের দাম বাড়ছে। এর মধ্যে আটার দাম আরেক দফা বাড়ল। আর চালের দাম প্রায় প্রতিদিনই বাড়ছে।

দেশে বছরে প্রায় ৭৫ লাখ টন গমের চাহিদা আছে। এর প্রায় ৬৫ লাখ টন আমদানি হয়। কোম্পানিগুলো গম আমদানি করে আটা ও ময়দা প্যাকেটজাত করে বিক্রি করে। আবার খোলা অবস্থায়ও বিক্রি করে। এবার এক সঙ্গে খোলা ও প্যাকেটজাত আটার দাম বাড়ল।

এদিকে বাজারে প্রতি ডজন মুরগির ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকায়। আর ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিপ্রতি আরও ১০ টাকা বেড়ে
এখন বিক্রি হচ্ছে ২১০ টাকায়। বেড়েছে সোনালি মুরগির দামও। কেজিপ্রতি ২০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকায়।