ডিমের দাম গত মাসে ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ায় সরকার খামারমালিক ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করে। এরপর দ্রুত দাম কমে গিয়েছিল। অবশ্য আগের পর্যায়ে নামেনি। বাজারে ডিমের দাম সাধারণত প্রতি হালি ৩২ থেকে ৩৬ টাকা।

মুরগির দামও গত মাসে ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। ব্রয়লার মুরগির দর ওঠে প্রতি কেজি ২১০ টাকায়, যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কেজিতে ৬০ থেকে ৭০ টাকা বেশি। এ মাসের শুরুতে দরটি ১৫০ টাকায় নেমে যায়। এখন দর উঠেছে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায়। ফার্মের সোনালি জাতের মুরগির দাম কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩২০ টাকায়।

বাংলাদেশ এগ প্রডিউসার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি তাহের আহমেদ সিদ্দিকী প্রথম আলোকে বলেন, বেশ কিছু দিন ধরে ডিমের বাজার অস্থিতিশীল করতে একটি চক্র সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করছে। এই চক্রকে থামাতে হবে। এ জন্য নিয়মিত বাজার তদারকির বিকল্প নেই। তিনি বলেন, মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে এর আগেও সমস্যা দেখা দিয়েছিল। তখন সরকারের পদক্ষেপে দাম কমে যায়।

সবজির দাম

বাজারে এখন বেশির ভাগ সবজির দাম প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৮০ টাকা। এ দামে বিক্রি হচ্ছে করলা, বেগুন, ধুন্দুল, ঝিঙে, ঢ্যাঁড়শ, পটোল, চিচিঙ্গা, শশা ও মিষ্টিকুমড়া। তবে অমৌসুমে বাজারে আসা কিছু কিছু সবজির দাম আরও বেশি।

যেমন শিম কিনতে হচ্ছে কেজি ১৪০ থেকে ১৬০ টাকায়। মাঝারি আকারের জালিকুমড়া প্রতিটি ৫০ টাকা, লাউ ৫০ থেকে ৬০ টাকা ও কাঁচা মরিচ প্রতি কেজি ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা যায়।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে টানা বৃষ্টির কারণে সবজির খেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে দাম বেড়েছে।

মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজারের সবজি বিক্রেতা জাকির হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, বৃষ্টিবাদল হলে সবজির দাম বাড়ে। কারণ, তখন সবজি ওঠে কম। তবে এবার দাম বাড়লেও বাজারে সরবারহ মোটামুটি ভালো।

চাল, আটা ও মাছ

চালের দামের বড় কোনো পরিবর্তন নেই। তবে পাইকারিতে খোলা আটার দাম কেজিতে ২ টাকার মতো বেড়েছে। অন্যান্য পণ্যের দাম স্থিতিশীল।

গরুর মাংস কেনা যাচ্ছে প্রতি কেজি ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকায়। আর মানভেদে খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৯০০ থেকে ১ হাজার টাকায়। চাষের রুই মাছ আকারভেদে প্রতি কেজি ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকায়, পাঙাশ ও তেলাপিয়া ১৫০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

রাজধানীর কাঁঠালবাগান এলাকার বাসিন্দা গাড়িচালক আমিন আলী বলেন, সবকিছুর দাম বেড়েছে। কিন্তু এখন আর আগের মতো আলোচনা হচ্ছে না। অনেকের হয়তো সয়ে গেছে। তিনি বলেন, ‘আমার মতো নিম্ন আয়ের মানুষের কষ্ট কিন্তু বেড়েছে।’