ইউএস-বাংলার বহরে যুক্ত হবে ২১টি বোয়িং উড়োজাহাজ, বাড়বে আন্তর্জাতিক রুট
বেসরকারি বিমান পরিবহন সংস্থা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস ২০২৭ সালের মধ্যে বহরে ২১টি নতুন বোয়িং উড়োজাহাজ যুক্ত করার পরিকল্পনা নিয়েছে। একই সঙ্গে কুয়েত, বাহরাইন, মদিনা, দাম্মাম, কাঠমান্ডু, কলম্বো, হংকং এবং মালয়েশিয়ার জোহর বাহরু ও পেনাংসহ নতুন কয়েকটি আন্তর্জাতিক গন্তব্যে নিয়মিত ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে তারা।
আজ রোববার সন্ধ্যায় কক্সবাজারের একটি হোটেলে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ১২ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ২০১৪ সালে যশোর রুটে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালনার মাধ্যমে ইউএস-বাংলার যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে এর বহরে ২৫টি উড়োজাহাজ রয়েছে। এগুলো দিয়ে দেশের ছয়টি অভ্যন্তরীণ এবং ১০টি দেশের ১৪টি আন্তর্জাতিক গন্তব্যে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করা হচ্ছে। দেশি ও আন্তর্জাতিক রুট মিলিয়ে প্রতিদিন প্রায় ১০০টি ফ্লাইট পরিচালনা করা হচ্ছে।
আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, নিরাপত্তা, সেবার মান, পরিচালন দক্ষতা ও যাত্রীর সন্তুষ্টিকে গুরুত্ব দিয়ে ইউএস-বাংলা বাংলাদেশের প্রথম বেসরকারি এয়ারলাইনস হিসেবে আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থা (আইএটিএ) এবং আইওএসএর স্বীকৃতি অর্জন করেছে। স্বাধীনতার পর দেশের প্রথম বেসরকারি বিমান সংস্থা হিসেবে চীনের কোনো গন্তব্য, ভারতের চেন্নাই এবং মালদ্বীপের রাজধানী মালেতে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করছে ইউএস-বাংলা।
আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে ১৫ মিনিটের মধ্যে লাগেজ সরবরাহের প্রতিশ্রুতিও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে জানান ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের এই কর্মকর্তা।
আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ২০২৭ সালের মধ্যে ইউএস–বাংলার বহরে ২১টি নতুন বোয়িং উড়োজাহাজ যুক্ত হবে। এর মধ্যে ১৫টি বোয়িং ৭৩৭-৮ এবং ছয়টি বোয়িং ৭৩৭-৮০০ এনজি। নতুন উড়োজাহাজগুলো জ্বালানি সাশ্রয়ী, পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর হবে। তিনি আরও বলেন, বহর সম্প্রসারণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক রুটও বাড়ানো হবে। নতুন গন্তব্য হিসেবে কুয়েত, বাহরাইন, মদিনা, দাম্মাম, কাঠমান্ডু, কলম্বো, হংকং, জোহর বাহরু ও পেনাংয়ে ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রাজস্ব প্রদানকারী এয়ারলাইনস ইউএস-বাংলা। বর্তমানে আন্তর্জাতিক রুটে ইউএস-বাংলা ও রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থার সম্মিলিত বাজার হিস্যা প্রায় ২৫ শতাংশ। বাকি প্রায় ৭৫ শতাংশ বিদেশি এয়ারলাইনসের দখলে। বাংলাদেশি এয়ারলাইনসগুলোর আন্তর্জাতিক বাজারে অংশগ্রহণ বাড়ানো গেলে দেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।