স্মার্ট প্রযুক্তির চমক 

এসিতে যুক্ত হয়েছে নতুন নতুন প্রযুক্তি। এসব প্রযুক্তির তথ্য যাচাই করে পছন্দসই এসি কিনছেন ক্রেতারাছবি: প্রথম আলো

একসময় এয়ার কন্ডিশনার বা এসি মানেই ছিল কেবল ঘর ঠান্ডা করার একটি সাধারণ যন্ত্র। কিন্তু প্রযুক্তির অভাবনীয় উৎকর্ষে এসি এখন হয়ে উঠেছে ‘স্মার্ট’ এবং পরিবারের স্বাস্থ্য সুরক্ষার অন্যতম হাতিয়ার। রিমোটের বোতাম চাপার দিন এখন অতীত হতে চলেছে; এসি এখন মানুষের মুখের কথায় চলে, পৃথিবীর যেকোনো প্রান্ত থেকে স্মার্টফোনে নিয়ন্ত্রিত হয়, এমনকি ভেতরের বাতাসকে রাখে শতভাগ জীবাণুমুক্ত। ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে এবং জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্র্যান্ডগুলো এসিতে যুক্ত করছে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই), আইওটি এবং অত্যাধুনিক হেলথ কেয়ার প্রযুক্তি।

মুখের কথায় চলবে এসি 

দেশীয় ইলেকট্রনিক কোম্পানি ওয়ালটন এসির বাজারে নিয়ে এসেছে এক যুগান্তকারী উদ্ভাবন—প্যাটেন্ট করা ‘অফলাইন ভয়েস কন্ট্রোল’ প্রযুক্তি। এই প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, ইন্টারনেট বা অন্য কোনো ডিভাইস ছাড়াই কেবল মানুষের মুখের কথায় এসি চালানো এবং নিয়ন্ত্রণ করা যায়। পাশাপাশি তাদের এসিতে রয়েছে আইওটি সুবিধা, যার মাধ্যমে অফিসে বসেই স্মার্টফোনের সাহায্যে বাসার এসি চালু বা বন্ধ করা সম্ভব।

অন্যদিকে স্মার্ট প্রযুক্তিতে পিছিয়ে নেই ট্রান্সকম ডিজিটাল। তারা বাজারে এনেছে প্যানাসনিক এবং হায়ার-এর ‘গ্র্যাভিটি’ ও ‘ইন্টেলিকুল’ সিরিজের আধুনিক এসি। এই এসিগুলোতে ভয়েস কমান্ড ও ওয়াই–ফাই সুবিধা রয়েছে, যা ব্যবহারকারীকে দেয় এক প্রিমিয়াম স্মার্ট হোমের অভিজ্ঞতা।

নগরজীবনের দূষিত বাতাসের কথা মাথায় রেখে এখন ঘরকে নিরাপদ রাখতে কাজ করছে এসি। ইলেকট্রো মার্টের বাজারজাত করা শীর্ষস্থানীয় ব্র্যান্ড গ্রী তাদের এসিতে যুক্ত করেছে ‘কোল্ড প্লাজমা প্লাস’ প্রযুক্তি। এটি ঘরের বাতাসের ৯৯.৯৯ শতাংশ ব্যাকটেরিয়া ও জীবাণু ধ্বংস করতে সক্ষম। একই সঙ্গে এর ‘হিউমিডিটি কন্ট্রোলার’ বাতাসের আর্দ্রতা সঠিক রাখে, ফলে দীর্ঘক্ষণ এসিতে থাকলেও ত্বক শুষ্ক হওয়া বা অ্যালার্জির সমস্যা হয় না।

জীবাণু ধ্বংসে এক ধাপ এগিয়ে দেশীয় ব্র্যান্ড যমুনা ইলেকট্রনিকস। তারা ব্যবহার করছে বিল্ট-ইন তৃতীয় প্রজন্মের ইউভিসি লাইট এবং সিলভার আয়ন প্রযুক্তি। এটি বাতাসের ভাইরাস প্রতিহত করে প্রকৃতির মতো সতেজ বাতাস নিশ্চিত করে। এ ছাড়া তাদের ডি-জার্মিং ফিল্টার ঘরকে রাখে সম্পূর্ণ দুর্গন্ধমুক্ত।

অন্যদিকে ইলেকট্রা কোম্পানির এসিতে যুক্ত করা হয়েছে অত্যাধুনিক এয়ার ফিল্টার ও স্মার্ট এয়ারফ্লো সিস্টেম। এটি বাতাসের সূক্ষ্ম ধূলিকণা আটকে দেয় এবং ব্যালান্সড কুলিংয়ের মাধ্যমে পুরো ঘরে স্বাস্থ্যকর পরিবেশ বজায় রাখে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও স্বয়ংক্রিয় পরিচ্ছন্নতা

এসি নষ্ট হলে মেকানিক ডাকার ঝামেলাও এখন কমিয়ে আনছে আধুনিক প্রযুক্তি। ওয়ালটন এসিতে রয়েছে ‘এআই ডক্টর’ প্রযুক্তি। এসিতে কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে এই স্মার্ট এসি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিকটস্থ সার্ভিস সেন্টারে মেসেজ পাঠিয়ে দেয়, ফলে ব্যবহারকারী জানার আগেই সমাধান পৌঁছে যায় দোরগোড়ায়।

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ঝামেলা মেটাতে যমুনা এসিতে আছে ‘হাই-টেম্পারেচার সেলফ ক্লিনিং’ প্রযুক্তি, যা ৪টি স্বয়ংক্রিয় ধাপে ভেতরের বরফ ও ধুলা পরিষ্কার করে এয়ারফ্লো মসৃণ রাখে। এ ছাড়া সুরক্ষার জন্য ট্রান্সকমের এসিতে ব্যবহৃত হয়েছে স্মার্ট সেন্সর ও পিসিবি প্রোটেকশন। কোনো অস্বাভাবিক ভোল্টেজ বা ত্রুটি দেখলে এটি এরর কোড দেখিয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এসি বন্ধ করে দেয়, যা শর্টসার্কিট বা বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে বাঁচায়।

প্রযুক্তিগত এই যুগান্তকারী পরিবর্তনের ফলে এসি এখন আর শুধু আভিজাত্য বা আরামের বস্তু নয়, বরং আধুনিক ও সুস্থ জীবনযাপনের অন্যতম অপরিহার্য অনুষঙ্গ। দেশীয় আবহাওয়া এবং ক্রেতাদের চাহিদার কথা মাথায় রেখে উদ্ভাবিত অত্যাধুনিক প্রযুক্তি আছে ভিশন, এলিট–হাইটেক ও মিনিস্টার এসিতেও। দেশের এসির বাজার এখন বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে প্রস্তুত।