বৈশ্বিক বিজনেস কেস প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় রানারআপ বাংলাদেশের দল

বিইউপির টিম বাংলাদেশ এইচএসবিসি-এইচকেইউ বিজনেস কেস চ্যালেঞ্জ প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় রানারআপ হয়েছে। দলের সদস্যরা এইচএসবিসি এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের কো-চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার ডেভিড লিয়াও (ডানে) এবং এইচকেইউ বিজনেস স্কুলের ডিন অধ্যাপক হংবিন কাইয়ের (বাঁয়ে) কাছ থেকে ট্রফি নিচ্ছেনছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) ‘টিম বাংলাদেশ’ এইচএসবিসি-এইচকেইউ গ্লোবাল বিজনেস কেস চ্যালেঞ্জ ২০২৬-এ দ্বিতীয় রানারআপ হয়েছে। শাখাওয়াত সালিম, নাভিদ আবরার, মো. রিদওয়ান সাকিব আঞ্জুম এবং মোহাম্মদ ফাইয়াদ হোসাইনকে নিয়ে গঠিত বিইউপির দলটি হংকংয়ে অনুষ্ঠিত বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে।

গত এপ্রিলে দি হংকং অ্যান্ড সাংহাই ব্যাংকিং করপোরেশন (এইচএসবিসি) বাংলাদেশ ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত বিজনেস কেস প্রতিযোগিতা ২০২৬-এ চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় দলটি বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করে।

এইচএসবিসি এবং ইউনিভার্সিটি অব হংকং (এইচকেইউ)-এর যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই বৈশ্বিক প্রতিযোগিতাটি বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ আন্ডারগ্র্যাজুয়েট বিজনেস কেস প্রতিযোগিতা। এ বছর অস্ট্রেলিয়ার দল চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। থাইল্যান্ড প্রথম রানারআপ এবং বাংলাদেশ দ্বিতীয় রানারআপ হয়েছে।

এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চল এবং এই অঞ্চলের বাইরের বিভিন্ন দেশে আয়োজিত স্থানীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া ১২ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর মধ্য থেকে নির্বাচিত ২৪টি আন্ডারগ্র্যাজুয়েট দল ১ থেকে ৫ জুন পর্যন্ত হংকংয়ে অনুষ্ঠিত এইচএসবিসি-এইচকেইউ এশিয়া প্যাসিফিক বিজনেস কেস চ্যালেঞ্জ ২০২৬-এ অংশগ্রহণ করে।

এ বছর অংশগ্রহণকারী দলগুলো চারটি ভিন্ন ব্যবসায়িক কেস নিয়ে কাজ করে, যা বর্তমান সময়ে প্রতিষ্ঠানগুলোর মুখোমুখি হওয়া বাস্তব চ্যালেঞ্জগুলোকে প্রতিফলিত করে। এর মধ্যে ছিল একটি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানে প্রতিষ্ঠাতার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা থেকে উদ্ভূত ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, প্রাথমিক জনপ্রিয়তার পরও পপ মার্টের মুনাফা ধরে রাখা, হংকংয়ে স্টেবলকয়েন সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরির কৌশল প্রণয়ন এবং ইনফ্লুয়েন্সার-নির্ভর একটি ফ্যাশন ব্র্যান্ডকে বৈশ্বিক ব্যবসায় রূপান্তর পরিকল্পনা তৈরি।

এইচএসবিসির এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের কো-চিফ এক্সিকিউটিভ ডেভিড লিয়াও বলেন, ২০০৮ সাল থেকে এই কর্মসূচি বিশ্বব্যাপী এক লাখের বেশি শিক্ষার্থীকে দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ করে দিয়েছে। এ বছর এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের ২০টি বাজার থেকে আসা ২৪টি দলকে স্বাগত জানাতে পেরে আমরা আনন্দিত।

গত ১৪ বছরে এইচএসবিসি বিজনেস কেস প্রতিযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছে, যা তাদের ব্যবসায়িক জ্ঞান, সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা, নেতৃত্ব এবং যোগাযোগ দক্ষতা উন্নয়নে ভূমিকা রেখেছে। ২০১২ সালে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো এই বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে। তার পর থেকে এইচএসবিসি ৪৮ জন শিক্ষার্থীকে হংকংয়ে অনুষ্ঠিত এইচএসবিসি-এইচকেইউ গ্লোবাল বিজনেস কেস চ্যালেঞ্জে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য পৃষ্ঠপোষকতা ও সহায়তা প্রদান করেছে।

এইচএসবিসি বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহবুব উর রহমান বলেন, ‘বিশ্বের সেরা পারফরমারদের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান নিশ্চিত হওয়া আমাদের সবার জন্য গর্বের একটি মুহূর্ত। এই অর্জন আমাদের তরুণদের অসাধারণ সক্ষমতা ও সম্ভাবনার প্রমাণ এবং বাস্তবভিত্তিক ব্যবসায়িক দক্ষতা বিকাশে তাদের প্রতি ধারাবাহিক বিনিয়োগের গুরুত্বকে আরও দৃঢ়ভাবে তুলে ধরে।