সাত দিনব্যাপী বিসিকের বৈশাখী মেলা শুরু
বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) ও বাংলা একাডেমির যৌথ আয়োজনে শুরু হলো সাত দিনব্যাপী বৈশাখী মেলা। রাজধানীর বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ মেলায় রয়েছে ১৬০টি স্টল। এসব স্টলে কৃষিজাত পণ্য, কারুশিল্প, পাট, চামড়াজাত সামগ্রীসহ জামদানি, শতরঞ্জি ও শীতলপাটির মতো জিআই পণ্যও পাওয়া যাবে।
বিসিকের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়। এতে বলা হয়, আজ মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। আরও উপস্থিত ছিলেন বিসিকের চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলাম, বাংলা একাডেমির সভাপতি আবুল কাসেম ফজলুল হক ও মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, ‘পয়লা বৈশাখ আমাদের সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। আমরা এই আয়োজনকে দেশের সব প্রান্তে ছড়িয়ে দিতে চাই। তাহলে দেশের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের পণ্যের প্রসারের মাধ্যমে দেশি সংস্কৃতির প্রসার ও অর্থনীতিতে অবদান ত্বরান্বিত করতে পারব।’
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, ‘বৈশাখী মেলায় আসা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারাই আমাদের অর্থনীতির প্রাণ সঞ্চয় করছে। দেশের বিভিন্ন জায়গায় উদ্যোক্তারা অর্থনীতিতে টেনে নিয়ে চলছে, বাঁচিয়ে রাখছে। বিসিক ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের প্রসারে যথাযথভাবে কাজ করে আসছে। ভবিষ্যতে আমরা এসব উদ্যোক্তার আর্থিক সুবিধা, পণ্যের প্রচার-প্রসার, পণ্যের নতুন বাজার তৈরি ইত্যাদি নানা বিষয়ে কাজ করব।’
বিসিকের চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, সত্তরের দশকের শেষ দিক থেকে বিসিক ও বাংলা একাডেমি যৌথ উদ্যোগে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সহযোগিতার জন্য এই মেলা আয়োজন করে আসছে। মেলার মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর উৎপাদিত পণ্যের প্রচার-প্রসারে বিসিক কাজ করছে।
মেলায় ১৬০টি স্টলের মধ্যে চামড়াজাত পণ্যের ৭টি, জামদানি পণ্যের ৬টি, নকশিকাঁথার ৪টি, বস্ত্রের ৪৪টি, শতরঞ্জির ৫টি ও মণিপুরি শাড়ির ২টি স্টল রয়েছে। এ ছাড়া ১৩টি স্টলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর পণ্য বিক্রি ও ১টি স্টল কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনে বিনা মূল্যে রক্তদানের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। মেলা ২০ এপ্রিল পর্যন্ত মেলা প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। মেলায় কারুশিল্পী জোন, বাচ্চাদের রাইড ও বিনোদন জোন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, পুতুলনাচ ও বায়োস্কোপ দেখার সুযোগও রয়েছে।