চাকরি, শিক্ষা বা প্রশিক্ষণে না থাকা যুবকদের সংখ্যা বাংলাদেশে অনেক বেশি। বৈশ্বিক গড় হারের চেয়ে বাংলাদেশে এই হার ১৬ দশমিক ২ শতাংশ বেশি এবং দক্ষিণ এশিয়ার গড় হারের চেয়ে ৯ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি। আর এই যুবকদের বেশির ভাগই নিম্ন আয়ের পরিবার থেকে আসা। তাঁদের মধ্যে আবার যুবতীদের সংখ্যা বেশি, যাঁদের বেশির ভাগই বিবাহিত, যাঁরা মূলত দৈনন্দিন গৃহস্থালি কাজেই সময় ব্যয় করেন।

২৭ জুলাই রাজধানীর একটি হোটেলে একশনএইড বাংলাদেশ ও সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম) আয়োজিত ‘যুব জনগোষ্ঠীর আর্থসামাজিক ঝুঁকি: উন্নয়ন নীতি এবং বরাদ্দ পরিকল্পনা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন। তিনি বলেন, ২০৪১ সালের মধ্যে দেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করতে হলে যুবসমাজকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। যুবারা দেশের শক্তি, আগামী দিনে উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণের স্বপ্নের সারথি। তাঁদের অংশগ্রহণ দেশকে নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে সহায়তা করবে। এ জন্য সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাতকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

একশনএইড বাংলাদেশের প্রধান ফারাহ কবির অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। বলেন, ‘সমস্যা নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে, আমরা এখন সমাধানের দিকে যেতে চাই। সে জন্য আমরা স্থানীয় পর্যায়ে যেতে চাই। আর মানুষকে সচেতন করতেই একশনএইড গবেষণা করে থাকে।’ তাঁর আহ্বান, তাঁদের কাজ সঠিক ধারায় আছে কি না, তা পর্যালোচনা করা হোক।

সেমিনার সঞ্চালনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ও সানেমের নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান। তিনি বলেন, ‘জনসংখ্যার সুবিধা নিয়ে আমরা অনেক দিন ধরেই আলোচনা করছি। সময় আছে আরও ১৫ বছরের মতো, ব্যক্তিজীবনে ১৫ বছর অনেক সময় হলেও জাতীয় জীবনে তেমন কিছু নয়। কিন্তু যুবদের কাজে লাগাতে সরকারের নীতি থাকলেও বাস্তবায়ন নেই।’ এই পরিস্থিতিতে জনসংখ্যাগত সুবিধা পুরোপুরি কাজে লাগানো কঠিন বলেই তাঁর শঙ্কা।

অন্যদিকে নীতিপ্রণেতারা স্বাস্থ্য ও শিক্ষায় যে বরাদ্দ বৃদ্ধি পাচ্ছে না, এই বিষয়কে নীতিগত পক্ষাঘাত হিসেবে অভিহিত করেন সেলিম রায়হান।

আলোচক হিসেবে সরকারি কর্মকর্তা, উন্নয়নকর্মী, সংবাদমাধ্যমের কর্মী ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন