আজ রোববার আগামী বাজেট নিয়ে এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক ও অর্থনীতিবিদ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। ‘আসন্ন বাজেট নিয়ে জনমানুষের প্রত্যাশা’ শীর্ষক আলোচনা সভা আয়োজন করে এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম। অনলাইনে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সভায় বিশেষ বক্তব্য দেন নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য আরও বলেন, আগামী বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নয়, কর্মসংস্থান প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত। এ ছাড়া মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণেও বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ, জিনিসপত্রের দাম যেভাবে বেড়েছে, মানুষের আয় সেভাবে বাড়েনি। চলতি অর্থবছরে জিনিসপত্রের মূল্যবৃদ্ধি, বহির্বিশ্বের বাণিজ্য পরিস্থিতি ও যুদ্ধ অর্থনীতিকে নতুন চাপে ফেলেছে। তাই প্রথাগত বাজেট তৈরির ব্যত্যয় ঘটিয়ে বাজেট প্রণয়ন করতে হবে বলে তিনি মত দেন।

অনুষ্ঠানে সমাজের পিছিয়ে পড়া বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার মানুষ বক্তব্য দেন। প্রতিবন্ধীদের জন্য কাজ করা বেসরকারি সংস্থা সিএসআইডির প্রধান খন্দকার জহুরুল আলম মনে করেন, প্রতিবন্ধী সুবিধাভোগীর সংখ্যা বাড়ছে, টাকার পরিমাণ বাড়ছে না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রুবাইয়াত ফেরদৌস হিজড়াদের এসএমই ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা করার সুপারিশ করেন। উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থী লামিয়া আক্তার শিশুদের জন্য আলাদা বাজেট প্রত্যাশা করে।

দলিত সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি বিপ্লব চন্দ্র বলেন, দলিত সম্প্রদায়ের জন্য বাজেটে আবাসনের বরাদ্দ থাকা উচিত। আর বাজেটে আদিবাসীদের জন্য যে বরাদ্দ থাকে, তা বিচ্ছিন্ন বলে মনে করেন আদিবাসীদের প্রতিনিধিদের খোকন মুর্মু। এটা সহজে খুঁজে পাওয়া যায় না।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সীমা মুসলেম মনে করেন, করোনার সময় নারী উদ্যোক্তা ও শ্রমিকেরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাঁদের জন্য আলাদা কর্মসূচি নেওয়া উচিত।

নারীপক্ষের ব্যবস্থাপক সামিয়া আফরিন মনে করেন, নারীর গৃহস্থালি কাজকে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) হিসাবের মধ্যে আনতে হবে। জাতীয় আয় পরিমাপ পদ্ধতিতে সংস্কার আনা প্রয়োজন।

অর্থনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন