বাংলাদেশকে এখন বিনিয়োগের উত্তম জায়গা উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীদের এ দেশের বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানান। বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে প্রধান বিনিয়োগকারী। বাংলাদেশে দেশে-বিদেশি বিনিয়োগের ২০ শতাংশই হলো যুক্তরাষ্ট্রের। তাদের বিনিয়োগ মূলত এনার্জি তথা জ্বালানি খাতে। কিন্তু এখন যুক্তরাষ্ট্র অন্যান্য খাতেও বিনিয়োগ বাড়াতে পারে। কারণ, বাংলাদেশ বর্তমানে বিনিয়োগের জন্য একটি উত্তম জায়গা। এখানে বিনিয়োগের উপযুক্ত পরিবেশ রয়েছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে দক্ষ জনশক্তিও পাওয়া যাবে। যুক্তরাষ্ট্র সুযোগটি নিতে পারে।

এ কে আব্দুল মোমেন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের কাছে দুটি প্রস্তাব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা আমদানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের মাত্রাতিরিক্ত কর দিতে হয়। তাই উচ্চ করহার কমানো দরকার। দ্বিতীয় প্রস্তাবে তিনি জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় যৌথ বিনিয়োগের আহ্বান জানান। বলেন, বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া দেশগুলোর অন্যতম। তাই যুক্তরাষ্ট্র জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষতি মোকাবিলায় যৌথ বিনিয়োগ করতে পারে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, নদী খনন, স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন প্রভৃতি খাতে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করতে পারে। এতে দুই দেশই লাভবান হবে।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বাংলাদেশে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিরাজমান কয়েকটি দুর্বলতা তুলে ধরে তা কাটিয়ে উঠতে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোকে কাজ করার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের অর্থনীতি এখন অনেক শক্তিশালী। তবে এখনো এ দেশে কর জিডিপির অনুপাত বিশ্বে সর্বনিম্ন। এটা বাড়ানো উচিত। অন্যদিকে আমাদের বড় শেয়ার মার্কেট আছে, কিন্তু কোনো বন্ড মার্কেট নেই। এটা নিয়ে কাজ করা উচিত।’

প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা ব্যবসায়ীদের দেশের কৃষি ও প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বাজারও এখন অনেক বড়।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল আর মিলার বাংলাদেশে তাঁর দেশের ধারাবাহিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির তথ্য তুলে ধরে বলেন, বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের এখন আন্তর্জাতিক গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড অর্জনের সক্ষমতা রয়েছে।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স (অ্যামচেম) বাংলাদেশের সভাপতি সৈয়দ এরশাদ আহমেদ। অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অ্যামচেমের সাবেক সভাপতি মো. নূরুল ইসলাম, আফতাব উল ইসলাম, ফরেস্ট ই কুকসন প্রমুখ।

সংগঠনের রজতজয়ন্তী উদ্‌যাপন উপলক্ষে ১৩টি প্রতিষ্ঠানকে সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) কার্যক্রমের জন্য পুরস্কৃত করেছে অ্যামচেম। এর মধ্যে পুরস্কার পাওয়া সেরা তিন প্রতিষ্ঠান হলো স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক, কোকাকোলা বাংলাদেশ ও সিটি ব্যাংক লিমিটেড। অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে বাংলাট্র্যাক লিমিটেড, শেভরন বাংলাদেশ, ড্যাফোডিল কম্পিউটার্স, এনার্জিপ্যাক ও পাওয়ার জেনারেশন, লিডস করপোরেশন, মাস্টারকার্ড, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, মেটলাইফ বাংলাদেশ, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক ও থেরাপ বিডি লিমিটেড।

অর্থনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন