বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

তবে পরিবহন খরচের কারণে চট্টগ্রামের তুলনায় ঢাকায় রডের দাম প্রতি টনে অন্তত এক হাজার টাকা বেশি হয়। দেশের শীর্ষস্থানীয় রড উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সব কটিই চট্টগ্রামে অবস্থিত। ফলে চট্টগ্রাম থেকে রড যত দূরত্বে যায়, দামও তত বেশি পড়ে।

মোটাদাগে রডের ব্যবহার হয় ব্যক্তি খাতে বাড়ি ও অবকাঠামো নির্মাণ আর সরকারি খাতে অবকাঠামো ও আবাসিক ভবন নির্মাণে। প্রকল্পের কাজ সচল রাখতে বাড়তি ব্যয় মেনে নিতে হচ্ছে সংশ্লিষ্ট সবাইকে।

নির্মাণ খাতের ঠিকাদার ও ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কনস্ট্রাকশন ইন্ডাস্ট্রির (বিএসিআই) সাবেক সভাপতি খোরশেদ আলম বলেন, নভেম্বর থেকে ছয় মাস নির্মাণকাজের ভরা মৌসুম। এ সময়ে রডের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেক প্রকল্পের কাজ গতি হারাবে। এখন যদি সরকার চলমান প্রকল্পের কাজের মূল্য সমন্বয় না করে, তাহলে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে যাবে। কারণ, লোকসানে বেশি দিন কাজ চালিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে না।

করোনার প্রথম ধাক্কা কাটিয়ে গত বছরের নভেম্বরে যখন চাহিদা বাড়তে শুরু করে, তখন থেকেই মূলত দেশে রডের মূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে। অবশ্য তখন থেকে বিশ্ববাজারেও রডের কাঁচামালের দাম বাড়ছে। গত বছর নভেম্বরের শুরুতে দেশে কোম্পানিভেদে প্রতি টন রড বিক্রি হয়েছিল সাড়ে ৫২ থেকে সাড়ে ৫৫ হাজার টাকায়। এক বছরের ব্যবধানে রডের দাম বেড়েছে প্রায় ৪৬ শতাংশ।

জানতে চাইলে শীর্ষস্থানীয় রড উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বিএসআরএমের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) তপন সেনগুপ্ত প্রথম আলোকে বলেন, বিশ্ববাজারে রডের কাঁচামালের দাম না কমলে দেশে রডের দাম কমার সম্ভাবনা নেই। বিশ্ববাজারে এখন যে দরে কাঁচামাল বিক্রি হচ্ছে, তাতে দেশে এনে রড তৈরি করার পর উৎপাদন খরচ আরও বাড়বে। কাঁচামালের পাশাপাশি এখন ডলারের বিনিময় হার বেড়ে যাওয়ায় এবং জ্বালানির খরচ বৃদ্ধি পাওয়ার কারণেও রডের দামে প্রভাব পড়বে।

রড তৈরির কাঁচামালের ৯৫ শতাংশই আমদানি করতে হয়। সাধারণত কোম্পানিগুলো সরাসরি পুরোনো লোহার টুকরা আমদানি করে রড উৎপাদনের জন্য। এ ছাড়া জাহাজভাঙা কারখানায় ভাঙা পুরোনো জাহাজের লোহার টুকরাও রড উৎপাদনে ব্যবহার হয়। এই দুটি খাতের কাঁচামালের দাম গত বছরের নভেম্বর থেকে বাড়তির দিকে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাস্টমস বিভাগ ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ববাজারে গত বছরের নভেম্বরে প্রতি টন গলনশীল ভারী লোহার টুকরার (এইচএমএস) দাম ছিল ৩০৭ ডলার। এখন সেটি বেড়ে হয়েছে ৫৭৫ ডলারে। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে টনপ্রতি কাঁচামালের দাম বেড়েছে ২৬৮ ডলার বা ৮৭ শতাংশ। জাহাজভাঙা কারখানায় বর্তমানে প্রতি টন পুরোনো লোহার টুকরা বিক্রি হচ্ছে ৫৫ হাজার টাকায়।

সুইজারল্যান্ডভিত্তিক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান আইএমআর মেটালার্জিক্যাল রিসোর্সেস কোম্পানির বাংলাদেশের ব্যবসা উন্নয়ন ব্যবস্থাপক ইফতেখার আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, করোনার ধকল কাটিয়ে বিশ্ব অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করার পর থেকেই রডের কাঁচামালের দাম বাড়ছে। দুটি কারণে পুরোনো রডের কাঁচামাল তথা লোহার টুকরার দাম বাড়ছে। প্রথমত, এখন বৈশ্বিক চাহিদার তুলনায় বিশ্ববাজারে পুরোনো লোহার টুকরার সরবরাহ কম। দ্বিতীয়ত, সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহনের খরচ অস্বাভাবিক বেড়েছে। দাম মাঝেমধ্যে সংশোধিত হলেও আবার বেড়ে যায়।

অর্থনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন