বর্তমান বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ প্রেক্ষাপটে উচ্চ মূল্যস্ফীতি নতুন চ্যালেঞ্জ বলে মনে করে এডিবি। চলতি অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি বেড়ে গড়ে ৬ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে এডিবি। এই উচ্চ মূল্যস্ফীতি অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করছে। মূলত জ্বালানি তেল ও নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় মূল্যস্ফীতি বাড়ছে। এ ছাড়া বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি অভ্যন্তরীণ বাজারে প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ।

এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর এডিমন গিন্টিং বলেন, কোভিড-১৯-এর প্রেক্ষাপটেও বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। বাংলাদেশ আবার উচ্চ প্রবৃদ্ধির দিকে যাচ্ছে। তাঁর মতে, বাংলাদেশকে তিনটি বিষয়ে জোর দিতে হবে। প্রথমত, বাংলাদেশকে শুধু প্রবৃদ্ধি নয়, কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি করতে হবে। দ্বিতীয়ত, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে আরও বেশি জোর দিতে হবে। তৃতীয়ত, জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।

বাংলাদেশের মতো দেশে কর আদায় কঠিন, কিন্তু অসম্ভব নয়। বাংলাদেশের মতো দেশে রাজস্ব আদায় ব্যবস্থাপনায় সংস্কার আনতে রাজনৈতিক সদিচ্ছা প্রয়োজন।
সুন চ্যাঙ হং, সিনিয়র কান্ট্রি স্পেশালিস্ট, এডিবি

শ্রীলঙ্কা থেকে বাংলাদেশের কী শিক্ষা নেওয়া উচিত, এমন প্রশ্নের উত্তরে এডিমন গিন্টিং বলেন, সুদৃঢ় নীতি গ্রহণ করতে হবে। দুর্বল নীতি গ্রহণ করা যাবে না। এ ছাড়া কার্যকর রাজস্ব ব্যবস্থাপনা থাকলে যেকোনো আঘাত মোকাবিলা করা সম্ভব। যেমন অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে সম্পদ আহরণে জোর দিতে হবে, যা অর্থনীতিকে ধরে রাখতে সহায়তা করে।

এডিবির সিনিয়র কান্ট্রি স্পেশালিস্ট সুন চ্যাঙ হং মনে করেন, বাংলাদেশের মতো দেশে কর আদায় কঠিন, কিন্তু অসম্ভব নয়। বাংলাদেশের মতো দেশে রাজস্ব আদায় ব্যবস্থাপনায় সংস্কার আনতে রাজনৈতিক সদিচ্ছা প্রয়োজন।

এডিবির আউটলুকে আরও বলা হয়েছে, চলতি বছরে এশিয়ার গড় প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৫ দশমিক ২ শতাংশ। আগামী বছরে বেড়ে ৫ দশমিক ৩ শতাংশ হতে পারে। এ ছাড়া চলতি বছরে ভারতের সাড়ে ৭ শতাংশ ও চীনে ৩ দশমিক ৮ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে এডিবি।

অর্থনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন