default-image

করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মসংস্থান ধরে রাখতে ২৫ কোটি ডলার ঋণ দেবে বিশ্বব্যাংক। বর্তমান বাজারদরে টাকার পরিমাণ ২ হাজার ১২৫ কোটি টাকা। এই টাকা দিয়ে বিদ্যমান কর্মসংস্থান ধরে রাখার পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করে করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধার করা হবে। বিশ্বব্যাংকের থার্ড প্র্যাগমেটিক জবস ডেভেলপমেন্ট পলিসি ক্রেডিটের তৃতীয় কিস্তি হিসেবে অর্থ দেওয়া হচ্ছে।

আজ শনিবার (ওয়াশিংটন সময় ২৬ মার্চ) বিশ্বব্যাংকের বোর্ড সভায় ঋণের এই কিস্তি অনুমোদন করা হয়। আজ পাঠানো বিশ্বব্যাংকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

বিশ্বব্যাংকের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, করোনা সংকটের কারণে শ্রমজীবীদের অনেকেই বেকার হয়ে পড়েছেন কিংবা তাঁদের আয় কমে গেছে। বিশ্বব্যাংক তাঁদের এই সংকট কাটাতে সহায়তা করবে। বিশেষ করে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের ছোট ছোট উদ্যোক্তাদের সহায়তা করবে, যাতে ওই সব প্রতিষ্ঠান তাদের কর্মীদের মজুরি দিতে পারে। এভাবে বিশ্বব্যাংকের টাকায় ৫০ লাখ শ্রমজীবীর চাকরির অনিশ্চয়তা কাটবে।
বিশ্বব্যাংকের টাকায় দেশের ব্যবসায় শুরু করতে খরচ কমানোর কাজে লাগানো হবে। এ ছাড়া শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ শ্রমিক তৈরি করতে নানা সংস্কারমূলক কাজেও ব্যবহার করা হবে বিশ্বব্যাংকের অর্থ।

বিজ্ঞাপন
কর্মসংস্থান উন্নয়ন–সংক্রান্ত ঋণ কর্মসূচির মাধ্যমে মোট ৭৫ কোটি ডলার পাচ্ছে বাংলাদেশ। মোট তিন কিস্তির মধ্যে আজ তৃতীয় বা শেষ কিস্তির ২৫ কোটি ডলার অনুমোদন দিল বিশ্বব্যাংক।

বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর মার্সি টেম্বন বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নের প্রধান লক্ষ্য হলো কর্মসংস্থান। গত কয়েক বছরে বাংলাদেশে ভালো অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হয়েছে। তবে কর্মসংস্থানের গতি কম। বিশেষ করে উৎপাদন খাতে এই প্রবণতা বেশি দেখা গেছে। তিনি আরও বলেন, বিশ্বব্যাংকের অর্থে করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক খাতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে।

বিশ্বব্যাংকের কর্মসংস্থান উন্নয়ন–সংক্রান্ত ঋণ কর্মসূচির মাধ্যমে মোট ৭৫ কোটি ডলার পাচ্ছে বাংলাদেশ। মোট কিস্তিতে এই অর্থ দেওয়া হচ্ছে। আজ তৃতীয় বা শেষ কিস্তির ২৫ কোটি ডলার অনুমোদন দিল বিশ্বব্যাংক।

গত কয়েক বছরে বাংলাদেশে ভালো অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হয়েছে। তবে কর্মসংস্থানের গতি কম।
মার্সি টেম্বন, কান্ট্রি ডিরেক্টর, বিশ্বব্যাংক

বিশ্বব্যাংকের জেষ্ঠ্য অর্থনীতিবিদ এলিন কৌডুয়েল বলেন, করোনায় বহু শ্রমজীবী মানুষ কাজ হারিয়েছেন। অনেকের আয় কমেছে। বিশেষ করে শ্রমবাজারে নারীরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে আছেন। তিনি বলেন, বিশ্বব্যাংকের টাকায় বেশ কিছু শিশু দিবাযত্নকেন্দ্র নির্মাণ করা হবে, যেন নারীরা চিন্তা মুক্তভাবে শ্রমবাজারে আসতে পারেন।

চলতি মাসের শুরুতে করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত শহরের তরুণ জনগোষ্ঠী এবং দেশে ফিরে আসার প্রবাসীদের কর্মসংস্থানে অর্থ সহায়তা দিতে ২০ কোটি ডলার ঋণ অনুমোদন করেছে বিশ্বব্যাংক। এ ছাড়া টিকা কেনায়ও ৫০ কোটি ডলার ঋণ দিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

বিজ্ঞাপন
অর্থনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন