কর মেলা হচ্ছে না, রিটার্ন দিতে হবে কর অঞ্চলে

করোনার আগে করমেলায় করদাতাদের ভিড়
প্রথম আলোর ফাইল ছবি

ফেরদৌস ইফতেখার পেশায় ছোটখাটো ব্যবসায়ী। আগে সরকারি প্রকল্পে প্রশিক্ষকের চাকরি করতেন, কিন্তু করোনার কারণে প্রশিক্ষণ বন্ধ থাকায় এখন ব্যবসা করেন। এক দশক ধরে তিনি নিয়মিত কর দেন। প্রতিবছর বেইলি রোডের অফিসার্স ক্লাবের কর মেলায় গিয়ে বার্ষিক আয়কর জমা দেন। গতবার কর মেলা না হওয়ায় কর কার্যালয়ে গিয়ে রিটার্ন দিতে হয়েছে। এবার আশায় ছিলেন কর মেলা হবে। ঝক্কিঝামেলাহীনভাবে কর দিতে পারবেন।

কিন্তু জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে এবারও কর মেলা হবে না। তাতে ফেরদৌস ইফতেখারদের মতো করদাতাদের মনের কোণে ভোগান্তির দুশ্চিন্তা দেখা দিয়েছে। ফেরদৌস ইফতেখার প্রথম আলোকে বলেন, কর মেলায় রিটার্ন দিলে কোনো ঝামেলা হয় না। বিনা পয়সায় রিটার্ন দেওয়া যায়। কিন্তু কর কার্যালয়ে রিটার্ন দিতে গেলে ভোগান্তির শঙ্কা থাকে। কর মেলায় নজরদারি থাকে বলে হয়রানির সুযোগ কম থাকে।

২০১০ সাল থেকে প্রতিবছর কর মেলা আয়োজন করে আসছে এনবিআর। এরই মধ্যে এই কর মেলা সাধারণ করদাতাদের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়েছে। কর মেলা না হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে এনবিআরের আয়কর বিভাগের সদস্য মো. গোলাম নবী প্রথম আলোকে বলেন, করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় এবারও কর মেলা হচ্ছে না। করদাতারা নিজ নিজ কর অঞ্চলে গিয়ে রিটার্ন দিতে পারবেন। সেখানে সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হবে।

কর মেলা না হলেও করদাতারা যাতে প্রতিটি কর অঞ্চলে মেলার পরিবেশ পান, সে জন্য সম্প্রতি কর অঞ্চলগুলোকে নির্দেশ দেয় এনবিআর। একাধিক কর অঞ্চলের কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাঁরা কর অঞ্চলে উৎসবের আমেজ তৈরির প্রস্তুতি নিচ্ছেন। নভেম্বর মাসের শেষ দুই সপ্তাহ প্রতিটি কর অঞ্চলে মেলার পরিবেশ তৈরি করা হবে। তবে ব্যাংকের বুথের ব্যবস্থা থাকবে না বলে জানিয়েছেন একাধিক কর কর্মকর্তা। শুধু রিটার্ন জমা করতে পারবেন করদাতারা।

সাধারণত নভেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে রাজধানী ঢাকা, বিভাগ, জেলা, উপজেলাসহ দেশজুড়ে কর মেলার আয়োজন করা হয়ে থাকে। দক্ষিণ এশিয়ায় শুধু বাংলাদেশেই করদাতাদের জন্য এ ধরনের কর মেলার আয়োজন করা হয়। সর্বশেষ ২০১৯ সালের কর মেলায় ৬ লাখ ৫৫ হাজার করদাতা বার্ষিক রিটার্ন জমা দেন। ওই বছর ২৫ লাখের মতো রিটার্ন জমা পড়েছিল।