কিন্তু এত দিন ডব্লিউটিওর বিভিন্ন ফোরামে এ নিয়ে আলোচনা হলেও সিদ্ধান্ত হয়নি। শেষমেশ ১২তম মন্ত্রী পর্যায়ে বৈঠকে এ নিয়ে সিদ্ধান্ত হলো। তবে এমন সময়ে এই মেধাস্বত্বে ছাড় দেওয়া হলো, যখন কোভিডের প্রাদুর্ভাব অনেকটাই কমে এসেছে, যদিও তা একেবারে নির্মূল হয়ে যায়নি। বাংলাদেশেও আবার সংক্রমণ বাড়তে শুরু করেছে। বিশ্লেষকেরা মনে করেন, ২০২০ সালের শেষ দিকে এই ছাড় দেওয়া হলে টিকার উৎপাদন ও বিতরণে আরও গতি আসত।

এলডিসির চাহিদা নিয়ে ঐকমত্য

১২তম মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক থেকে এলডিসিভুক্ত দেশগুলোর প্রত্যাশা ছিল অনেক বেশি। উত্তরণপ্রক্রিয়া টেকসই করতে তারা এলডিসি–সুবিধা আরও ১২ বছর সম্প্রসারণের দাবি করেছিল। গত দুই বছরে বাংলাদেশসহ অন্যান্য উত্তরণ-প্রত্যাশী দেশগুলো ৬-৯ বছর পর্যন্ত সুবিধা দাবি করে আসছিল। জেনেভা প্যাকেজে এই সুবিধা কত দিন বাড়ানো হবে, তা নিয়ে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা না থাকলেও বড় দেশগুলো এলডিসি উত্তরণকালীন এই সুবিধার প্রয়োজনীয়তা মেনে নিয়েছে। বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, এতে অন্তত একটি জানালা খুলে গেল। এতে বাংলাদেশসহ অন্যান্য এলডিসি উত্তরণকারী দেশগুলো এ নিয়ে আলাপ-আলোচনার ভিত্তি পাবে। ধারণা করা হচ্ছে, ১৩তম মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা আসবে।

তবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন আরও আগেই জানিয়েছে, উত্তরণকারী দেশগুলোকে তারা আরও তিন বছর অগ্রাধিকারমূলক বাজারসুবিধা দেবে।

ই-কমার্সে শুল্ক

বৈঠকের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হচ্ছে, ই-কমার্সের পণ্য আমদানিতে কবে থেকে শুল্ক আরোপ করা যাবে, সে বিষয়ে একধরনের ঐকমত্য। ১৯৯৮ সালে ডব্লিউটিওর এক ঐকমত্য অনুসারে, ই-কমার্সের পণ্য আমদানিতে শুল্ক আরোপ করা যায় না। কিন্তু এতে উন্নয়নশীল দেশগুলো বড় ধরনের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এমনকি আঙ্কটাড এ নিয়ে প্রতিবেদনও করেছিল। এবার সিদ্ধান্ত হয়েছে, অন্তত পরবর্তী মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক পর্যন্ত ই-কমার্সের পণ্যে শুল্ক আরোপ করা যাবে না। তবে পরবর্তী বৈঠকে শেষমেশ সিদ্ধান্ত না হলেও ২০২৪ সালের ৩১ মার্চের পর এ সিদ্ধান্ত আর কার্যকর থাকবে না। মূলত ভারতের চাপাচাপিতে এ সিদ্ধান্ত হলেও বাংলাদেশও এ থেকে লাভবান হবে।

খাদ্যনিরাপত্তা

সংকটের সময় খাদ্য উৎপাদনকারী দেশগুলো যেন রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা না দেয়, এলডিসি দেশগুলো এমন দাবি জানিয়েছিল। কিন্তু শেষমেশ জেনেভা প্যাকেজে তেমন ঘোষণা না এলেও বলা হয়েছে, জাতিসংঘের খাদ্য কর্মসূচি সংকটের সময় খাদ্য উৎপাদনকারী দেশের কাছ থেকে খাদ্য কিনতে চাইলে না করা যাবে না। জাতিসংঘের খাদ্য কর্মসূচিতে কত খাদ্যশস্য পাঠাতে হবে, সে বিষয়ে নিয়ম জারির পক্ষে একমত হতেও প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছে সদস্যদেশগুলো। ঠিক হয়েছে, সেই সরবরাহের পরিমাণ ঠিক হবে দেশের নিজস্ব চাহিদা বুঝে। এতে সংকটের সময় খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার পথ কিছুটা প্রশস্ত হলো বলেই মনে করেন বিশ্লেষকেরা।

বিশ্লেষকেরা বলেন, এবারের বেশ কিছু সিদ্ধান্তে বাংলাদেশ লাভবান হবে। প্রথমত, কোভিড টিকা উৎপাদনের সুযোগ এসেছে; দ্বিতীয়ত, এলডিসি–সুবিধা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনার বাতাবরণ পাওয়া গেছে; তৃতীয়ত, ই-কমার্সের পণ্য আমদানিতে শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তে শুল্ক বৃদ্ধির সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে।

অর্থনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন