default-image

গ্রামের বুক চিরে চলে গেছে আঁকাবাঁকা পথ। দুপাশে গোলাপের বিস্তীর্ণ বাগান। তাই তো সাভার উপজেলার বিরুলিয়া ইউনিয়নের শ্যামপুর, সাদুল্লাহপুর, মৈস্তাপাড়া, বাগ্নিবাড়ি, বাটুলিয়া, কমলাপুর ও আরাবাগ এখন ‘গোলাপ গ্রাম’ নামেই সমধিক পরিচিত। অবশ্য গোলাপের মাঝেমধ্যে কিছু গ্ল্যাডিওলাস, চন্দ্রমল্লিকা, জিপসি ও জারাবেরার বাগানও রয়েছে এসব গ্রামে। বসন্ত উৎসব ও বিশ্ব ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে সব ধরনের ফুলের প্রধান গন্তব্য ঢাকা।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বিরুলিয়ার গ্রামগুলোতে ৩৫০ হেক্টর জমিতে গোলাপের চাষ হয়েছে। আর গোলাপ চাষে জড়িত আছেন প্রায় দেড় হাজার কৃষক।

বিজ্ঞাপন

গোলাপ বিক্রির জন্য শ্যামপুর ও মৈস্তাপাড়ায় গড়ে উঠেছে ফুলের বাজার। চাষিরা বাগান থেকে ফুল তুলে বিকেলের মধ্যেই বাজারে নিয়ে যান। প্রতিদিন সন্ধ্যা সাতটা থেকে ১০টা পর্যন্ত চলে ফুল বেচাকেনা। স্থানীয় ফড়িয়ারা দুই বাজার থেকে ফুল কিনে সরাসরি রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে নিয়ে বিক্রি করেন।

শ্যামপুরের কৃষক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ফুলের বাজার সবচেয়ে ভালো যায় আগস্ট থেকে মার্চ পর্যন্ত আট মাস।

আরেক কৃষক আবু সাঈদ বলেন, ১৬ ডিসেম্বর, খ্রিষ্টীয় নববর্ষ, পয়লা ফাল্গুন, ভালোবাসা দিবস, ২১ ফেব্রুয়ারি ও ২৬ মার্চ—এসব দিবসেই সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়। এসব উৎসবের সময় প্রতিটি গোলাপ পাঁচ থেকে আট টাকায় বিক্রি হয়। এপ্রিল-জুলাই চার মাসে প্রতিটি গোলাপ বিক্রি হয় ২৫ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ২ টাকায়।

চাষিরা জানান, গোলাপের চাহিদা ও দাম কমে যাওয়ার কারণে তাঁরা অনেকেই ইতিমধ্যে গ্ল্যাডিওলাস, জারাবেরাসহ অন্যান্য ফুলের আবাদ শুরু করেছেন।

ভবানীপুরের কৃষক বশির আহমেদ আগে গোলাপের আবাদ করলেও এবার আরাবাগে পাঁচ বিঘা জমিতে জারবেরা চাষ করেছেন। তিনি বলেন, পাঁচ বিঘা জমি থেকে প্রতি মাসে চার-পাঁচ লাখ টাকার ফুল বিক্রি হবে বলে আশা তাঁর।

বিজ্ঞাপন
অর্থনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন