বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

কয়েকজন পাইকারি ব্যবসায়ী জানান, মফস্বলে খুচরা পর্যায়ে বেচাবিক্রি জমে উঠলেও ব্যবসায়ীরা এখনো সশরীর কেনাকাটা করতে চকবাজারে আসছেন। তবে মফস্বলের ক্রেতার বড় অংশই যানজটের কারণে বারবার চকবাজারের আসতে চান না। তাঁরা মুঠোফোনে ক্রয়াদেশ দেন। সে অনুযায়ী কুরিয়ার সার্ভিসে পণ্য পাঠানো হয়। বর্তমানে অধিকাংশ দোকানিই কুরিয়ারে জেলা-উপজেলার পাইকারদের কাছে পণ্য পাঠাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

সেদিন চকবাজারে পণ্য কিনতে আসেন শরীয়তপুরের খুচরা ব্যবসায়ী নাজিমুদ্দিন। তিনি প্রথম আলোকে বললেন, ‘আমরা মূলত ঈদবাজার বা বিভিন্ন মেলাকেন্দ্রিক ব্যবসা করে থাকি। ঈদের সময় খেলনা আইটেমের বাজার ভালো থাকে। তাই চকবাজারে খেলনা কিনতে এসেছি। কারণ, এখানকার পণ্যে অর্ধেকের বেশি লাভ করা যায়।’

চকবাজারে যে শুধু ঢাকার বাইরের ব্যবসায়ীরা পণ্য কিনতে আসেন, তা নয়। মফস্বল থেকে অনেক কুটির ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা পণ্য বিক্রি করতেও আসেন। তারা মূলত চকবাজারের ব্যবসায়ীদের কাছে পাইকারি দামে পণ্য বিক্রি করেন। অনেকে আবার বিক্রি হওয়ার পর অর্থ পাবেন, এমন শর্তেও পণ্য দিয়ে যান।

নাটোর থেকে আসা সাদ্দাম হোসেনকে দেখা গেল দোকানে দোকানে ঘুরে মাটি, বাঁশ ও কাগজ দিয়ে তৈরি গ্রামীণ খেলনা বিক্রি করছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা সারা দেশেই খেলনা বিক্রি করি। তবে চকবাজারে এলে পণ্য দ্রুত বিক্রি হয়ে যায়। আজই ৩৫ প্যাকেট (৩ হাজার ৫০০টি) বিক্রি করেছি। বাকি যে খেলনা আছে তার সবই ঈদের আগে চকবাজারে বিক্রি করতে পারবেন বলে জানান তিনি।

default-image

অবশ্য গ্রামীণ খেলনার চেয়ে প্লাস্টিকের খেলনাই বেশি বিক্রি হয়। ভাই ভাই স্টোরের বিক্রয়কর্মী সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমাদের এখানে পাঁচ টাকা থেকে এক হাজার টাকা দামের খেলনা পাবেন। মফস্বলের ক্রেতারাই বেশি আসেন। তাঁরা কম দামের প্লাস্টিকের খেলনা চান। তাই আমরা এবার বেলুন বাঁশি, ফুঁ পাখি, ক্যারকিরি, পাখা চরকি, বাবল, প্লাস্টিকের ঢোল-তবলা ও ম্যাজিক বলের মতো খেলনা আইটেম উঠিয়েছি। বিক্রি হচ্ছে মোটামুটি। আরেকটু ভালো আশা করেছিলাম।’

ঢাকায় ইমিটেশন জুয়েলারি ও কসমেটিকসের বড় পাইকারি বাজার হচ্ছে চকবাজার। পাশের মৌলভীবাজারের কয়েকটি মার্কেটেও এসব দোকান ছড়িয়ে পড়েছে। যদিও অনেক পণ্যের মান নিয়েও আছে প্রশ্ন। তবে বিক্রিবাট্টা ভালোই হচ্ছে। বিসমিল্লাহ স্টোরের জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এবার টিউব মেহেদি, নেইল পলিশ, লিপস্টিকের বাজার বেশ ভালো। ঈদের আগ পর্যন্ত আমাদের বেচাকেনা চলবে। তবে ২০ রোজা পর্যন্ত ক্রেতা বেশি থাকে।

মনিহারি পণ্যের পাশাপাশি চকবাজারে আতর, সুরমা, টুপি, তসবি, মেসওয়াক, জায়নামাজ ও পাগড়ি পাইকারি বিক্রি হয়। কয়েক ব্যবসায়ী জানান, এখন পর্যন্ত এসব পণ্য বিক্রির গতি তুলনামূলক কম।

সুন্নতি আতর অ্যান্ড ক্যাপ হাউসের মালিক দুলাল সরকার বলেন, আতর শৌখিন পণ্য। সব সময় বিক্রি হয় না। তবে রোজার মাসে বিক্রি বাড়ে। এবার সেটি হয়নি। করোনার পরে এবার ব্যবসায়ীরা ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে চাচ্ছিলেন। কিন্তু পণ্যের চাহিদা কম থাকায় সেটি হয়তো হবে না। তবে ঈদের আগে এক দফা বিক্রি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। পাশের রেজাউল আতর অ্যান্ড ক্যাপ হাউসের মালিক রেজাউল ইসলামও একই কথা বলেন।

চকবাজারের ব্যবসা কেমন চলছে জানতে চাইলে বাংলাদেশ মনিহারি বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. ফয়েজুদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, গত দুই বছরের তুলনায় এবার বেচাকেনা ভালো। তবে ব্যবসা কেমন হলো সেটা ২০ রোজা শেষে বলা যাবে।

অর্থনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন