সব প্রকল্প ২০১৭ ও ২০১৮ সালে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে গোবড়াকুড়া-কড়ইতলি স্থলবন্দর উন্নয়নের কাজ আগামী জুন মাসের মধ্যেই শেষ হবে। বাকি প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি মাত্র ৯ থেকে ৩৬ শতাংশ। প্রকল্পগুলো শেষ হলে পণ্যবাহী ট্রাক সহজেই মালামাল খালাস ও বোঝাই করতে পারবে।

কেন যথাসময়ে প্রকল্প শেষ হচ্ছে না, জানতে চাইলে বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. আলমগীর বলেন, ‘নো ম্যান্স ল্যান্ডের (শূন্যরেখা) ১৫০ গজের মধ্যে অবকাঠামো নির্মাণের অভিযোগে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী অবকাঠামো তৈরিতে আপত্তি জানায়। অনেক
সময় তাঁরা জানতে চান, কী অবকাঠামো নির্মাণ করা হচ্ছে। নকশা দেখতে চান। আমরা এসব সমস্যার সমাধান করেই প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ এগিয়ে নিচ্ছি।’

১৯৭৪ সালের বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার চুক্তি অনুযায়ী, নোম্যান্স ল্যান্ডের ১৫০ গজের মধ্যে কোনো অবকাঠামো নির্মাণ করা যাবে না। পরে ২০১৭ সালে দুই দেশের মতামত বা অনাপত্তি সাপেক্ষে অবকাঠামো নির্মাণের সুযোগ রাখা হয়। এ নিয়ে দুই দেশের শীর্ষ নেতার যৌথ বিবৃতির (জয়েন্ট কমিউনিক) মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান করার কথা বলা হয়। এ জন্য উভয় দেশ নিজেদের অবকাঠামো নকশা পরস্পরকে দেখিয়ে নেবে।

বেনাপোলের কার্গো টার্মিনালের অগ্রগতি সবচেয়ে কম

বেনাপোল স্থলবন্দরের কার্গো ভেহিকেল টার্মিনাল নির্মাণের প্রকল্প নেওয়া হয় ২০১৯ সালের জুলাইয়ে। ২৯০ কোটি টাকার এ প্রকল্প শেষ হওয়ার কথা চলতি বছরের জুনে। স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ হিসাবে, গত ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত আড়াই বছরে খরচ হয়েছে মাত্র ২৬ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। প্রকল্পের অগ্রগতি মাত্র ৯ দশমিক ১৩ শতাংশ। এ প্রকল্পের পার্কিং ইয়ার্ড, সড়ক ও ভূমি উন্নয়নের দরপত্র প্রক্রিয়া এখনো শেষ হয়নি।

হবিগঞ্জে বাল্লা স্থলবন্দর উন্নয়নে ২০১৭ সালে ৪৯ কোটি টাকার প্রকল্প নেওয়া হয়। ওই প্রকল্পের গুদামঘর, শেড, ওয়াচ টাওয়ারসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। এ ছাড়া অধিগ্রহণ করা জমি নিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে বিরোধ ছিল।

এ কারণে প্রকল্পটির জন্য বরাদ্দকৃত অর্থের মধ্যে খরচ হয়েছে মাত্র ৯ কোটি টাকা। ধানুয়াকামালপুর স্থলবন্দর প্রকল্পেরও একই অবস্থা। ১৯ কোটি টাকার প্রকল্পের অগ্রগতি মাত্র ২৬ শতাংশ। তবে বিলোনিয়া স্থলবন্দরের উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ কিছুটা এগিয়েছে। তৈরি হয়েছে ওজন মাপার যন্ত্র, ইয়ার্ডসহ প্রয়োজনীয় কিছু অবকাঠামো তৈরি হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের হার ৩৬ শতাংশ।

বাংলাদেশ আঞ্চলিক যোগাযোগ প্রকল্পের আওতায় সাতক্ষীরার ভোমরা, সিলেটের শেওলা, খাগড়াছড়ির রামগড় ও বেনাপোল স্থলবন্দর উন্নয়নেও অগ্রগতি নেই।

অর্থনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন