পরিসংখ্যান নিয়ে বর্তমান ও সাবেক দুই মন্ত্রীর তর্ক

প্রথম আলোকে নির্ভরযোগ্য সূত্র হিসেবে পেতে হলেএখানে ক্লিক করুন

পরিসংখ্যান কারসাজি নিয়ে তর্কে জড়িয়েছেন বর্তমান ও সাবেক দুই মন্ত্রী। তাঁদের একজন বর্তমান পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। অন্যজন বিএনপির সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। আজ বাজেট নিয়ে রাজধানীতে আয়োজিত এক সংলাপে তাঁরা এ বাহাসে জড়ান।

আরও পড়ুন

সংলাপে অংশ নিয়ে সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী অভিযোগ করেন, সরকার কারসাজি করে মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাড়িয়ে দেখাচ্ছে। জবাবে বর্তমান পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেছেন, পরিসংখ্যান কারসাজি করে পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল বা কর্ণফুলী টানেল নির্মাণ করা যায় না। আর দেশের মানুষের ঘরে ঘরে যে বিদ্যুৎ পৌঁছে গেছে বা মানুষের গড় আয়ু ৭০ পেরিয়ে গেছে, তা–ও পরিসংখ্যান কারসাজি করে অর্জন করা যায় না।

রাজধানীর লেকশোর হোটেলে আজ বৃহস্পতিবার ২০২২–২৩ অর্থবছরের ঘোষিত বাজেট নিয়ে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত সংলাপে পরিসংখ্যান নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দেন আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও এম এ মান্নান।

সংলাপে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী অভিযোগ করেন, সরকার পরিসংখ্যান নিয়ে ‘কারসাজি’ করছে। ২০০৭ সালে বিএনপি সরকার যখন ক্ষমতায় ছিল, তখন বিশ্বব্যাংকের হিসাবে দেশের পরিসংখ্যান নিয়ে স্কোর ছিল ৭০, এখন সেটা প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। সরকার কারসাজি করে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার বাড়িয়ে দেখাচ্ছে।

এ ছাড়া আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী সরকারের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, একটি ‘অনির্বাচিত’ সরকারের বাজেট নিয়ে প্রশ্ন তোলার অনেক অবকাশ আছে।

আমীর খসরু মাহমুদের বক্তব্যের পাল্টা জবাব দিতে গিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এম এ মান্নান বলেন, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী যে ‘অনির্বাচিত’ শব্দটি বললেন, তা ক্লিশে হয়ে গেছে। এই কথা শুনতে শুনতে জনগণের কান ঝালাপালা হওয়ার অবস্থা। বর্তমান সরকার অনির্বাচিত নয়, কার্যকর সরকার। এ সময় পরিকল্পনামন্ত্রী বিএনপিকে নেতিবাচক রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিএনপি যত দিন এসব নিয়ে আলোচনা করবে, তত দিন জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকবে।

যারা উন্নয়নে কোনো ভূমিকা পালন করছে না, বরং দেশ থেকে বিদেশে টাকা পাচার করছে, তাদের সেই টাকা দেশে ফিরিয়ে আনার যে সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, তা অনৈতিক।
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী

এদিকে, বাজেট নিয়ে আমীর খসরু মাহমুদ বলেন, সরকার ঠিক কোন ধরনের অর্থনৈতিক মডেল অনুসরণ করছে, সেটা বোধগম্য নয়। যারা উন্নয়নে কোনো ভূমিকা পালন করছে না, বরং দেশ থেকে বিদেশে টাকা পাচার করছে, তাদের সেই টাকা দেশে ফিরিয়ে আনার যে সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, তা অনৈতিক। যাঁরা দেশে থাকছেন, বিনিয়োগ করছেন বা কর্মসংস্থান তৈরি করছেন, তাঁরা ২৫% আয়কর দেন। আর যাঁরা দেশে বিনিয়োগ না করে বিদেশে টাকা পাচার করছেন, তাঁরা ৭ শতাংশ কর দিয়ে সেই টাকা বৈধ করার সুযোগ পাচ্ছেন।

নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য আলাদা সূচক করার প্রয়োজনীয়তা আছে। সেটি করা গেলে বোঝা যাবে, তাঁদের ওপর মূল্যস্ফীতির প্রভাব কতটা। তবে এটা সত্য, মূল্যস্ফীতির কারণে নিম্ন আয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এম এ মান্নান, পরিকল্পনামন্ত্রী

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, দেশে এখন সবচেয়ে বড় সমস্যা মূল্যস্ফীতি। অনেকে মূল্যস্ফীতির পরিসংখ্যান নিয়ে প্রশ্ন তুললেও তিনি তা স্বীকার না করে বলেন, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) অনেক বড় পরিসরে মূল্যস্ফীতির পরিসংখ্যান তৈরি করে। সব জায়গা থেকে তথ্য সংগ্রহ করে। মন্ত্রী বলেন, নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য আলাদা সূচক করার প্রয়োজনীয়তা আছে। সেটি করা গেলে বোঝা যাবে, তাঁদের ওপর মূল্যস্ফীতির প্রভাব কতটা। তবে এটা সত্য, মূল্যস্ফীতির কারণে নিম্ন আয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

সংলাপ অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন। আর মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংস্থাটির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা জাফরুল্লাহ চৌধুরী, জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সহকারী সাধারণ সম্পাদক রাজেকুজ্জামান প্রমুখ।