বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

তবে চলতি বছর টানা কয়েক মাস দেশে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ কমেছে। এতে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা অনেকটাই সত্যি প্রমাণিত হতে শুরু করেছে। চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের শুরু থেকেই প্রবাসী আয়ে ভাটার টান লক্ষ করা যাচ্ছে। জুলাই মাসে এসেছে ১৮৭ কোটি ১৫ লাখ ডলার। আগস্ট মাসে আসে ১৮১ কোটি ডলার, সেপ্টেম্বরে আসে ১৭২ কোটি ৬২ লাখ ডলার আর অক্টোবর মাসে আসে ১৬৪ কোটি ডলার। সব মিলিয়ে চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) ৭০৫ কোটি ৫০ লাখ (৭.০৫ বিলিয়ন) প্রবাসী আয় এসেছে দেশে। ২০২০-২১ অর্থবছরের একই সময়ে এসেছিল ৮৮১ কোটি ৫০ লাখ ডলার। এ হিসাবে এই চার মাসে প্রবাসী আয় কমেছে ২০ শতাংশ।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর মধ্যে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে শ্রমিক নেওয়ার হার কমে গেছে। ২০২১ সালের প্রথম প্রান্তিকে সৌদি আরব ১২ শতাংশ কম কর্ম ভিসা দিয়েছে। সেই একই সময়ে ওমানে বাংলাদেশি শ্রমিকদের ভিসা প্রাপ্তি কমেছে ১৫ শতাংশÑগত বছরের একই সময়ের তুলনায়। মালয়েশিয়ায় কয়েক বছর ধরেই চলছে ধরপাকড়। তার সঙ্গে আরও বড় শঙ্কার কারণ হলো, করোনার শুরুতে যে প্রবাসী শ্রমিকেরা দেশে ফিরে এসেছিলেন, তাঁদের মধ্যে প্রায় ৪০ হাজার শ্রমিক এখনো কর্মস্থলে ফিরে যেতে পারেননি। সবকিছুই মূলত নির্ভর করছে গ্রহীতা দেশগুলোর অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের ওপর, যা আবার নির্ভর করছে করোনাভাইরাসের প্রকোপের ওপর। শঙ্কার কথা হলো, ইউরোপে এখন করোনাভাইরাসের চতুর্থ ঢেউয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এরপর তা যদি মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে তা হবে অনেকটা মড়ার উপর খাঁড়ার ঘায়ের মতো। এটাই এখন বিশ্লেষকদের প্রধান শঙ্কা।

বাংলাদেশ থেকে মূলত অদক্ষ শ্রমিকেরা বিদেশে কাজ করতে যান। সে কারণে তাঁদের মজুরিও কম। প্রতিবেদনের তথ্যানুসারে, বর্তমানে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোতে বাংলাদেশি কায়িক শ্রমিকদের গড় মাসিক মজুরি ২০৩ ডলার। অথচ দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে পাকিস্তানি শ্রমিকদের মজুরি ২৭৬ ডলার, ভারতীয়দের ৩৯৬ ডলার, ফিলিপাইনের শ্রমিকদের ৫৬৪ ডলার ও চীনা শ্রমিকদের মজুরি ৫৩৩ ডলার। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের প্রবাসী আয় বৃদ্ধি করতে দক্ষ শ্রমিকদের বিদেশে পাঠানোর হার বাড়াতে হবে বলেই মনে করেন বিশ্লেষকেরা।

গত বছর প্রবাসী আয় বৃদ্ধির কারণ

কোভিডের মধ্যে গত বছর প্রবাসী আয় বৃদ্ধির কারণ হিসেবে কয়েকটি বিষয় চিহ্নিত করেছেন বিশ্লেষকেরা। প্রথমত, যাঁরা এত দিন বিদেশে সঞ্চয় করেছেন, তাঁরা করোনা মহামারিতে উদ্ভূত অর্থনৈতিক মন্দায় চাকরি হারানোর কারণে সব সঞ্চিত অর্থ দেশে পাঠিয়েছেন। দ্বিতীয়ত, যাঁরা বিদেশে ব্যবসা-বাণিজ্যে ছিলেন (বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে), তাঁদের ব্যবসা করোনা মহামারিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাঁরা তাঁদের মূলধনের বাকি অংশ দেশে ফেরত পাঠাচ্ছেন।

তৃতীয়ত, যাঁরা হুন্ডির মাধ্যমে বা অন্যান্য অবৈধ উপায়ে অর্থ লেনদেন করতেন, তাঁরা করোনাকালে বাধ্য হয়ে আনুষ্ঠানিক চ্যানেলে লেনদেন করছেন। ফলে ব্যাংকিং মাধ্যমে রেমিট্যান্সের প্রবাহ বেড়েছে।

চতুর্থত, সরকারের ২ শতাংশ প্রবাসী আয় প্রণোদনায় উৎসাহিত হয়ে অনেকেই ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রবাসী আয় পাঠাচ্ছেন, যা না হলে তাঁরা হয়তো অনানুষ্ঠানিক চ্যানেলে অর্থ প্রেরণ করতেন।

তবে বিভিন্ন সময় বিশ্লেষকেরা বলছেন, গত বছর সামষ্টিক অর্থনীতিতে প্রবাসী আয় বৃদ্ধির ধারা থাকলেও ব্যষ্টিক পর্যায়ে তার প্রভাব পড়েনি, যার কারণ হিসেবে তাঁরা বলেছেন, যে টাকা আগে বৈধ ও অবৈধ উভয় মাধ্যমে আসত, সেই টাকা গত বছর কেবল বৈধ মাধ্যমেই এসেছে। সে জন্য সাধারণ শ্রমিকের পরিবারে তার তেমন একটা প্রভাব দেখা যায়নি; তবে যাঁরা ব্যবসা করেন, তাঁদের পরিবারের কথা আলাদা।

তবে নোম্যাডের এবারের প্রতিবেদনের তথ্যানুসারে, প্রবাসী আয়ের ধারা ভবিষ্যতে আরও কমবে বলেই শঙ্কা।

অর্থনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন