আহমদ কায়কাউস বলেন, ‘আমাদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বেড়েছে। একই সঙ্গে আমাদের উদ্যোক্তাদের দক্ষতা প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে।’ তিনি বলেন, এলডিসি–উত্তর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার পাশাপাশি দেশের প্লাস্টিক খাতের সার্বিক উন্নয়নে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণে একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করা যেতে পারে। পাশাপাশি এ খাতের উন্নয়নে শুল্কমুক্ত সুবিধা সম্প্রসারণ, প্রণোদনা, রপ্তানি পণ্যের জাহাজীকরণের মাশুল হ্রাস ও সম্ভাবনাময় দেশগুলোর সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের ওপর জোর দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান আহসান খান চৌধুরী বলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণে আমাদের আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। তবে নিজেদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে মনোযোগী হতে হবে। সেই সঙ্গে পণ্যের উৎপাদন ব্যয় হ্রাস, বিশেষ করে ইউরোপের দেশগুলোতে স্বল্প মূল্যে জাহাজীকরণ সম্ভব হলে প্লাস্টিক পণ্যের রপ্তানি আরও বাড়বে। এ ছাড়া প্লাস্টিকশিল্পের জন্য বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধা দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তৈরি পোশাক খাতের সাফল্যের মডেলের আলোকে প্লাস্টিকশিল্পে নীতি ও প্রণোদনা সহায়তা প্রদানে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান ঢাকা চেম্বারের সভাপতি রিজওয়ান রাহমান। তিনি বলেন, ‘আমাদের জিডিপিতে প্লাস্টিক খাতের অবদান দশমিক ৩৩ শতাংশ। এ খাতের মাধ্যমে দেশে প্রায় ১৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে।’

এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন বলেন, এলডিসির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমাদের রপ্তানি বৃদ্ধিতে পণ্যের বহুমুখীকরণের কোনো বিকল্প নেই। এ ক্ষেত্রে প্লাস্টিক খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কারণ, প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ১০০ কোটি ডলারের প্লাস্টিক পণ্য রপ্তানি হয় বছরে। এ খাতের বিকাশে নীতি সহায়তা, বিশ্বমানের পরীক্ষাগার স্থাপন, উৎপাদিত পণ্যের স্বত্ব, নতুন নতুন পণ্য উদ্ভাবন, দক্ষ মানবসম্পদ, এসএমইর সক্ষমতা বাড়ানো এবং রপ্তানি পণ্য জাহাজীকরণে বিদ্যমান শুল্ক হ্রাসের ওপর জোর দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সদস্য মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, প্লাস্টিক পণ্যের স্থানীয় চাহিদার প্রায় ৮০ শতাংশই দেশীয় কারখানাগুলো জোগান দিচ্ছে। প্লাস্টিক পণ্যের কাঁচামাল আমদানিতে জাহাজীকরণে শুল্ক কমানো ও বন্দরে পণ্য খালাস প্রক্রিয়া দ্রুততম করার প্রস্তাব করেন তিনি।