বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
খুচরা ও পাইকারি ব্যবসা খাতে নারীর অংশগ্রহণ খুবই কম। তা ছাড়া খুচরা ও পাইকারি দোকানগুলো পারিবারিক ব্যবসা হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে।
অতিন্দ্র ঘোষ, জরিপের পরামর্শক

মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির ভিত্তি বছর পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে জরিপের সমন্বয়ক জিয়াউদ্দীন আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, খুচরা ও পাইকারি বাজারের হালনাগাদ মূল্য সংযোজনের তথ্য বের করতে জরিপটি করা হয়েছে। ২০০৫-০৬ ভিত্তি বছর পরিবর্তন করে ২০১৫-১৬-কে ভিত্তি বছর করা হবে। তিনি বলেন, সেবা খাতের প্রধান অংশই হলো পাইকারি ও খুচরা খাত। জিডিপিতে এ খাতের অবদান, এ খাতে কর্মরত মানুষদের সংখ্যা বের করতে জরিপটি করা হয়েছে।

একটি পণ্য কিনে তার কোনো রূপান্তর না ঘটিয়ে ব্যবসায়ী যা বিক্রি করেন, তার ওপর জরিপটি পরিচালনা করা হয়েছে। সারা দেশে মোট ৪ হাজার ১৪২টি খুচরা ও পাইকারি দোকানের ওপর জরিপটি পরিচালনা করে বিবিএস। এর মধ্যে শহরের দোকান ছিল ২ হাজার ৩৪৩টি এবং গ্রামের দোকান ছিল ১ হাজার ৭৯৯টি। ২০১৯ সালজুড়ে জরিপটি পরিচালনা করা হয়েছিল। গত সপ্তাহে জরিপের ফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়।

জরিপের তথ্যানুযায়ী, সারা দেশে এখন খুচরা বিক্রির দোকান ৩৪ লাখ ৮৭ হাজার ২০৩টি ও পাইকারি দোকান ২ লাখ ৪২ হাজার ৭২৯টি। এর বাইরে মোটরযান, মোটরসাইকেল, অটোরিকশা, রিকশা রক্ষণাবেক্ষণের দোকান আছে ২ লাখ ১৬ হাজার ৭১৪টি। সব মিলিয়ে দোকান আছে ৩৯ লাখ ৪৬ হাজার ৬৪৬টি। আর খুচরা ও পাইকারি দোকানে মোট ৮৬ লাখ ২৭ হাজার ৯২০ জন কাজ করছেন। এর মধ্যে ৭৬ লাখের বেশি পূর্ণকালীন। বাকিরা খণ্ডকালীন কর্মী। এখানে পুরুষ কর্মী ৯৮ শতাংশ। বাকি ২ শতাংশ নারী। খুচরা ও পাইকারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে বছরে নিট মূল্য সংযোজন হয় ৪ লাখ ৭২ হাজার কোটি টাকা।

বিবিএসের কর্মকর্তারা বলছেন, তাঁরা পুরো জরিপটি করেছেন পরিচালন খরচ না ধরেই। কারণ, অনেক ব্যবসায়ী নিজেই দোকানের মালিক। তিনি কোনো বেতন নেন না। পরিচালন খরচ বাদ দিলেও ফাস্ট ফুডের ব্যবসায় সবচেয়ে বেশি লাভ।

জরিপের তথ্য বলছে, ফাস্ট ফুডের পরই বেশি লাভ হয় ইলেকট্রিক্যাল উপকরণ বিক্রিতে। সেখানে ১০০ টাকার কোনো উপকরণ বিক্রি করলে একজন ব্যবসায়ীর লাভ হয় ৬৫ টাকা। তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে খেলার উপকরণ। ফুটবল, ক্রিকেট বলসহ অন্যান্য উপকরণে ১০০ টাকায় মোট লাভ থাকে ৩৯ টাকা।

জরিপের পরামর্শক অতিন্দ্র ঘোষ প্রথম আলোকে বলেন, খুচরা ও পাইকারি ব্যবসা খাতে নারীর অংশগ্রহণ খুবই কম। তা ছাড়া খুচরা ও পাইকারি দোকানগুলো পারিবারিক ব্যবসা হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে। ফলে এখানে অবৈতনিক পারিবারিক কর্মী হিসেবে কাজ করেন অনেকে।

অর্থনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন