default-image

করোনা সংক্রমণ রোধে দেওয়া চলমান সর্বাত্মক লকডাউনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিল্পকারখানাগুলোয় উৎপাদন চলছে। ফটকে শ্রমিকদের শরীরের তাপমাত্রা মাপা, হাত ধোয়া ও জুতা জীবাণুমুক্ত করার ব্যবস্থা রেখেছে তৈরি পোশাক কারখানাগুলো। কিন্তু সকালে ও বিকেলে হাজার হাজার শ্রমিক একসঙ্গে রাস্তায় নামায় সামাজিক দূরত্ব বজায় থাকছে না। সকালে পরিবহনসংকটের কারণেও কারখানায় আসার ক্ষেত্রে অনেক শ্রমিক বিড়ম্বনায় পড়েন।

কারখানা খোলার দাবি নিয়ে মালিকেরা যখন সরকারের কাছে গিয়েছিলেন, তখন তাঁরা দূরের কর্মীদের নিজস্ব পরিবহনে আনা–নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন। সরকারের প্রজ্ঞাপনেও বিষয়টি ছিল। তারপরও কোনো কারখানার মালিক সেই নির্দেশনা মানেননি।
শ্রমিকনেতা বাবুল আখতার

নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরের একাধিক এলাকা ঘুরে গতকাল বৃহস্পতিবার এ চিত্র দেখা গেছে। যদিও কারখানায় কর্মীদের আসা–যাওয়ার জন্য কারখানাগুলোকে নিজস্ব পরিবহন নিশ্চিত করতে সরকার নির্দেশনা দিয়েছিল। সেটি কার্যকর হয়নি। আবার কারখানার ফটকে ভিড় এড়াতে বিভিন্ন বিভাগের শ্রমিকদের ভিন্ন ভিন্ন সময়ে প্রবেশের নির্দেশনা দিয়েছিল তৈরি পোশাকশিল্পমালিকদের দুটি সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ। কিন্তু অধিকাংশ কারখানাই নির্দেশনাটি মানছে না।

জানতে চাইলে শ্রমিকনেতা বাবুল আখতার বলেন, কারখানা খোলার দাবি নিয়ে মালিকেরা যখন সরকারের কাছে গিয়েছিলেন, তখন তাঁরা দূরের কর্মীদের নিজস্ব পরিবহনে আনা–নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন। সরকারের প্রজ্ঞাপনেও বিষয়টি ছিল। তারপরও কোনো কারখানার মালিক সেই নির্দেশনা মানেননি। সে কারণে শ্রমিকেরা অবর্ণনীয় দুর্ভোগে পড়েছেন। এতে করে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকিও বেড়েছে। প্রতিটি কারখানার ১০-২০ শতাংশ শ্রমিক দূরদূরান্ত থেকে গণপরিবহনে কর্মস্থলে আসেন।

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে তৈরি পোশাকশিল্পমালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সহসভাপতি শহীদউল্লাহ আজিম প্রথম আলোকে বলেন, ‘কারখানার বাইরে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা ও পরিবহনসংকট দূর করার বিষয়ে আমরা আলোচনা করব।’ তিনি আরও বলেন, ‘কারখানাগুলো স্বাস্থ্যবিধি মানছে কি না, সেটি তদারক করছে আমাদের ১০টি দল। কাল (আজ) থেকে প্রতিবেদন পাওয়া যাবে। তবে এখনো বড় ধরনের ত্রুটিবিচ্যুতির তথ্য পাওয়া যায়নি।’

এদিকে প্রথম আলোর নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, গতকাল সকালে হেঁটে ও অটোরিকশায় চড়ে সদর উপজেলার পঞ্চবটী বিসিক শিল্পনগরে পোশাকশ্রমিকেরা কাজে যোগ দেন। এই শিল্পনগরে কয়েক লাখ শ্রমিক কাজ করেন। একসঙ্গে হাজার হাজার শ্রমিকের ঢল নামায় স্বাস্থ্যবিধি মানা যাচ্ছে না।

মুসলিমনগর এলাকা থেকে বিসিকের ফেইম অ্যাপারেলস নামের কারখানায় কাজ করতে আসা লাভলী রানী জানান, তাঁর স্বামী ঝালমুড়ি বিক্রেতা। করোনায় স্বামীর ব্যবসা বন্ধ। ছেলে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ে। তাই লাভলী বলেন, বাঁচার জন্য করোনার মধ্যেও কাজ করতে হবে।

হাফিজা আক্তার নামের আরেক শ্রমিক জানালেন, তাঁরা পাঁচ–ছয়জন মিলে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় চড়ে কারখানায় এসেছেন। অনেক মানুষের কারণে গাদাগাদি হয়। ফলে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা খুবই কঠিন।

জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জের সিভিল সার্জন মোহাম্মদ ইমতিয়াজ বলেন, পোশাক কারখানায় স্বাস্থ্যবিধি মেন চলার পরিস্থিতি ভালো। তবে কারখানায় কাজে যোগ দেওয়া ও ছুটি শেষে যাওয়ার সময়ে শ্রমিকদের গাদাগাদি হচ্ছে। যেখানে ভিড় বেশি হয়, সেখানে সংক্রমণ বেশি হবে। তাই ভিড় এড়াতে আগে–পরে কারখানা খুলতে ও ছুটি দিতে হবে।

আমাদের গাজীপুর প্রতিনিধি জানান, অধিকাংশ কারখানায় সকালে শ্রমিক পৌঁছানোর পরে প্রত্যেকে সামাজিক দূরত্ব মেনে ও মাস্ক পরা নিশ্চিত করে ফটকের সামনে যান। তারপর জুতায় জীবাণুনাশক লাগিয়ে নিরাপত্তাকর্মীর সহায়তায় শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষা করে তবেই কারখানার ভেতরে প্রবেশ করানো হয় শ্রমিকদের। ভেতরে গিয়ে অস্থায়ী বেসিনে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে কাজে যান তাঁরা।

কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রার ডিভাইন টেক্সটাইলের শ্রমিক জসিম উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের আগে থেকেই মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক ছিল। এবারের লকডাউনের আগে কারখানার মূল ফটকে জীবণুনাশক স্প্রে ব্যবহার করা হচ্ছে। হাত ধোয়ার জন্য সাবান–বেসিন দেওয়া হয়েছে।’

শিল্পপুলিশ জানায়, গাজীপুরে এক হাজারের বেশি তৈরি পোশাক কারখানা রয়েছে। চান্দনা চৌরাস্তা, জয়দেবপুর, টঙ্গী, পোড়াবাড়ি, সালনাসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় গড়ে ওঠা এসব কারখানায় স্বাস্থ্যবিধি মানার চেষ্টা আছে। তবে নিজস্ব পরিবহনব্যবস্থায় শ্রমিকদের আনা–নেওয়ার বিষয়টি উপেক্ষিত রয়েছে। গণপরিবহন বন্ধ থাকায় দূরের শ্রমিকেরা রিকশা ও অটোরিকশায় চেপে অথবা হেঁটে কারখানায় আসছেন।

বিজ্ঞাপন
অর্থনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন