বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

রাজধানীর ধানমন্ডিতে নিজস্ব কার্যালয়ে ‘বাংলাদেশ অর্থনীতি ২০২১-২২: প্রথম অন্তর্বর্তীকালীন পর্যালোচনায়’ মূল প্রবন্ধ তুলে ধরেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন সংস্থাটির বিশেষ ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান, গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম ও সিনিয়র রিসার্চ ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খান।

বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ছে। কিন্তু সরকারি সংস্থা বিবিএসের তথ্যে দাম বাড়ার কোনো প্রতিফলন নেই।
ফাহমিদা খাতুন নির্বাহী পরিচালক, সিপিডি

চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসের অর্থনৈতিক অগ্রগতি পর্যালোচনা প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সিপিডি আরও বলেছে, সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনার উৎসগুলো সংকুচিত হয়ে আসছে। প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতাও সংকুচিত হয়ে আসছে। কঠিন হয়ে উঠছে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য অর্জন। বিদেশ থেকে যা ঋণ মিলছে, তা চলে যাচ্ছে প্রকল্পের পেছনে। বাজেট সহায়তার জন্য টাকা মিলছে না।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছরের অক্টোবর পর্যন্ত রাজস্ব আদায়ের হার ভালো। তবে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে অন্তত ৩০ শতাংশ হারে আদায় করতে হবে এনবিআরকে, যা আদায় করা কঠিন। ব্যক্তিগত ঋণপ্রবাহের কিছুটা উন্নতি হলেও লক্ষ্যমাত্রা অনেক ওপরে। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে সরকারি টাকা খরচ হলেও বিদেশিদের ঋণ কাঙ্ক্ষিত হারে খরচ হচ্ছে না। সবচেয়ে দুঃখজনক হলো, চার মাসে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এডিপি বাস্তবায়নের হার মাত্র ৬ শতাংশ।

শেয়ারবাজার সম্পর্কে সিপিডির বক্তব্য হলো, পুঁজিবাজার নিয়ে নতুন প্রশাসন বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। কিন্তু তা পর্যাপ্ত নয়। পুঁজিবাজারে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে। কয়েকটি রোড শো করে বিনিয়োগকারীদের মনে আত্মবিশ্বাস আনা যাবে না। সিপিডি বলেছে, পুঁজিবাজারে বড় বড় খেলোয়াড় আছেন, যাঁরা বাজারকে প্রভাবিত করছে।

সিপিডির প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরকারঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় ৮৭ শতাংশ ছিল ব্যাংক ঋণনির্ভর। বড় উদ্যোক্তারা এ ঋণ পেয়েছেন। নীতিতে দুর্বলতা থাকায় ছোটরা ঋণ পাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন কম। প্রতিবেদনের বড় একটি অংশ ছিল নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার অস্থির হওয়া নিয়ে। সংস্থাটি বলছে, সুশাসনের অভাবের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি এবং প্রণোদনার টাকা বাজারে আসাও মূল্যস্ফীতি বাড়ার কারণ।

এ নিয়ে ফাহমিদা খাতুন বলেন, বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ছে। কিন্তু সরকারি সংস্থা বিবিএসের তথ্যে দাম বাড়ার কোনো প্রতিফলন নেই। কারণ হতে পারে, বিবিএস যেসব পণ্যের ওপর ভিত্তি করে ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) করে থাকে, সেটি অনেক পুরোনো। অথচ সাম্প্রতিক সময়ে মানুষের ভোগে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। তাই সময় এসেছে, ভোক্তা মূল্যসূচক করার জন্য নতুন পণ্যের বাস্কেট করতে হবে। কারণ, বাজারে বর্তমানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামের সঙ্গে বিবিএসের তথ্যে বেশ ফারাক দেখা যাচ্ছে। বাজার নিয়ন্ত্রণে প্রতিযোগিতা কমিশনকে আরও শক্তিশালী করারও প্রস্তাব দেন ফাহমিদা খাতুন।

মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে সারের দাম অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে। ভবিষ্যতে সারের পেছনে সরকারের ভর্তুকি বাড়তে পারে। গ্যাসের দামও বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে। এমন বাস্তবতায় প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। সেটি করতে না পারলে নতুন বছরে অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়বে। সরকারঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজের টাকা ফেরত পাওয়াও কঠিন হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

চালের চাহিদা ও সরবরাহ নিয়ে খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, কতিপয় গোষ্ঠী চালের বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। কিন্তু বাজার নিয়ন্ত্রণে নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থাগুলোর কার্যক্রম দেখা যাচ্ছে না। করোনা–পরবর্তী সময়ে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার টেকসই হচ্ছে না। টেকসই না হওয়ার কারণ হলো, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার অস্থির। বিশেষ করে খাদ্যপণ্যের।

অর্থনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন