বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সভায় এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক প্রীতি চক্রবর্তী বলেন, ‘করোনার ১৮ মাসে আমাদের ব্যবসায় অনেক খারাপ সময় গেছে। প্রণোদনা তহবিল থেকে যে ঋণ পাওয়া গেছে, সেই ঋণে ৩ বছর গ্রেস পিরিয়ড দিয়ে ১০-১৫ বছরে কিস্তিতে শোধ করার সুযোগ দিলে ভালো হয়।’

এর জবাবে ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হুমায়রা আজম বলেন, ‘আপনারা ঋণ পরিশোধে দীর্ঘমেয়াদি সময় চাইছেন। অথচ প্রণোদনার ঋণের মেয়াদ এক বছর। ঋণ পরিশোধে বাড়তি সময় চাইছেন, কিন্তু আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিতে বাড়তি সময় চাওয়া কি সম্ভব?’

রূপালী ব্যাংকের এমডি ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ বলেন, খেলাপি ঋণ আদায় নিয়ে এমন একটা সভার আয়োজন করতে পারে এফবিসিসিআই। এতে সব ব্যাংকের খুব উপকার হবে।

ম্যাক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, সময় এসেছে যাঁরা খারাপ গ্রাহক, তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর। তাঁদের সহায়তা করে ভালো গ্রাহকে পরিণত করার এখনই সময়। এ সময়ে ব্যাংকগুলো যদি মুনাফার চিন্তা করে, তাহলে চলবে না। এখন সময় টিকে থাকার, মুনাফা করার নয়।

default-image

অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান ও ইস্টার্ণ ব্যাংকের এমডি আলী রেজা ইফতেখার বলেন, প্রণোদনা ঋণ, কোনো অনুদান নয়। ঋণের টাকা সঠিক সময়ে ফেরত আনা ব্যাংকের দায়িত্ব। টাকা আদায় নিয়ন্ত্রণ সংস্থারও দায়িত্ব নয়। তাই ব্যাংকগুলো যাচাই-বাছাই করে ঋণ দিচ্ছে। খেলাপি ঋণ পুরো খাতকে ক্ষতিতে ফলেছে। ঋণ খারাপ হলে তা আদায় করতে ১০ বছর সময় লেগে যাচ্ছে। আমানতকারীদের থেকে তো টাকা ফেরত দিতে ১০ বছর সময় নেওয়া যাচ্ছে না। এ সময় খেলাপি ঋণ আদায়ে এফবিসিসিআইয়ের সহযোগিতা চান আলী রেজা ইফতেখার।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি জসিম উদ্দিন। স্বাগত বক্তব্যে তিনি বলেন, শিল্পকারখানার জন্য ১৫ বছর মেয়াদি ঋণ দরকার। কিন্তু তা ব্যাংক থেকে পাওয়া যাচ্ছে না। নতুন করে ৩০ থেকে ৩৫টি সুতার মিল হচ্ছে। এসব ঋণের মেয়াদ দীর্ঘমেয়াদি না হলে সব খেলাপি হয়ে পড়বে।

এফবিসিসিআই সভাপতি আরও বলেন, ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের সঙ্গে নেই এফবিসিসিআই। প্রয়োজনে তাদের থেকে ঋণ আদায়ে ব্যাংকারদের সহায়তা করা হবে।

সভায় এবিবির সেক্রেটারি ও সিটি ব্যাংকের এমডি মাসরুর আরেফিন বলেন, ব্যাংকের যে মুনাফা পত্রিকায় আসে, তা প্রকৃত নয়। এর থেকে কর ও প্রভিশন বাদ দিতে হয়। আর ব্যাংক মুনাফা করতে না পারলে ঋণ দিতে পারবে না। ব্যাংক ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে।

মাসরুর আরেফিন বলেন, যে দেশে সব ঋণের সুদহার এক, সেখানে ঋণের প্রবৃদ্ধি কম হওয়ার এটাও একটি কারণ। ঋণের খরচের ওপর নির্ভর করে সুদ ঠিক করা প্রয়োজন। এখন যেভাবে বিভিন্ন সেবা মাশুল নির্ধারণ করে দেওয়া হচ্ছে, তাতে ব্যাংক খাতের আয় ১২ থেকে ১৩ শতাংশ কমে আসবে।

সভায় ৩২টি দেশি–বিদেশি ব্যাংকের এমডি উপস্থিত ছিলেন। এফবিসিসিআইয়ের নেতাদের পাশাপাশি ব্যবসায়ীরাও উপস্থিত ছিলেন।

অর্থনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন