বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

দেশের একাধিক ব্যবসায়ী প্রথম আলোকে জানান, বিশ্বব্যাংকের ওই প্রতিবেদন বন্ধ ঘোষণার ফলে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগে (এফডিআই) নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। দেশের বাইরে বিনিয়োগ চলে যাওয়ার প্রবণতা বাড়বে। একই সঙ্গে ব্যবসায়ীদের হয়রানি বাড়বে।

জানতে চাইলে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, একটি দেশ তার দেশের ব্যবসার অবস্থান কী, এ প্রতিবেদনের মাধ্যমে তা বুঝতে পারত। বিশ্বব্যাংক ওই প্রতিবেদন প্রকাশ বন্ধ করে দেওয়ায় এখন ব্যবসা সহজ করার তেমন তাগিদ থাকবে না।

বিশ্বব্যাংকের ডুয়িং বিজনেস প্রতিবেদন বন্ধ হলেও আমাদের সংস্কারকাজ অব্যাহত থাকবে। সরকার গঠিত কমিটিগুলোর বৈঠকও নিয়মিত হবে।
জীবন কৃষ্ণ সাহা, পরিচালক, বিডা

বিশ্বব্যাংকের ব্যবসা সহজীকরণ সূচকে বাংলাদেশকে দুই অঙ্কের ঘরে, অর্থাৎ ১০০-এর নিচে নামিয়ে আনার কথা ঘোষণা রয়েছে সরকারের। বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৯০ দেশের মধ্যে ১৬৮তম। এই সূচকে উন্নতি করতে সরকার কয়েক বছর আগে অর্থমন্ত্রীকে সভাপতি করে ন্যাশনাল কমিটি ফর মনিটরিং ইমপ্লিমেন্টেশন অব ডুয়িং বিজনেস রিফর্মস (এনসিএমআইডি) গঠন করেছিল। এ ছাড়া মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিবকে প্রধান করে জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি গঠন করেছিল। উদ্দেশ্য ছিল, কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে তদারক করা, যাতে ডুয়িং বিজনেসে উন্নতি ঘটে। তিন মাস পরপর এই কমিটির বৈঠকে সচিবেরা সংস্কার কার্যক্রমের হালনাগাদ তথ্য জানাতেন।

ব্যবসায়ীদের ওয়ান-স্টপ সার্ভিস বা এক দরজায় সব সেবা দেওয়ার লক্ষ্যে এখন পর্যন্ত ১৬টি সরকারি দপ্তরের সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছে। ৫১টি সেবা দিতে চুক্তিগুলো করা হয়। এখন এসব কাজে ভাটা পড়তে পারে বলে আশঙ্কা ব্যবসায়ীদের।

জানতে চাইলে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সাবেক সভাপতি আবুল কাশেম খান বলেন, বাংলাদেশে ব্যবসা করার ক্ষেত্রে নানামুখী বাধা রয়েছে। বিশ্বব্যাংকের পরিবর্তে সরকার নিজেও যদি জরিপ করে, তাতেও ব্যবসায়ীদের হয়রানি এবং ভোগান্তির চিত্রই
উঠে আসবে। তিনি বলেন, ‘বিশ্বব্যাংকের ডুয়িং বিজনেস প্রতিবেদন বন্ধ হলেও আমরা আশা করি, সরকারের সংস্কারকাজ অব্যাহত থাকবে। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। কিন্তু বাস্তবতা হলো, সংস্কারকাজ হচ্ছে খুবই শ্লথ গতিতে। এখন এ কাজে আরও ছন্দপতন ঘটবে।’

বিডার তথ্য অনুযায়ী, ডুয়িং বিজনেস সূচকে উন্নতি করতে শিল্পকারখানায় বিদ্যুৎ-সংযোগ দেওয়ার সময় কমেছে। কোম্পানি টু কোম্পানি ভূমি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে জমির দলিল পাওয়ার সময় ১৮০ দিনের পরিবর্তে ৭ দিন করা হয়েছে। নামজারির সময় ঢাকাতে ৫৩ দিন ও চট্টগ্রামে ৭৫ দিনের পরিবর্তে ৭ দিন করা হয়েছে। এক ব্যক্তির কোম্পানি গঠনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে ডুয়িং বিজনেসে উন্নতি করার জন্য। সংশোধন করা হয়েছে কোম্পানি আইন। ভূমি ব্যবহারের ছাড়পত্র ৪৫ দিনের পরিবর্তে ৭ দিন করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রকল্পের ছাড়পত্র ১০৫ দিনের পরিবর্তে এক সপ্তাহ করা হয়েছে।

তবে এখনো বড় ধরনের সংস্কারকাজ চলমান। বিডার তথ্য বলছে, দেউলিয়া আইন সংশোধন ও সুরক্ষিত লেনদেন আইন প্রণয়ন হয়নি। এ রকম আরও অনেক সংস্কারকাজ বাস্তবায়িত হয়নি।

বিডার এক কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, বিশ্বব্যাংকের ডুয়িং বিজনেস প্রতিবেদন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখন আর কোথাও জবাবদিহি থাকল না। প্রতিবছর প্রতিবেদন প্রকাশের পর জানা যেত দুর্বলতা কোথায়। এখন আর তা জানা যাবে না। ওয়ান-স্টপ সার্ভিসে বড় ধরনের ধাক্কা আসতে পারে।

বিশ্বব্যাংকের এমন সিদ্ধান্তের পর এখন করণীয় কী হবে, তা ঠিক করতে বিডায় আলোচনা শুরু হয়েছে। সে ক্ষেত্রে সংস্কারকাজ অব্যাহত রাখতে বিডার কর্মপরিকল্পনার মধ্যে নতুন করে বেশ কিছু কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত করার আলোচনা চলছে।

বিডার পরিচালক জীবন কৃষ্ণ সাহা বলেন, ‘বিশ্বব্যাংকের ডুয়িং বিজনেস প্রতিবেদন বন্ধ হলেও আমাদের সংস্কারকাজ অব্যাহত থাকবে। সরকার গঠিত কমিটিগুলোর বৈঠকও নিয়মিত হবে।’

অর্থনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন