বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সভাপতির পাশাপাশি বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন কমিটির সদস্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের যুগ্ম সচিব মৃত্যুঞ্জয় সাহা ও উপসচিব মোহাম্মদ এনামুল হক, অর্থ বিভাগের উপসচিব নারগিস মুরশিদা, বাংলাদেশ ব্যাংকের অফসাইট সুপারভিশন বিভাগের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) আনোয়ারুল ইসলাম, কৃষি ব্যাংকের ডিএমডি চানু গোপাল ঘোষ, রূপালী ব্যাংকের ডিএমডি শওকত আলী খান, বেসিক ব্যাংকের ডিএমডি নিরঞ্জন চন্দ্র দেবনাথ, সোনালী ব্যাংকের জিএম সুভাষ চন্দ্র দাস, জনতা ব্যাংকের সিএফও এ কে এম শরীয়ত উল্যাহ, অগ্রণী ব্যাংকের জিএম মনোয়ার হোসেন, বিডিবিএলের জিএম শফিকুল ইসলাম, কর্মসংস্থান ব্যাংকের জিএম গৌতম সাহা এবং বিএইচবিএফসির জিএম জসীম উদ্দীন।

জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংক শুধু রাষ্ট্র মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর জন্য ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে ‘উৎসাহ বোনাস প্রদান সম্পর্কিত নীতিমালা’ তৈরি করে। এ ব্যাপারে অভিন্ন কোনো নীতিমালা এখন পর্যন্ত নেই। বাংলাদেশ ব্যাংক ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের কাছে নীতিমালাটি পাঠালেও বিভাগটি তা ফেলে রেখেছে। সেই নীতিমালা পরিবর্তন, পরিবর্ধন ও সংশোধন করাই হচ্ছে কমিটির একমাত্র কার্যপরিধি।

চলতি বছরের ২০ জুন বাংলাদেশ ব্যাংক এ বিষয়ে একটি চিঠি পাঠিয়েছে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে। বলেছে, রাষ্ট্র মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর আর্থিক সচ্ছলতা এবং তারল্য অবস্থা সন্তোষজনক পর্যায়ে বিবেচিত হলে নিট মুনাফার ভিত্তিতে উৎসাহ বোনাস দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। এ ছাড়া বলা হয়েছে, খেলাপি ঋণ ও অন্যান্য সম্পদের বিপরীতে প্রয়োজনীয় সংস্থান সমন্বয়ের পর যথেষ্ট মুনাফা থাকলেই উৎসাহ বোনাস দেওয়া যাবে। কিন্তু বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে অভিন্ন কোনো নীতিমালার আওতায় উৎসাহ বোনাস দেওয়া হয় না।

কমিটির আহ্বায়ক এ বি এম রুহুল আজাদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘বৈঠক শেষ করার আগে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না। তবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে একই বিষয়ে আন্তর্জাতিক চর্চাগুলো আমরা বিবেচনা করব।’

লোকসানি সত্ত্বেও বোনাস

বাংলাদেশ ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগকে বলেছে, রাষ্ট্র মালিকানাধীন ছয় ব্যাংকের মধ্যে শুধু বিডিবিএল মুনাফা অর্জন করতে পেরেছে, অন্য ৫ ব্যাংকই লোকসানে এবং ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত লোকসানের পরিমাণ ১৯ হাজার ২৬৩ কোটি টাকা। বেসিক ব্যাংক ২০১৩ সালে লোকসানে যাওয়ার কারণে যে উৎসাহ বোনাস দেওয়া বন্ধ করেছে, এখনো বন্ধ।

কৃষি ব্যাংক ও রাকাব ক্রমাগত লোকসান করতে থাকায় ২০১৮-১৯ অর্থবছর থেকে প্রণোদনা (এক্সগ্রেসিয়া) দেওয়া বন্ধ রেখেছে। তবে সোনালী, অগ্রণী, জনতা ও রূপালী ব্যাংক ১৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকা লোকসান করা সত্ত্বেও ৪৩৭ কোটি টাকা উৎসাহ বোনাস দিয়েছে।

২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্তও একটি হিসাব দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বলেছে, সোনালী ও বিডিবিএল নিট মুনাফা অর্জন করতে পারলেও প্রভিশন ঘাটতি রেখে অগ্রণী এক হাজার ৩১৯ কোটি এবং রূপালী ৮২২ কোটি টাকা নিট মুনাফা অর্জন করেছে। জনতা লোকসান করেছে ৫ হাজার ৫৪ কোটি এবং বেসিক ৩৬৬ কোটি টাকা লোকসান করেছে। বিডিবিএল ছাড়া পাঁচ ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি ১৩ হাজার ৭০৫ কোটি টাকা। আবার ব্যাংক খাতের মোট খেলাপি ঋণ ৮৮ হাজার ২৮৩ কোটি টাকার ৪৮ শতাংশ অর্থাৎ ৪২ হাজার ২৭৩ কোটি টাকাই এই ছয় ব্যাংকের।

অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ শামস-উল-ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, নিয়ম নীতি অনুসরণ করেই আমরা চলতে চাই। দেখা যাক বৈঠক থেকে কী উঠে আসে। তবে এটাও ঠিক, ব্যাংকের পক্ষ থেকে অনেক সেবা দেওয়া হয় বিনা মূল্যে। এর পেছনে ব্যাংকের কর্মকর্তাদের অনেক শ্রম-ঘাম রয়েছে।'

বাংলাদেশ ব্যাংক এখন কী বলছে

রাষ্ট্র মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংক পরিচালিত হয় মুনাফা লাভের উদ্দেশে-এ কথা উল্লেখ করে কাঙ্ক্ষিত মুনাফা অর্জন, ব্যাংকের সার্বিক প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নে সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে অনুপ্রাণিত ও উৎসাহিত করতে উৎসাহ বোনাস দেওয়ার দরকার রয়েছে বলে মনে করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

২০০৭ সালে কোম্পানিতে রূপান্তরিত হওয়ার আগে লোকসানে থাকায় এক ধরনের প্রণোদনা দেওয়া হতো। কোম্পানি হওয়ার পর ব্যাংকগুলো মুনাফার ধারায় আসতে থাকলে উৎসাহ বোনাস দেওয়া শুরু হয়। এখন লোকসানে থাকলেও বোনাস দেওয়া আর বন্ধ হয়নি।

সচিবের কাছে লেখা চিঠিতে বাংলাদেশ ব্যাংক এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ভার সরকারের ওপর ছেড়ে দিয়েছে।

৮ বছর আগে কী বলেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে বাণিজ্যিক অডিট অধিদপ্তর, বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীদের সঙ্গে একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠক করে। সিদ্ধান্ত নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংককে তখন বিভাগটি জানিয়েছিল, বিকেবি, রাকাব, আইসিবি, বিএইচবিএফসি, কর্মসংস্থান, আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক উৎসাহ বোনাস দিতে চাইলে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অনুমোদন নিতে হবে।
আর রাষ্ট্র মালিকানাধীন ছয় ব্যাংক তা দিতে পারবে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন নিয়ে। তৎকালীন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের অনুমোদন নিয়েই সিদ্ধান্ত হয়। এরপরই নীতিমালা হয়। কিন্তু নীতিমালা অনুযায়ী কেউ উৎসাহ বোনাস দিচ্ছে কিনা, তা আর নজরদারির মধ্যে রাখা হয়নি।

অর্থনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন