বিদেশে বিনিয়োগের অনুমোদন পেয়েছে, এমন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭। এর মধ্যে ২০২০ সাল পর্যন্ত অনুমোদন পেয়েছে ১২ প্রতিষ্ঠান—মবিল যমুনা বাংলাদেশ, ইনসেপ্‌টা, ডিবিএল, স্কয়ার ফার্মা, স্পেকট্রাম ইঞ্জিনিয়ারিং, এএসএম মহিউদ্দিন মোনেম, আকিজ জুট, বেক্সিমকো ফার্মা, এসিআই হেলথকেয়ার, বিএসআরএম, সামিট পাওয়ার ও টেকআউট লিমিটেড। আর চলতি আগস্টে অনুমোদন পেয়েছে আরও পাঁচ কোম্পানি—এমবিএম গার্মেন্টস, রেনেটা, প্রাণ ফুডস, নাসা গ্রুপের এজে সুপার গার্মেন্টস ও ইনসেপ্‌টা ফার্মাসিউটিক্যালস। এর মধ্যে সর্বোচ্চ প্রায় ১৭০ কোটি টাকা বিনিয়োগের অনুমোদন পেয়েছে আকিজ জুট। তবে অনুমোদন পেলেও সবাই যে বিদেশে অর্থ নিয়ে গেছে, তা-ও নয়।

বিনিয়োগের জন্য দেশি উদ্যোক্তাদের পছন্দের তালিকায় থাকা শীর্ষ দেশগুলো হচ্ছে সিঙ্গাপুর, কেনিয়া, মালয়েশিয়া, ভারত, শ্রীলঙ্কা ও সৌদি আরব।

বিদেশে বিনিয়োগ করেছে, এমন একটি প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, বিদেশে সম্পদ ও বিনিয়োগ থাকাটা এখন সম্মানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরবর্তী প্রজন্ম পড়াশোনা ও পরিবারের জন্য বিদেশে থাকে। তারা দেশের চেয়ে বিদেশে ব্যবসা করতে বেশি আগ্রহী। এ জন্য একরকম বাধ্য হয়ে অনেকে বিদেশে ব্যবসা করতে যাচ্ছেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়া বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে বিদেশে অর্থ নেওয়ার সুযোগ নেই। অবশ্য একজন রপ্তানিকারক ব্যবসা বাড়াতে অন্য দেশে লিয়াজোঁ বা সাবসিডিয়ারি অফিস খোলা ও ব্যয় নির্বাহের জন্য বছরে ৩০ হাজার ডলার পর্যন্ত নিতে পারেন। সেটা রপ্তানি করা অর্থ থেকে। আর ঋণপত্র (এলসি) খুলে যেকোনো পরিমাণে বৈধ পণ্য আমদানি করা, ভ্রমণ কোটায় বছরে সর্বোচ্চ ১২ হাজার ডলার খরচ করা যায়। এ ছাড়া শিক্ষা, চিকিৎসাসহ সুনির্দিষ্ট কয়েকটি খাতে বৈধ উপায়ে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ নেওয়ার সুযোগ আছে।

২০১২ সাল পর্যন্ত বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান বিদেশে বিনিয়োগের আবেদন জানালেও তা নাকচ করে দেওয়া হয়। পরে ২০১৩ সাল থেকে বিশেষ বিবেচনায় অনুমোদন দেওয়া শুরু করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এদের মধ্যে বেশির ভাগই রপ্তানি করা আয় থেকে বিনিয়োগ করে, আবার দেশ থেকেও ডলার নেয় কেউ কেউ।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী অনুমোদন পাওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে মবিল যমুনা মিয়ানমারে ৪ লাখ ৪০ হাজার ডলার ও সিঙ্গাপুরে ১ লাখ মার্কিন ডলার; ডিবিএল গ্রুপ ইথিওপিয়ায় ৯৫ লাখ ডলার; স্কয়ার ফার্মা কেনিয়ায় ১ কোটি ডলার; আকিজ জুট মালয়েশিয়ায় ২ কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে। বেক্সিমকো ফার্মা সৌদি আরবের জুবাইল ফার্মায় (সাবেক বেক্সিমকো ফার্মা সৌদি আরব), মালয়েশিয়ার বায়োকেয়ার ম্যানুফ্যাকচারিং ও শ্রীলঙ্কায় বিনিয়োগের জন্য নতুন কোম্পানি খুলেছে বেক্সিমকো। যার নাম বেক্সিমকো ফার্মা সিলন। নতুন সেই কোম্পানিতে বিনিয়োগের অনুমোদন পেলেও এখনো কোনো অর্থ নেয়নি তারা। ওষুধের ব্যবসায় ৬০ লাখ ডলার বিনিয়োগের অনুমোদন পেয়েছিল বেক্সিমকো। বিএসআরএম কেনিয়ায় ৪৬ লাখ ডলার নেওয়ার অনুমোদন পেলেও নিয়েছে ২৭ হাজার ২০০ ডলার।

নতুন অনুমোদন পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে প্রাণ ফুডস ভারতের পিনাকল ফোরএস কোম্পানিতে ২০ লাখ ৬২ হাজার ৬৬৫ ডলার বিনিয়োগ করবে। প্রতি ডলারের বিনিময়মূল্য ৮৫ টাকা ধরে হিসাব করলে স্থানীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় নাড়ে ১৭ কোটি টাকায়। তারা বিনিয়োগ করছে খাদ্য উৎপাদন কারখানায়। নাসা গ্রুপের প্রতিষ্ঠান এজে সুপার গার্মেন্টস সৌদি আরবে সিটি অব ড্রিমস ফর ডেটস কোম্পানির খেজুরের ব্যবসায় ৫০ লাখ ডলার বা সাড়ে ৪২ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে। ইনসেপ্‌টা ফার্মা ১ লাখ ডলার বা ৮৫ লাখ টাকা বিনিয়োগ করবে যুক্তরাষ্ট্রের ইনসেপ্‌টা ফার্মা ইউএসএতে। এ ছাড়া এমবিএম গার্মেন্টস সিঙ্গাপুরের এমবিএম সিঙ্গাপুরে ও রেনেটা ফার্মা আয়ারল্যান্ডের রেনেটা ফার্মাতে এক লাখ ডলার করে বিনিয়োগের অনুমতি নিয়েছে।

এদিকে বিদেশে বিনিয়োগ করে প্রতিষ্ঠানগুলোর মুনাফা নাকি লোকসান হচ্ছে, সেই তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংকে নেই। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগের ওপর নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির কোনো তদারকিও নেই।

জানতে চাইলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিদেশে বিনিয়োগ করে দেশের একটি প্রতিষ্ঠান সামান্য কিছু মুনাফা এনেছে। এর বাইরে আর কেউ কিছু জানায়নি। তাই আমরা সরকারের সঙ্গে পরামর্শ করে যাচাই-বাছাই করে বিদেশে বিনিয়োগের অনুমোদন দিচ্ছি।’

অর্থনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন